Alexa রোনালদো নৈপুণ্যে রিয়ালের ডুয়োডেসিমা জয়

ঢাকা, রোববার   ১৭ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২ ১৪২৬,   ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

রোনালদো নৈপুণ্যে রিয়ালের ডুয়োডেসিমা জয়

 প্রকাশিত: ১২:৩৩ ৪ জুন ২০১৭  

লা ডুয়োডেসিমা! শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে স্টেডিয়ামের বাইরের বড় পর্দায় গ্যারেথ বেলের ছবিসহ ভেসে উঠলো লেখাটি। লেখাটির অর্থ চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালের ১২তম শিরোপা জয়। আর জয়টা এলো রিয়ালের স্বভাবসুলভ ভঙ্গীতে। কম্পিটিটিভ এবং হাইভোল্টেজ ম্যাচগুলাতে রিয়াল মাদ্রিদের ধারে কাছে কোনো টিম যেতে পারেনা। নিঃসন্দেহে তারা বিশ্বের সেরা টিম। ইউরোপের মিডিয়া তাদের `কিং অব ফাইনালস` বলে অবিহিত করে। তাইতো ফাইনালে রিয়াল মানেই শিরোপা। রোনালদোর জোড়া গোলে ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা ঘরে তুলে নিলো রিয়াল মাদ্রিদ। ফাইনালে জুভেন্টাসকে পাত্তা না দিয়ে ৪-১ গোলের সহজ জয় পেল লস ব্লাঙ্কোসরা। রিয়ালের হয়ে বাকি দুই গোল করেন ক্যাসিমোরো ও এ্যাসেনসিও। সেই সঙ্গে প্রথম কোচ হিসেবে টানা দুইবার শিরোপা জয় করলেন জিদান। কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে প্রথম দুই আসরেই ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট ক্লাবকে উপহার দিলেন তিনি। এই জয়ে ২০১৬-১৭ মৌসুমে ডাবলও জিতলো রিয়াল। ২০০৩ সালে জিদান একবার বলেছিলেন তিনি রিয়ালকে লা ডেসিমা, উনডেসিমা ও দুয়োডেসিমা জিততে চান। আর সেটা করে দেখালেন রিয়ালের সাবেক খেলোয়াড় ও বর্তমান কোচ। লা ডেসিমা জিতেছেন সহকারী কোচ হিসেবে, উনডেসিমা ও দুয়োডেসিমা জিতলেন পুরোদস্তর কোচ হিসেবে। সফল ম্যানেজার মানে হচ্ছে, যে জানে যে কোন পজিশনে তার টিমের কোন প্লেয়ারটা রিলাক্স আর ফ্লেক্সিবলি খেলতে পারবে।জিদান প্রথমে প্রতিপক্ষকে খেলতে দেয় তারপর তাদের ট্যাকটিক্স দেখে আবার নিজেদের ট্যাকটিক্স ঠিক করে। যাকে বলে ট্যাকটিক্যাল জিনিয়াস। শনিবার যারা প্রথমার্ধ পর্যন্ত খেলা দেখেছেন তাদের কাছে মনে হতে পারে, একেই বোধহয় ফাইনাল বলে। কিন্তু যারা পুরো ৯০ মিনিট খেলা দেখেছেন তাদের মনে হবে একপেশে এক ফাইনাল দেখলেন। খেলার শুরুটা ছিল দুর্দান্ত কিন্তু শেষটা হয়েছে একপেশে। মৌসুমের সেরা রক্ষনভাগের স্বীকৃতি পাওয়া দলকে যেন পাত্তাই দিল না চ্যাম্পিয়নস লিগের সবচেয়ে সফল দল। পুরো চ্যাম্পিয়নস লিগে জুভেন্টাস হজম করেছিল মাত্র ৩ গোল। আর ফাইনালেই হজম করলো চার গোল। কার্ডিফের মিলেনিয়াম স্টেডিয়ামে জুভেন্টাসের বিপক্ষে ফাইনালে ২০ মিনিটেই গোল করে রিয়াল মাদ্রিদকে এগিয়ে দেন সিআরসেভেন। দারুন এক শটে বুফনকে পরাস্ত করে জুভদের জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি। এর পর সমতা ফিরিয়েছিলেন মারিও মানজুকিচ। দ্বিতীয়ার্ধে কাসেমিরোর গোলে আবার এগিয়ে যাওয়ার পর রোনালদোর দ্বিতীয় গোলে দ্বাদশ শিরোপা জয় নিশ্চিত হয়ে যায় রিয়ালের। শেষ মুহূর্তে মার্কো আসেনসিওর গোলে বড় জয়ই তুলে নেয় রিয়াল। আর এই জোড়া গোলে ইতিহাসে দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গোল করার কৃতিত্ব গড়েন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। সেই সঙ্গে প্রথম দল হিসেবে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৫০০ গোলও হলো রিয়ালের। পাঁচটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে গোল করার একমাত্র কৃতিত্বটি রিয়াল মাদ্রিদেরই আরেক গ্রেট আলফ্রেডো ডি স্টেফানোর দখলে। আর্জেন্টাইন এই ফুটবলারের রেকর্ড আদৌ কেউ ভাঙতে পারবে কি না সন্দেহ। ১৯৫৬ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গোল করেন আলফ্রেডো ডি স্টেফানো। ২০০৮ সালে প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গোল করেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে, চেলসির বিপক্ষে। দারুণ এক হেডে গোলের সূচনা করেছিলেন তিনি। ৬ বছর পর অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে জয়ী ম্যাচে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করেন। এরপর গত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল খেললেও গোল করতে পারেননি সিআর সেভেন। তবে এবার ফাইনালে উঠেই গোল করলেন তিনি। রোনালদো এই আসরে ১২টি গোল করে বার্সেলোনার লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়ে গেলেন রোনালদো। এই নিয়ে টানা পাঁচবার চ্যাম্পিয়নস লিগের শীর্ষ গোলদাতা হলেন তিনি। সেই সাথে ক্লাব আর দেশ মিলিয়ে ৬০০টি গোলের মাইলফলকও স্পর্শ করলেন চার বারের বর্ষসেরা এই ফুটবলার। এই পরাজয়ে জুভদের কোচ অ্যাল্লেগ্রির আর ট্রেবল জেতা আর হলো না। ১৯৯৬ সালে শেষবারের মতো শিরোপা জেতার পর পাঁচবার ফাইনালে উঠে হারলো ইউভেন্তুস। জুভেন্টাসের এই পরাজয়ের পেছনে দ্বিতীয়ার্ধে মেজাজ হারিয়ে ফেলাও একটা কারন। তৃতীয় গোল হজম করার পর ৮৪ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদকার্ডে মাঠ ছাড়েন হুয়ান কুয়াদ্রাদো। তবে সবচেয়ে বড় হতাশাটা হয়তো ম্যাচ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়া বুফ্ফনের। তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠেও একবারও শিরোপার দেখা পেলেন না বর্ষীয়ান এই গোলরক্ষক। ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই