রোগীশূন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল

ঢাকা, রোববার   ০৫ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৩ ১৪২৬,   ১২ শা'বান ১৪৪১

Akash

রোগীশূন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১৫ ২৬ মার্চ ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস যেন মহামারি আকার ধারণ করেছে। আর এ ভাইরাসের কারণে শহর গ্রাম কিংবা নগর সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। মানুষের মধ্যে এতটাই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতেও আসছে না হাসপাতালগুলোতে। 

আর এর প্রভাব পড়েছে হবিগঞ্জ জেলা আধুনিক সদর  হাসপাতালেও। করোনা আতঙ্কে প্রায় রোগীশূন্য হয়ে পড়েছে হাসপাতালটি। এমতাবস্থায় ব্যস্ত সময় পার করছেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও দায়িত্বরত নার্সরা। 

সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে প্রতিটি ওয়ার্ডে আগে যেখানে ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী থাকত এখন সেখানে রয়েছে মাত্র ২ থেকে ৩ জন করে। অনেকেই আবার প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে যেতেও দেখা গেছে। এমতাবস্থায় ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে রোগী রয়েছে মাত্র ১৫ থেকে ২০ জন। 

২৫০ শয্যার এই জেলা সদর হাসপাতালটিতে গত কয়েকদিন ধরে ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২০/৩০ জন করে। আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে চিকিৎসা নিত প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন রোগী। এদের মধ্যে আবার অধিকাংশ রোগীই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েই বাড়ি চলে যাচ্ছেন।

চিকিৎসা নিতে আসা ইমান আলী নামে এক রোগী জানান, ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে ডাক্তার দেখিয়েই তিনি বাড়িতে চলে যাচ্ছেন। কারণ কোনো রোগীই করোনার ভয়ে এখন হাসপাতালে থাকতে চাচ্ছেন না। 

হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডের কর্তব্যরত নার্স শাহিদা আক্তার বলেন, করোনার ভয়ে রোগীরা ভর্তি হলেও হাসপাতাল থেকে বাড়ি চলে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার মহিলা ওয়ার্ডে মাত্র ২ জন রোগী রয়েছে। তবে সব সময় সেবা দিতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন। 

আসাবিক মেডিকেল অফিসার ডা. দেবাশীষ রায় বলেন, করোনা নিয়ে যেন সবার মধ্যেই এক আজানা আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তাই এখন ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে রোগী নেই বললেই চলে। পুরো হাসপাতালে মাত্র ১৫/২০ জন রোগী রয়েছে। তবে চিকিৎসা সেবা দিতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন। 

এদিকে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হবিগঞ্জে কোনো করোনা রোগী সনাক্ত হয়নি। তবে হোম কেয়ারেন্টাইনে রয়েছে ৭৭৫ জন। কোয়ারেন্টাইন শেষ হয়েছে তিন শ জনের। বিশেষ করে প্রবাসীদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে মাঠে কাজ করছে প্রশাসন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে