Alexa রূপায় অপরূপ

ঢাকা, শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৫ ১৪২৬,   ২০ মুহররম ১৪৪১

Akash

রূপায় অপরূপ

 প্রকাশিত: ১৫:১৯ ৩১ আগস্ট ২০১৮   আপডেট: ১৫:১৯ ৩১ আগস্ট ২০১৮

গয়না বাঙালি নারীর সৌন্দর্য্যের প্রতীক। গয়না পছন্দ করে না এমন নারী খুব কমই আছে। প্রাচীনকাল থেকেই নারীর সাজে গয়না ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আদিকালে নারীর সাজে শোভা পেতো রূপার তৈরী নাকছাবি, মল, চেইন, বাজু, বিছা। সময়ের বিবর্তনে রূপার গয়নায় এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। কিশোরী থেকে শুরু করে মাঝবয়সী নারীরা পোশাকের সঙ্গে মানানসই গয়না পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। স্বর্ণের দাম বেশি হওয়ায় বর্তমানে রুপার চল বেশী। রুপার তৈরি গয়নায় সোনার প্রলেপে মুড়িয়ে তৈরি হচ্ছে গোল্ড প্লেটেড গয়না।

গয়নার ধরণ:
রূপার তৈরি বিভিন্ন নকশার গয়না বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। এছাড়া জুয়েলার্সের দোকানগুলোতে গেলে পছন্দসই যেকোনো গয়না পেয়ে যাবেন। রূপার তৈরি গয়নাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো-গলার সেট, নেকলেস, মঙ্গলসূত্র, বালা, চুড়ি, ঝুমকা, মাদুল, আংটি, লহরী, টিকলি, নাকছাবি, পায়েল, খোঁপার কাটা ইত্যাদি। এছাড়াও রূপার তৈরি সিঁদুর কৌটা, পানদানি, সুরমাদানি, নানা রকম শোপিস, আতরদানি, প্লেট, বাটি, চামচ পাওয়া যায়। মিনা করা ও গোল্ড  প্লেটেড রূপার গয়নার প্রচলন রয়েছে। রুপার তৈরি গায়নায় নানা রকম পুঁতি,পাথর ও মুক্তা বসানো কাজ পছন্দ করেন অনেকে।

সাজ-পোশাকে রূপার গয়না:
রূপার গয়না দেখতে যেমন আকর্ষণীয় তেমনি ফ্যাশনেবল। দেশীয়,পাশ্চাত্য ও ফিউশন তিন ধরনের পোশাকের সঙ্গেই রূপার গয়না মানানসই। পোশাকে যদি রুপালি সুতার কাজ থাকে তাহলে তো আরো বেশি মানিয়ে যায় রূপার গয়না। সব রকম উৎসব ও অনুষ্ঠানে রূপার গয়না ঐতিহ্যবাহী। শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে রূপার গয়না পরতে দেখা যায় তরুণীদের। শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে গলার সেট, নেকলেস, দুল, পাশা, বালা ও ঝুমকা, হাতে চুড়ি, আংটি ইত্যাদি রূপার গয়না পড়তে দেখা যায়। সালোয়ার কামিজের সঙ্গে রূপার তৈরি ব্রেসলেট, ঝুমকা,আংটি,খোপার কাটা ও পায়েল পড়তে দেখা যায় তরুণীদের। এমনকি বিয়ের কনে সহ নানা উৎসব অনুষ্ঠানে রূপার তৈরি গোল্ড প্লেটেড গয়না সাজকে আকর্ষণীয় আরো করে তোলে।

যত্ন-আত্তি:
রূপার তৈরি গয়না প্রতিদিন ব্যবহার করা যায় বা ব্যবহার করতে করতে অনেক সময় কালচে হয়ে আসে। রূপার খাঁজকাটা কাজে ধুলোবালি ও ময়লা জমে সেটা ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে আসে। অনেকেই রুপার গয়নায় পাথর ও পুঁতি ব্যবহার করেন। যত্ন না নিলে এসব পাথরের উজ্জলতা কমে আসে। সঠিক উপায় না জানার ফলে অনেকেই ঠিকমত যত্ন নিতে পারেন না। এক্ষেত্রে বাড়িতে বসেই পরিষ্কার করতে পারেন নিজ গয়না।

রূপার তৈরি গয়না কখনোই বায়ু সংস্পর্শে রেখে দেয়া যাবেনা। এতে গয়না কালচে হয়ে যায়। অবশ্যই তা তুলা অথবা টিস্যু পেপারে পেঁচিয়ে বায়ু নিরোধক স্থানে রাখতে হবে। অনেকেই মনে করেন রূপার তৈরি গয়না কালচে হওয়া মানেই নকল। এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। রূপা যদি খাঁটি হয় ও বাতাসের সংস্পর্শে আসে তাহলে কালো হবেই। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। অনেক সময় চুলার আঁচে ও পানি লাগলে রূপা কালচে হয়ে যায়। তাই রূপার গয়না ব্যবহারে যত্ন-আত্তি জানতে হবে।

রূপার গয়নার কালচে ভাব দূর করতে ডির্টাজেন্ট পাউডার অথবা তেঁতুল জলে ডুবিয়ে রাখুন ১ ঘণ্টা। তারপর নরম কাপড় অথবা ব্রাশের সাহায্যে ঘষে ঘষে পরিষ্কার করে নিন। দেখবেন গয়না চকচকে হয়ে গেছে। এছাড়াও গয়না ঝকঝকে করতে বেকিং পাউডার ব্যবহার হয়। বেকিং পাউডার ও পানি মিশ্রিত করে একটি পেস্ট তৈরি করে এতে রূপার গয়না ব্রাশের সাহায্যে ঘষে ঘষে পরিষ্কার করে নিন। ঠাণ্ডা পানিতে ধুঁয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে রাখুন। খুব বেশি কালো হয়ে গেলে গয়নাগুলো জুয়েলার্সের দোকানে নিয়ে পালিশ করে নিতে পারেন। গোল্ড প্লেটেড গয়না কালো হয়ে গেলে সাধারণত জুয়েলার্স এর দোকানে নিয়ে সেগুলো সোনার পানিতে পালিশ করাতে হয়।

দরদাম:
গয়না কেনার আগে রূপার মান সম্পর্কে ধারণা নিন। দামের সঙ্গে গয়নার মানের তারতম্য রয়েছে। রূপার গয়না কতটা খাঁটি সেটা তার দামের উপর নির্ভর করে। প্রতি ভরি রূপার মূল্য ১০৫০ টাকা। রূপার নাকফুলে খরচ পড়বে ২৫০-৩০০ টাকা, কানের দুল ৪০০-১০০০ টাকা, ব্রেসলেট ৩০০-৫০০ টাকা, চুড়ি ৩০০-৮০০ টাকা, নেকলেস ১০০০-১৫০০ টাকা, নেকলেস দুলসহ ৩০০০-৫০০০ টাকা, বালা ৪৫০-৮০০ টাকা, টিকলি ও টায়রা ৪০০-৮০০ টাকা।

কোথায় পাবেন:
রাজধানীর বিভিন্ন শপিংমলে মিলবে রুপার বাহারি ডিজাইনের গয়না। যেমন-বসুন্ধরা সিটি, বায়তুল মোকাররম, চাঁদনি চক, নিউ মার্কে, ইস্টার্ন প্লাজায় ভালো মানের রূপার তৈরি গয়না পাওয়া যায়। ফ্যাশন হাউস মায়াসীর, আড়ং, দেশী দশ, দেশাল, কে-ক্রাফট এসব দোকানে উন্নতমানের ও ফ্যাশনেবল রুপার গয়না পাওয়া যায়। যে কোন ধরনের গয়না কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই নামিদামি বিশ্বস্ত দোকান থেকে কেনা ভালো।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস/এসজেড