Alexa রোগীর না সেবা প্রয়োজন হাসপাতালের

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৩ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৮ ১৪২৬,   ১৯ জ্বিলকদ ১৪৪০

নাটোর সদর হাসপাতাল

রোগীর না সেবা প্রয়োজন হাসপাতালের

এম.এম আরিফুল ইসলাম, নাটোর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:২৮ ১৫ জুন ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে নাটোর সদর হাসপাতাল। এ অবস্থায় রোগীর সেবা দূরের কথা চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে খোদ নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের। জেলার একমাত্র ভরসাস্থল সরকারি এই হাসপাতালের করুণ দশার সুযোগে গড়ে উঠেছে সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চলছে অসংখ্য ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক ও প্যাথলজি সেন্টার।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানা যায়, নাটোর সদর হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রয়োজনীয় শয্যা না থাকায় অধিকাংশ রোগীকে পাঠিয়ে দিতে হয় রাজশাহী। আর যারা থাকেন তাদের থাকতে হয় হাসপাতালের মেঝেতে। পাশাপাশি এতো রোগীর সঠিক চিকিৎসা দেয়ার মত চিকিৎসকও নেই এ হাসপাতালে। একশ শয্যার হাসপাতাল হিসাবে এখানে চিকিৎসক থাকার কথা ৩৫ জন। এর মধ্যে রয়েছেন ২১ জন।

এছাড়া হাসপাতালটিতে চিকিৎসকদের থাকার জন্য নেই কোনো আবাসিক ভবন। দীর্ঘদিন আগে নির্মিত জরাজীর্ণ ভবনে মানবেতর জীবনযাপন করছেন নার্সারা।

বর্তমানে হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজার রোগী আসলেও ভর্তি করা যায় মাত্র আড়াইশ রোগীকে। বেডের অভাবে অতিরিক্ত দেড়শ রোগী মেঝেতে থেকেই চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। বাকি রোগীরা ফিরে যান অথবা বেসরকারি মেডিকেলে চিকিৎসা নিয়ে থাকেন।

জানা যায়, হাসপাতালে রোগী আনা নেয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালককে সব সময় পাওয়া যায় না। হাসপাতালে নিয়মিত বিভিন্ন অপারেশন করা হয়। তবে সব চিকিৎসকই বিভিন্ন ক্লিনিকে চুক্তিভিত্তিক কাজ করেন। তবে মাঝে মধ্যে হাসপাতালের নার্স, ওয়ার্ডবয় ও কর্মচারিদের দৌরাত্ম্যে রোগীদের ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হতে হয়।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগী রহিদুল ইসলাম, রিতা দাস ও কবির উদ্দিন জানান, আন্তর্বিভাগের রোগীদের বেশিরভাগ ওষুধই কিনতে হয় বাইরে থেকে। হাসপাতালের কোনো বাথরুমই ব্যবহার উপযোগী নয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না রাখায় সেগুলো দুর্গন্ধের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

তবে হাসপাতাল আরএমও ডা : মাহাবুবুর রহমান বলেন, হাসপাতালে আড়াইশ রোগী ভর্তি থাকলেও ওষুধ দেয়া হয় একশ রোগীর হিসাবে। রোগীদের মোট ৬৮ প্রকার ওষুধ দেয়া হয় এই হাসপাতাল থেকে। বাকি ওষুধ দোকান থেকে কিনে নিতে হয়।

অন্যদিকে হাসপাতালে প্রতিদিন আড়াইশ রোগীর বিপরীতে মাত্র একশ রোগীর খাদ্য সরবরাহ করা হয়। বরাদ্দ না থাকায় রোগীদের মধ্যে খাবার ভাগ করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, হাসপাতালে মোট ৩৫ পদের বিপরীতে আছেন ২১ জন চিকিৎসক। নেই শিশু বিশেষজ্ঞ, অর্থো সার্জারি, জুনিয়র মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, এনেসথেসিয়া, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, মেডিকেল অফিসার। চার জন ইএমও’র মধ্যে আছেন ১ জন। নেই স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার ও হোমওপ্যাথিক মেডিকেল অফিসারও।

অন্যদিকে মঞ্জুরীকৃত তিন পুরুষ নার্স ও ৫২ জন নারী নার্সসহ মোট ৫৫ জনের সবাই আছেন। এছাড়া ২৫ জন তৃতীয় শেণির কর্মচারীদের মধ্যে ২১ জন আছেন। মঞ্জুরীকৃত ১৮০ জন ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারিদের মধ্যে শুন্য পদ ৩৮ জনের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৫০ শয্যার নাটোর সদর হাসপাতালটি ১৯৯৫ সালের মে মাসে ১০০ শয্যায় উন্নীত হয়ে নাটোর আধুনিক হাসপাতাল নাম নিয়ে যাত্রা শুরু করে। ২০১১ সালের ১১ ডিসেম্বর স্থানীয় কানাইখালি মাঠে আয়োজিত নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক হানিফ আলী শেখের স্বরণসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নতি করার ঘোষণা দেন। গত বছর থেকে স্বাস্থ্য অধদিপ্তররে প্রকৌশল বিভাগের প্রকৌশলীরা ২৫০ শয্যার উপযোগী ভবন নির্মাণের জন্য হাসপাতালের কাজ শুরু করেছেন।

হাসপাতালের আরএমও ডাঃ মাহাবুবুর রহমান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, সময়ের মধ্যেই ২৫০ শয্যার জন্য হাসপাতালের ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হবে। হাসপাতালে আগত রোগী, চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত হতদরিদ্র ও নিম্নবিত্তরা অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য এই সরকারি হাসপাতালে আসেন। জটিল রোগীরা সচরাচর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলে যান। আর যাদের সামর্থ আছে তারা ভারতে গিয়ে চিকিৎসা নেন।

সিভিল সার্জন ডা: আজিজুল ইসলাম ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসা সেবার মান ভাল। তবে রোগীর সংখ্যা বেশি এবং সেই তুলনায় জনবল কম থাকায় চিকিৎসকদের ইচ্ছা থাকা সত্বেও রোগীর চাহিদা অনুযায়ী সেবা দিতে পারেন না।

ডেইলি বাংলাদেশকে/এস