Alexa রোগীর কেবিনে ঘুমান নার্সরা!

ঢাকা, বুধবার   ২০ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৫ ১৪২৬,   ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

রোগীর কেবিনে ঘুমান নার্সরা!

আবদুল্লাহ আল-মামুন, ফেনী ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১০ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৬:১০ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ফেনী জেনারেল হাসাপাতাল

ফেনী জেনারেল হাসাপাতাল

ফেনী জেনারেল হাসাপাতালের ভিআইপি কেবিন দিনের পর দিন দখল করে রাখা হয়েছে। এতে প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

২৫০ শয্যা হাসপাতালের নতুন ও পুরাতন ভবন মিলে ২২টি কেবিন রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টিতে রয়েছে এয়ার কন্ডিশন। এসব ভিআইপি কেবিন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিদিন প্রতিটি কেবিনের ভাড়া আদায় করা হয় এক হাজার টাকা। আর ১৬টি সাধারণ কেবিন রয়েছে। যার প্রতিদিন ভাড়া আদায় হয় ৩৫০ টাকা হারে।

হাসপাতালের নতুন ভবনের চতুর্থ তলার উত্তর পাশে ৩০৪ নম্বর ভিআইপি কেবিনটি কয়েক মাস ধরে তালাবদ্ধ। ওয়ার্ড ইনচার্জ মোমেনা আক্তার, দিপালী রানী ও তাসলিমা আক্তার কেবিনটি ব্যবহার করেন।

১৬ সেপ্টেম্বর অসুস্থ মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করান ফেনী শহরের আলী আহম্মদ টাওয়ারের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম। চারদিন থাকার পরও তিনি কেবিন ভাড়া পাননি।

১৮ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হন সোনাগাজীর মজলিশপুর ইউপির ইমরান ভূঁইয়া। তিনিও ভিআইপি কেবিন পাননি। নার্সরা তাকে জানিয়েছেন, কোনো ভিআইপি কেবিন খালি নেই। তাই বাধ্য হয়ে তিনি সাধারণ কেবিনেই চিকিৎসাধীন।

সদর উপজেলার ধলিয়া ইউপির মো. আবদুল্লাহ তার বাবা মাওলানা নুর নবীকে হাসপাতালে আনেন। এখানে কেবিন ভাড়া নিতে চাইলে নার্সদের দুর্ব্যবহারের শিকার হন তিনি। কেবিনের জন্য একাধিকবার অনুরোধ করা হলে বেসরকারি হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। দুদিন মেঝেতে থাকার পর তাকে ঢাকায় নেয়া হয়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, এখানে প্রতিটি ওয়ার্ডের ইনচার্জরা কেবিন ভাড়া দেয়া ও টাকা আদায়ের দায়িত্ব পালন করেন। এর জন্য রেজিস্টারও রয়েছে। সরকারি চালানের মাধ্যমে কেবিনের ভাড়া আদায় করা হয়। যা ওয়ার্ড ইনচার্জরা নার্সিং সুপারভাইজারের কাছ থেকে স্বাক্ষর করে নেন। মাস শেষে আবাসিক মেডিকেল অফিসারের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে তা অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব খাতে জমা দেয়া হয়।

জুলাই মাসে জেনারেল হাসপাতাল থেকে কেবিন ভাড়া বাবদ আয় হয়েছে এক লাখ ৩৪ হাজার ৪৭৫ টাকা। আগস্ট মাসে আয় হয়েছে এক লাখ ছয় হাজার আটশ টাকা।

একাধিক রোগীর স্বজনরা জানান, কয়েক দিন রোগী নিয়ে হাসপাতালে আছেন তারা। মেঝেতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কেবিন তালাবদ্ধ।

হাসপাতালের আরএমও ডা. আবু তাহের পাটোয়ারী জানান, হাসপাতালের চারটি কেবিন ব্যবহার অনুপযোগী। সমস্যা থাকায় এগুলো ভাড়া দেয়া যাচ্ছে না। মাঝে মাঝে ভিআইপিদের জন্য কেবিন বরাদ্দ রাখা হয়। আবার বিভিন্ন খেলার সময় দুটি কেবিন বরাদ্দ দেয়া থাকে। এতে করে ওই সময় ভাড়া থেকে হাসপাতালের আয় কম হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর