রোগীর মৃত্যুতে আইসিইউ-এইচডিইউ বন্ধ, কোয়ারেন্টাইনে চিকিৎসক

ঢাকা, সোমবার   ০৬ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৩ ১৪২৬,   ১২ শা'বান ১৪৪১

Akash

রোগীর মৃত্যুতে আইসিইউ-এইচডিইউ বন্ধ, কোয়ারেন্টাইনে চিকিৎসক

চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৫৭ ২৩ মার্চ ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ইনটেন্সিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) ও হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ) বন্ধ রেখেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কোয়ারেন্টাইনে চিকিৎসক চলে গেছেন।

জানা যায়, গত ১৯ মার্চ সকাল সাড়ে ৭টায় কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে নগরের জিইসি এলাকার ও.আর. নিজাম রোডের রয়েল হাসপাতালে ভর্তি হন ৩৬ বছর বয়সী বিবি মরিয়ম। ওইদিনই দিবাগত রাত ৩টার দিকে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এরপর থেকে হাসপাতালটির আইসিইউ-এইচডিইউ বন্ধ করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে সেই নারীকে চিকিৎসা-সেবা দেয়া চিকিৎসকও চলে গেছেন হোম কোয়ারেন্টাইনে। বিষয়টি সোমবার জানাজানি হলে এলাকাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে জানতে হাসপাতালটির পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী খানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।  

তবে ওই রোগী নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন বলে দাবি করেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপক নুরুল আমিন। তিনি বলেন, ১৯ মার্চ সকালে নিউমোনিয়াজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ওই নারী। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন রাতেই তিনি মারা যান। ভর্তির সময় তার মধ্যে অন্য কোনো লক্ষণও দেখা যায়নি।
    
আইসিইউ-এইচডিইউ বন্ধ কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইসিইউ-এইচডিইউ বন্ধ রাখা হয়নি। বাড়তি সতর্কতার অংশ হিসেবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। বাড়তি সতর্কতার অংশ হিসেবে সেই চিকিৎসকও নিজ থেকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা বিষয়টি জেলা সিভিল সার্জনকে অবহিত করেছি। এরমধ্যে সিএমপির একটি বিশেষ টিমও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারাও মৃত্যুর কারণ হিসেবে নিউমোনিয়াকে চিহ্নিত করেছেন।  

বিবি মরিয়মের স্বামী আনসার আলী বলেন, আমার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ বেড়ে গেলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন রাতেই তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা নিউমোনিয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে আমাদের জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ওই রোগীর কাশি ও শ্বাসকষ্ট ছিল। আমরা তার সমস্ত হিস্ট্রি পর্যালোচনা করে দেখলাম নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন। এছাড়া তার পরিবারের মধ্যে বিদেশফেরতও কাউকে পাওয়া যায়নি। তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন না।

এছাড়া চট্টগ্রামে ৮ মার্চ থেকে এই পর্যন্ত ইতালি, দুবাই, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ৯৭৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে বলেও জানান সিভিল সার্জন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম