রোদেলার ছবি বুকে নিয়ে কাঁদছেন বাবা-মা

ঢাকা, শনিবার   ০৪ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২১ ১৪২৬,   ১০ শা'বান ১৪৪১

Akash

রোদেলার ছবি বুকে নিয়ে কাঁদছেন বাবা-মা

ফরিদপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:১৩ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ২২:১৪ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

স্বামী সোহানের সঙ্গে রোদেলা

স্বামী সোহানের সঙ্গে রোদেলা

ফরিদপুরে কলেজছাত্রী সাজিয়া আফরিন রোদেলা হত্যার তিন বছরেও গ্রেফতার হননি তার স্বামী সোহানুর রহমান সোহান। মেয়ের ছবি বুকে নিয়ে হত্যাকারীর বিচারের জন্য আজও কাঁদছেন বাবা-মা।

২০১৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি যৌতুকের বলি হন সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রোদেলা। নির্মম নির্যাতনের পর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন স্বামী সোহান, ননদ সুমি, শাশুড়ি আনোয়ারা।

নিহতের বাবা ফরিদপুর শহরের আলিপুরের শওকত হোসেন খান জানান, পুলিশের তদন্ত ও মরদেহের ভিসেরা রিপোর্টে প্রমাণিত হয়েছে যে, রোদেলাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তবু কেন আসামিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না? তিন বছর ধরে আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

তিনি আরো জানান, ২০১৭ সালের ১৩ জানুয়ারি গোয়ালচামট নতুন বাজারের মমিনুর রহমান সেন্টুর ছেলে প্রবাসী সোহানুর রহমান সোহানের সঙ্গে বিয়ে হয় রোদেলার। বিয়ের পর থেকেই ১০ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য তাকে উঠতে বসতে মানসিক নির্যাতন করা হতো। ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে স্বামী, শাশুড়ি, ননদ মিলে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করে রোদেলাকে। ওই ঘটনায় ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়েছে।

কোতোয়ালি থানার এসআই গাফফার জানান, মরদেহের ভিসেরা রিপোর্টে শ্বাসরোধে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে রোদেলার স্বামী সোহান, ননদ সুমি, শাশুড়ি আনোয়ারা, ভাসুর সুমন, ভাসুরের স্ত্রী রেখা, শ্বশুর সেন্টু, ননদের স্বামী হাফিজ, সোহানের মামাতো ভাই সাজিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এ মামলায় ১৭ জন সাক্ষী রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই সোহান পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি স্বপন কুমার পাল বলেন, প্রধান আসামি সোহানকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে। এরপর মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর