রেল দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশি রুহলের দাফন দিল্লিতে

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৯ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৭ ১৪২৬,   ১৬ শা'বান ১৪৪১

Akash

রেল দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশি রুহলের দাফন দিল্লিতে

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:১৪ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৮:১৫ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

রুহল আমিন। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রুহল আমিন। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ভারতের দিল্লি থেকে বাংলাদেশে ফেরার পথে রেল দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিক রুহল আমিনের দাফন দিল্লিতে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুরে তার দাফন হয়।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউপির আজোয়াটারী গ্রামের বাসিন্দা রুহল আমিন। তার বাবার নাম এরফান আলী। রুহল আমিন ও মালেকা বেগম দম্পতির দুই সন্তান। বড় ছেলে হাফিজিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী মাহফুজার রহমান মাসুদ ও ছোট ছেলে রমজান আলী বাড়িতে থাকেন।

জানা গেছে, নিহতের ৪৮ ঘণ্টা পর ভারতীয় পুলিশের তত্ত্বাবধানে রুহল আমিনের মরদেহ ময়নাতদন্ত করে দিল্লির হরিয়ানা জেলার মেহেন্দ্র নগর থানার একটি মুসলিম কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

নিহতের বাবা এরফান আলী বলেন, আমার ছেলে রুহল আমিন পাসপোর্ট ও ভিসা করে মেহেন্দ্র নগর থানার একটি ইটভাটার কাজ করতে যায়। সেখানে দুই মাস ১৮ দিন কাজ করে তিন মাসের ভিসার মেয়াদের মধ্যেই বাংলাদেশে ফেরার জন্য ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে মেহেন্দ্র নগর রেলস্টেশনে অবস্থান করে। 

এ রেলস্টেশন থেকে কোচবিহারগামী একটি রেলগাড়িতে দরজা দিয়ে ওঠার সময় হাত পিছলে রেল লাইনে পড়ে যান। রেলেকাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। আমরা পরিবারের লোকজন তার মরদেহ বাংলাদেশে আনার চেষ্টা করেও অর্থাভাবে পারিনি। 

নিহত রুহুল আমিনের স্ত্রী মালেকা বেগম বলেন, আমি স্বামীর মরদেহটি দেখতে পেলাম না। সংসারে একমাত্র উর্পাজনের মাধ্যম ছিল আমার স্বামী। তার মৃত্যুতে দুই সন্তাননের জীবনে অন্ধকার নেমে এসেছে। 

তিনি আরো জানান, নিহত রুহুল আমিন স্থানীয় আশা অফিসের ঋণ গ্রাহক ছিলেন। সেখান থেকে ৪০ হাজার টাকার ঋণ নিয়েছেন। এ ঋণ এখন কিভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। 

এদিকে দিল্লিতে রুহল আমিন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে কাশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলজার হোসেন মন্ডল বলেন, তিনি নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বৈধভাবেই তিনি ভারতে গিয়েছিলেন। নিহতের পরিবারকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর