রেকর্ড গড়লেন মুহিত

ঢাকা, শুক্রবার   ২৪ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪২৬,   ১৮ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

রেকর্ড গড়লেন মুহিত

 প্রকাশিত: ১৩:৩৬ ৭ জুন ২০১৮   আপডেট: ২০:১৫ ৭ জুন ২০১৮

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

টানা ১০টি বাজেট উত্থাপন করলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বৃহস্পতিবার ১২টা ৪০ মিনিটে বাজেট উত্থাপন শুরু করেন বর্ষীয়ান অর্থমন্ত্রী। তার টানা এ বাজেট উপস্থাপনের রেকর্ড এই উপমহাদেশে তো অবশ্যই, সম্ভবত বিশ্বের আর কোনো দেশে এমন নজির নেই।

‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে বাজেট উত্থাপন করছেন তিনি।

এবারের বাজেট নিয়ে তার দেয়া বাজেটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২টি। এবারের বাজেট উপস্থাপনের পর সাইফুর রহমানের রেকর্ডে ভাগ বসালেন আবুল মাল আবদুল মুহিত।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১০-২০১১ অর্থবছরে ১ লাখ ৩২ হাজার ১৭০ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। চলতি ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে তা দাঁড়াচ্ছে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকায়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটের কলেবর ৪লাখ ৬৪হাজার ৫৭৩কোটি টাকা।

বাজেট বক্তৃতা শুরুতে অর্থমন্ত্রী স্মরণ করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি  কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন আবুল মাল আবদুল মুহিত।

এর আগে টানা দশটি বাজেট উপস্থাপনের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালার কাছে হাজার শোকর। একই সঙ্গে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিকে সেবা করার যে সুযোগ করে দিয়েছেন তার জন্য তাকে অশেষ ধন্যবাদ। আমি চেষ্টা করেছি দেশ এবং জনগণের সেবা করতে। হয়তো অনেক ভুল-ত্রুটি রয়েছে। দেশবাসীকেও সার্বিক সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

১৯৭১ সালে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করে ১৬ ডিসেম্বরর দেশ স্বাধীন হয়। স্বাধীনতার পরেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং তার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। এরপর দেশে নয়জন অর্থমন্ত্রী ৪৬টি বাজেট দিয়েছেন। এবার নিয়ে জাতি ৪৭টি বাজেট পেতে যাচ্ছে।

১৯৭২ সালে জাতীয় সংসদে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ প্রথমটিসহ মোট তিনটি বাজেট ঘোষণা করেন। এর মধ্যে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর সামরিক সরকার এবং তাদের ছত্রছায়ায় বেশ কয়েকটি সরকার দেশ শাসন করেছে। এ সময় দেশে জাতীয় সংসদ সচল ছিল না। সামরিক সরকারগুলো অধ্যাদেশ আকারে বাজেট পেশ করে।

সরকারি তথ্য থেকে দেখা যায়, ১৯৭৫ সালে নির্বাচিত সরকারকে অবৈধভাবে উৎখাতের পর ১৯৭৫-১৯৭৬ অর্থবছর ড. আজিজুর রহমান অর্থমন্ত্রী হিসেবে বাজেট পেশ করেন। এরপর সামরিক শাসক মেজর জেনারেল পরবর্তীতে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান দুটি এবং তিনি হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আরো একবারসহ মোট তিনটি বাজেট পেশ করেন। ড. এম এন হুদা একবার বাজেট ঘোষণা করেন। এরপর ১৯৮০-১৯৮১ ও ১৯৮১-১৯৮২ অর্থবছরে পরপর দুই বার সাইফুর রহমান বাজেট পেশ করেন।

জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তার শাসনামলে ১৯৮২ সালে আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৯৮২-১৯৮৩ ও ১৯৮৩-১৯৮৪ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন। ১৯৮৪-১৯৮৫ অর্থবছর থেকে ১৯৮৭-১৯৮৮ অর্থবছর পর্যন্ত পরপর চার অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন এম সায়েদুজ্জামান। ১৯৮৮-১৯৮৯ এবং ১৯৯০-১৯৯১ অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মুনিম দুই বার বাজেট ঘোষণা করেন। এর মাঝে ১৯৮৯-১৯৯০ অর্থবছরে ড. ওয়াহিদুল হক বাজেট পেশ করেন।

১৯৯১ সালে সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদের পতনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রবর্তন হয়। ওই সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে এম সাইফুর রহমান আবার অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি ১৯৯১-১৯৯২ অর্থবছর থেকে ১৯৯৫-১৯৯৬ অর্থবছর পর্যন্ত মোট পাঁচটি বাজেট পেশ করেন।

মাগুরা নির্বাচন কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলনের মুখে বিএনপি সরকারের পতনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয় এবং এস এ এম এস কিবরিয়া অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তিনি ১৯৯৬-১৯৯৭ অর্থবছর থেকে ২০০১-২০০২ অর্থবছর পর্যন্ত টানা ছয়টি বাজেট পেশ করেন।

২০০১ এর নির্বাচনের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকার গঠন করে। এম সাইফুর রহমান অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে ২০০০-২০০১ অর্থবছর থেকে ২০০৬-২০০৭ অর্থবছর পর্যন্ত চারটি বাজেট পেশ করেন। বিরোধী দলের আন্দোলনের মুখে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়।

সামরিক বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। অর্থ উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়ে ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ২০০৭-২০০৮ ও ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন।

২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতা লাভ করলে অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান আবু মাল আবদুল মুহিত। তিনি ২০০৯-২০১০ অর্থবছর থেকে চলতি ২০১৭-২০১৮ অর্থবছর পর্যন্ত টানা নয়টি বাজেট পেশ করেন। বৃহস্পতিবার ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের এবং দেশের ৪৭তম বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বিভিন্ন অর্থবছরের বাজেটের আকার ও প্রস্তাবকারী অর্থমন্ত্রীদের নাম তুলে ধরা হলো-

১৯৭২-১৯৭৩ তাজউদ্দীন আহমদ ৭৮৬ কোটি টাকা

১৯৭৩-১৯৭৪ তাজউদ্দীন আহমদ ৯৯৫ কোটি টাকা

১৯৭৪-১৯৭৫ তাজউদ্দীন আহমদ ১০৮৪.৩৭ কোটি টাকা

১৯৭৫-১৯৭৬ ড. আজিজুর রহমান ১৫৪৯.১৯ কোটি টাকা

১৯৭৬-১৯৭৭ মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৮৯.৮৭ কোটি টাকা

১৯৭৭-১৯৭৮ লে. জেনারেল জিয়াউর রহমান ২১৮৪ কোটি টাকা

১৯৭৮-১৯৭৯ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ২৪৯৯ কোটি টাকা

১৯৭৯-১৯৮০ ড. এম এন হুদা ৩৩১৭ কোটি টাকা

১৯৮০-১৯৮১ এম সাইফুর রহমান ৪১০৮ কোটি টাকা

১৯৮১-১৯৮২ এম সাইফুর রহমান ৪৬৭৭ কোটি টাকা

১৯৮২-১৯৮৩ আবুল মাল আবদুল মুহিত ৪৭৩৮ কোটি টাকা

১৯৮৩-১৯৮৪ আবুল মাল আবদুল মুহিত ৫৮৯৬ কোটি টাকা

১৯৮৪-১৯৮৫ এম সায়েদুজ্জামান ৬৬৯৯ কোটি টাকা

১৯৮৫-১৯৮৬ এম সায়েদুজ্জামান ৭১৩৮ কোটি টাকা

১৯৮৬-১৯৮৭ এম সায়েদুজ্জামান ৮৫০৪ কোটি টাকা

১৯৮৭-১৯৮৮ এম সায়েদুজ্জামান ৮৫২৭ কোটি টাকা

১৯৮৮-১৯৮৯ মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত মুনিম ১০৫৬৫ কোটি টাকা

১৯৮৯-১৯৯০ ড. ওয়াহিদুল হক ১২৭০৩ কোটি টাকা

১৯৯০-১৯৯১ মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত মুনিম ১২৯৬০ কোটি টাকা

১৯৯১-১৯৯২ এম সাইফুর রহমান ১৫৫৮৪ কোটি টাকা

১৯৯২-১৯৯৩ এম সাইফুর রহমান ১৭৬০৭ কোটি টাকা

১৯৯৩-১৯৯৪ এম সাইফুর রহমান ১৯০৫০ কোটি টাকা

১৯৯৪-১৯৯৫ এম সাইফুর রহমান ২০৯৪৮ কোটি টাকা

১৯৯৫-১৯৯৬ এম সাইফুর রহমান ২৩১৭০ কোটি টাকা

১৯৯৬-১৯৯৭ এসএএমএস কিবরিয়া ২৪৬০৩ কোটি টাকা

১৯৯৭-১৯৯৮ এসএএমএস কিবরিয়া ২৭৭৮৬ কোটি টাকা

১৯৯৮-১৯৯৯ এসএএমএস কিবরিয়া ২৯৫৩৭ কোটি টাকা

১৯৯৯-২০০০ এসএএমএস কিবরিয়া ৩৪২৫২ কোটি টাকা

২০০০-২০০১ এসএএমএস কিবরিয়া ৩৮৫২৪ কোটি টাকা

২০০১-২০০২ এসএএমএস কিবরিয়া ৪২৩০৬ কোটি টাকা

২০০২-২০০৩ এম সাইফুর রহমান ৪৪৮৫৪ কোটি টাকা

২০০৩-২০০৪ এম সাইফুর রহমান ৫১৯৮০ কোটি টাকা

২০০৪-২০০৫ এম সাইফুর রহমান ৫৭২৪৮ কোটি টাকা

২০০৫-২০০৬ এম সাইফুর রহমান ৬১০৫৮ কোটি টাকা

২০০৬-২০০৭ এম সাইফুর রহমান ৬৯৭৪০ কোটি টাকা

২০০৭-২০০৮ মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ৯৯৯৬২ কোটি টাকা

২০০৮-২০০৯ মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ৯৯৯৬২ কোটি টাকা

২০০৯-২০১০ আবুল মাল আবদুল মুহিত ১১৩,৮১৫ কোটি টাকা

২০১০-২০১১ আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৩২,১৭০ কোটি টাকা

২০১১-২০১২ আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৬৫,০০০ কোটি টাকা

২০১২-২০১৩ আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৯১,৭৩৮ কোটি টাকা

২০১৩-২০১৪ আবুল মাল আবদুল মুহিত ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা

২০১৪-২০১৫ আবুল মাল আবদুল মুহিত ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা।

২০১৫-২০১৬ আবুল মাল আবদুল মুহিত ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা

২০১৬-২০১৭ আবুল মাল আবদুল মুহিত ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা।

২০১৭-২০১৮ আবুল মাল আবদুল মুহিত ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা

২০১৮-২০১৯ আবুল মাল আবদুল মুহিত ৪লাখ ৬৪হাজার৫৭৩কোটি টাকা

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএস

 

Best Electronics