Alexa রূপা হত্যায় চারজনের ফাঁসি

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৫ অক্টোবর ২০১৯,   আশ্বিন ৩০ ১৪২৬,   ১৫ সফর ১৪৪১

Akash

রূপা হত্যায় চারজনের ফাঁসি

 প্রকাশিত: ১১:৫০ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮   আপডেট: ২০:৩২ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় চারজনকে ফাঁসি দিয়েছে আদালত।

সোমবার টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ময়মনসিংহ-বগুড়া রুটের ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর (৪৫), হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯)। মামলায় বাসটির সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বেলা ১১টা ১০ মিনিটে আদালত ৭৩ পৃষ্ঠার রায়ের অংশবিশেষ পড়ে শোনান। গাড়িটি জব্দ করে মালিকানা রূপার পরিবারকে দিতে বলা হয়েছে।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তার পরিবারের সদস্যরা বলছেন, দেশের অন্য বিচারপ্রার্থীরাও যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়। রায় ঘোষণার পর আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রূপার ভাই হাফিজুল ইসলাম প্রামাণিক ও বোন মাশরুফা আক্তার পপি।

হাফিজুল বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচারকাজ শেষ হওয়া এবং চার খুনির ফাঁসির আদেশ হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট। আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। আরো ভালো লাগত যদি ছবর আলীর (সুপারভাইজার) যাবজ্জীবন হত।

আমি চাই, আমার বোনের মত আর কেউ যেন এ ধরনের ঘটনার শিকার না হন।

রূপার ছোট বোন পপি বলেন, রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়। তিনি বলেন, আমাদের পরিবারের পাশে থাকার জন্য সরকার, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

বাদীর পক্ষে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট নাছিমুল আক্তার নাছিম মামলা পরিচালনা করেন। আর আসামিপক্ষে ছিলেন- অ্যাডভোকেট শামীম চৌধুরী দয়াল।

রায়ের পর বিশেষ পিপি নাছিমুল আক্তার বলেন,আমরা আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আশা করেছিলাম। পেয়েছি। এত দ্রুত সময়ে কোনো মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। এটি একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী শামীম চৌধুরী রায়ের পর গণমাধ্যমকে বলেন,রায় প্রত্যাশিত নয়। আমার মক্কেলরা ন্যায়বিচার পাননি। আমরা রায়ের কপি পাওয়ার পর আপিলে যাব।

গত বছরের ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রূপাকে চলন্ত বাসে পরিবহন শ্রমিকরা ধর্ষণের পর হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুরের পঁচিশ মাইল এলাকায় লাশ ফেলে রেখে যায়।

পুলিশ ওই রাতেই লাশ উদ্ধার করে পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।

ঘটনার দু’দিন পর পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ দেখে ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় গিয়ে বোনের লাশ সনাক্ত করেন।ঢাকার আইডিয়াল ল কলেজের ছাত্রী রূপা একটি কোম্পানির প্রোমশনাল ডিভিশনে কাজ করতেন। রুপার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার আসানবাড়ি গ্রামে। তার কর্মস্থল ছিল ময়মনসিংহ জেলা সদরে।

গত বছরের ১৫ অক্টোবর এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টাঙ্গাইলের বিচারিক হাকিম আদালতে ৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

এরপর গত বছরের ২৫ অক্টোবর আদালত এ মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।

চলতি বছর ৪ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়। ৫ ফেব্রুয়ারি উভয়পক্ষের যুক্তিতর্কের সমর্থনে আইনী কাগজপত্র দাখিল করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক রায়ের দিন ধার্য করেন।

গত ৩ জানুয়ারি বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্যদিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। ২৩ জানুয়ারি জব্দ তালিকা, সুরতহাল রিপোর্ট, চিকিৎসক,পাঁচ আসামির ১৬৪ ধারার জবানবন্দি গ্রহণকারী চারজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট,তদন্ত কর্মকর্তাসহ ২৭ জনের সাক্ষ্য ও জেরা সমাপ্ত হয়।

এরপর গত বছরের ২৫ অক্টোবর আদালত এ মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। মামলায় মোট ২৭ জন সাক্ষ্য দেন। এ মামলায় অভিযোগ গঠন, সাক্ষী ও যুক্তিতর্কের জন্য মাত্র ১৪ দিন সময় নেওয়া হয়। টাঙ্গাইলের ইতিহাসে এই প্রথম দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ধরনের একটি মামলার নিষ্পত্তি হলো।

গত ১ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম তাড়াশে রূপার বাড়ি গিয়ে তার পরিবারকে নগদ এক লাখ টাকা দেন। এ সময় মন্ত্রী রূপার বোন পপিকে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে সরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগসের বগুড়ার কার্যালয়ে অফিস সহকারী পদে নিয়োগ দেওয়া হয় রূপার ছোট বোন পপিকে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস/এলকে/এআর