.ঢাকা, বুধবার   ২০ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৫ ১৪২৫,   ১৩ রজব ১৪৪০

বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর খবর নেয়নি কেউ

সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৪:২৬ ৮ নভেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৪:২৬ ৮ নভেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

যুদ্ধের সময় আঁর (আমার) স্বামীরে মারি হালাইছে, আঁই কিল্লাই কিছু হাইতাম ন বঙ্গবন্ধু যুদ্ধের পর দুই হাজার টেয়া হাডাইছে, হের পর আর কিছু হাইনো। হেতেন আমার লাই কিছু করেনো হের হরেও বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু দিবসে কোরআন খতম করি আঞ্চলিক ভাষায় কথাগুলো বলেন ফেনীর সোনাগাজীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী নুর জাহান বেগম।

নুর জাহান চরদরবেশ ইউপির ৩নং ওয়ার্ডের চরসাহাভিকারী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শামছুল হকের স্ত্রী। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরেও স্বামীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি। সোনাগাজীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদের তালিকায় নাম রয়েছে। সব প্রমাণ দেয়ার পরেও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বামীর নাম সরকারি তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করাতে পারেনি।

নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই। ভিক্ষা করে কষ্টে জীবনের শেষ সময়গুলো পার করছে। সরকারি আশ্রায়ণ কেন্দ্রে বরাদ্দ পাওয়া কক্ষটি দখল করে নিয়েছে প্রভাবশালীরা। তিন সন্তানের মধ্যে ছোট ছেলে জামাল পঙ্গু, অপর দুই ছেলে কামাল উদ্দিন ও জাহাঙ্গীর দিনমজুর। ভিক্ষা করে নিজের পাশাপাশি পঙ্গু ছেলের ভরণপোষণ করেন।

নুর জাহান বেগম জানান, ১৯৭১ সালে রাজাকাররা বাড়ি ঘেরাও করে তার স্বামী শামছুল হক ও তার দেবর আবু নেছারকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাদের দুই ভাইকে হত্যা করে।

তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে শাশুড়ি ও তার কাছে বঙ্গবন্ধু চিঠি দিয়ে সমবেদনা জানিয়ে চার হাজার টাকা পাঠায়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর আর কেউ খবর নেয়নি।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সৈয়দ নাছির উদ্দিন বলেন, শহীদ সামছুল হক ও তার ভাই আবু নাছের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। নুরজাহানের আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাচাই কমিটি থেকে তাদের নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভূক্তির জন্য মন্ত্রণোলয়ে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর