Alexa রোগীদের টানা সেবায় ক্লান্ত চিকিৎসকরা কাঁদছেন

ঢাকা, সোমবার   ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ৪ ১৪২৬,   ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Akash

করোনাভাইরাস

রোগীদের টানা সেবায় ক্লান্ত চিকিৎসকরা কাঁদছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৫৫ ২৮ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৪:০৩ ২৮ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

করোনাভাইরাসের  বিরুদ্ধে নজিরবিহীন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছেন চীনের স্বাস্থ্যকর্মীরা। গত কয়েকদিনে কয়েক হাজার মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের দম ফেলারও সময় নেই। দেশটিতে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই। এখন পর্যন্ত ১০৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া নতুন করে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন আরো এক হাজার ৩০০ জন। ফলে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ১৯৩ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

এমন অবস্থায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে টানা কাজ করতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। একটু বিশ্রাম বা ঘুমের সময়ও পাচ্ছেন না তারা।

সম্প্রতি একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, টানা কাজের চাপ আর ক্লান্তিতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনেক চিকিৎসক। অনেকেই চিৎকার করছেন এবং কেঁদে যাচ্ছেন। ওই ভিডিও দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে, সেখানকার পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ।

চিকিৎসকদের ওই ভিডিও দেখলে যে কারো চোখে পানি চলে আসবে। এর আগে আরো একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছে, চিকিৎসকরা টয়লেটে যাওয়ার সময়ও পাচ্ছেন না। এত বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন যে, চিকিৎসকরা টয়লেটেও যেতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে প্রাপ্ত বয়স্কদের ডায়াপার পরেই চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

রোগীদের শরীর থেকে যেন এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য পুরো শরীর ঢাকা পোশাক এবং মাস্ক পরে চিকিৎসায় নিয়োজিত রয়েছেন হাসপাতালের কর্মীরা। এই পোশাক বার বার খোলাটাও বেশ কঠিন ও সময় সাপেক্ষ। এমন পরিস্থিতিতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বার বার পোশাক বদলাতে রাজি নন তারা।

এদিকে সামাজিক মাধ্যমে এক চীনা চিকিৎসক বলেন, আমরা জানি যে আমাদের এই সুরক্ষিত পোশাকটিই হয়েতো আমাদের কাছে সর্বশেষ। আমরা কোনো কিছুই নষ্ট করতে চাচ্ছি না।

একটি ভিডিওতে দেখা গেছে উহানের একটি হাসপাতালে এক নারী সাদা রংয়ের পোশাক পরে আছেন। এটি একটি মেডিকেল কোর্ট। তিনি চিৎকার করে কাঁদছেন আর বলছেন, আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না।

তার সহকর্মীরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করছেন কিন্তু কিছুতেই তার কান্না থামছে না। অপর এক ভিডিওতে এক চিকিৎসককে হতাশা প্রকাশ করতে দেখা গেছে। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় জিনিসের অভাব দেখা দেয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ওই হাসপাতালে রোগী এতো বেশি হয়ে গেছে যে, চিকিৎসা দেয়ার জন্য যে পরিমাণ শয্যা দরকার তা নেই।

ওই চিকিৎসককে বলতে শোনা যাচ্ছে যে, আমাদের আর চিকিৎসকের প্রয়োজন নেই। এখানে এরই মধ্যেই অনেক চিকিৎসক আছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যে পরিমাণ শয্যা দরকার তা নেই। তার সহকর্মীরা তাকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছিলেন কিন্তু তিনি কোনোভাবেই শান্ত হতে পারছিলেন না।

মূলত চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে গত বছরের ডিসেম্বরে প্রথম এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, নেপাল, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্রেও লোকজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে।

হুবেই প্রদেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে ২৪ জনের বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। সোমবার পর্যন্ত সেখানে এক হাজার ২৯১ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নতুন এ ভাইরাসের নাম দিয়েছে ২০১৯ নোভেল করোনাভাইরাস। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে চীনে সফর করেছেন এমন লোকজনের মাধ্যমেই এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। সে কারণে অনেক দেশই এই ভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে চীন সফরে নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা এনেছে।

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এ ভাইরাস বাড়ার কারণে হুবেই প্রদেশে এরই মধ্যেই সেনা মোতায়েন করেছে চীন। মাস্ক পরে সোমবারই কাজে লেগে গেছেন সেনা সদস্যরা। তারা সেখানে প্রয়োজনীয় জিনিস-পত্র সরবরাহ করছেন। সোমবার চীনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, চীন এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে এই ভাইরাস আরো শক্তিশালী হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে।

ভিডিওটি দেখুন:

সূত্র: দ্য ডেইলি সান

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ/টিআরএইচ