Alexa রিজার্ভ চুরিতে মামলা বুধবার

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৫ ১৪২৬,   ২০ মুহররম ১৪৪১

Akash

রিজার্ভ চুরিতে মামলা বুধবার

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ১৯:৪৩ ২৯ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৯:৪৩ ২৯ জানুয়ারি ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

রিজার্ভ চুরির ঘটনায় অবশেষে মামলা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামীকাল বুধবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে এ দেওয়ানি মামলা হবে। তবে কোনো কারণে কাল না হলেও বৃহস্পতিবার মামলাটি হবে বলে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান বলেন, চলতি সপ্তাহেই মামলা দায়ের করা হবে। এজন্য আমাদের প্রতিনিধিদলটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে। অর্থ ফিরিয়ে আনতে এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের একটি আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান এ মামলা করবে।

তবে কাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে, তা দায়েরের পরই বোঝা যাবে বলেও জানান তিনি।

তিনি জানান, মামলাটি করা হচ্ছে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি) থেকে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার বা ৫৫৭ কোটি টাকা আদায়ে। মামলায় সম্ভাব্য আসামি হিসেবে আরসিবিসি-সহ এর কয়েকজন কর্মকর্তা, অর্থ স্থানান্তরকারী কোম্পানি ফিলরেম ও এর কর্মকর্তা, ক্যাসিনো মালিক ও সুবিধাভোগী বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, মামলায় দায়েরের ক্ষেত্রে পূর্ণ সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক (ফেড)। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ফেডের একটি চুক্তিও সই হবে। বৃহস্পতিবারের মধ্যেই এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

এদিকে, মামলা দায়েরের বিষয়টি তদারকির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গেল রোববার (২৭ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রে যায়। মামলা দায়ের শেষে ১ ফেব্রুয়ারি তাদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে। এক্ষেত্রে সহায়তা করতে তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি।

২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সুইফট কোড হ্যাকের মাধ্যমে ফেড-এ রক্ষিত বাংলাদেশে ব্যাংকের একাউন্ট থেকে মোট ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এর মধ্যে ফিলিপাইনে যায় ৮ কোটি ১০ লাখ এবং শ্রীলঙ্কায় যায় আরো ২ কোটি ডলার। শ্রীলঙ্কায় যাওয়া অর্থ ফেরত পাওয়া গেলেও ফিলিপাইনে যাওয়া অর্থের পুরোটা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ফেরত না পাওয়া এ অর্থের পরিমাণ ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ৫৫৭ কোটি টাকা।

এ সংক্রান্ত আইনী জটিলতায় যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী তিন বছরের মধ্যে মামলা করার একটা গুরুত্ব রয়েছে। ফলে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মামলা করার একটা তাগিদ রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআইএস