রাসূল (সা.) বর্ণিত কিছু ঔষধি খাবার

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৬ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭,   ০৩ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

রাসূল (সা.) বর্ণিত কিছু ঔষধি খাবার

ধর্ম ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:০২ ৭ এপ্রিল ২০২০  

মহানবী রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ পানি হলো জমজমের পানি। তাতে রয়েছে তৃপ্তির খাদ্য ও ব্যাধির আরোগ্য।’ (আল-মুজামুল আওসাত, হাদিস : ৩৯১২)। 

মহানবী রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ পানি হলো জমজমের পানি। তাতে রয়েছে তৃপ্তির খাদ্য ও ব্যাধির আরোগ্য।’ (আল-মুজামুল আওসাত, হাদিস : ৩৯১২)। 

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা- যেমন রোগ সৃষ্টি করেছেন, রোগের প্রতিষেধকও সৃষ্টি করেছেন। পৃথিবীর বহু সৃষ্টির মধ্যে বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক রেখে দিয়েছেন তিনি।  

এমন অনেক খাবার রয়েছে, যেগুলোর ঔষধি গুণ নিয়ে প্রিয় নবী (সা.) থেকে বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এর কয়েকটি তুলে ধরা হলো।

জমজমের পানি : জমজমের পানি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পানি। পবিত্র জমজম নিয়ে রাসূল (সা.) এর বহু হাদিস রয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো ইবনে আব্বাস (রা.) কর্তৃক বর্ণিত। মহানবী রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ পানি হলো জমজমের পানি। তাতে রয়েছে তৃপ্তির খাদ্য ও ব্যাধির আরোগ্য।’ (আল-মুজামুল আওসাত, হাদিস : ৩৯১২)। 

রাসূল (সা.) জমজমের পানি ভীষণ পছন্দ করতেন। বেশির ভাগ সময় তিনি জমজমের পানি পান করার চেষ্টা করতেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি জমজমের পানি সঙ্গে করে নিয়ে আসতেন, আর বলতেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) তা বহন করে আনতেন। (তিরমিজি, হাদিস : ৯৬৩)।

মহান আল্লাহ এই পানিতে এতটাই বরকত রেখেছেন, যে কেউ (আল্লাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে) কোনো উপকার লাভের আশায় এই পানি পান করলে মহান আল্লাহ তার আশা পূরণ করেন। জাবির বিন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘জমজমের পানি যে উপকার লাভের আশায় পান করা হবে, তা অর্জিত হবে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩০৬২)।

আজওয়া খেজুর : মদিনার উৎকৃষ্টতম খেজুর আজওয়া। পবিত্র হাদিস শরিফে এই ফলটিকে জান্নাতের ফল আখ্যায়িত করা হয়েছে। রাসূল (সা.) এর প্রিয় ফল ছিল খেজুর। এর উপকারিতা অপরিসীম। প্রিয় নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালবেলা সাতটি আজওয়া (উৎকৃষ্ট) খেজুর খাবে, সেদিন কোনো বিষ ও জাদু তার ক্ষতি করবে না।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৪৪৫)। 

হৃদেরাগে আক্রান্তদের জন্যও এটি মহা উপকারী ওষুধ। রাসূল (সা.) তাঁর এক সাহাবিকে হৃদেরাগের জন্য আজওয়া খেজুরের তৈরি ওষুধ খেতে পরামর্শ দিয়েছেন। সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি অসুস্থ হলে রাসূল (সা.) আমাকে দেখতে আসেন। এ সময় তিনি তাঁর হাত আমার বুকের ওপর রাখলে আমি তার শৈত্য আমার হৃদয়ে অনুভব করি। এরপর তিনি বলেন, তুমি হৃদেরাগে আক্রান্ত। কাজেই তুমি সাকিফ গোত্রের অধিবাসী হারিসা ইবনে কালদার কাছে যাও। কেননা সে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক। আর সে যেন মদিনার আজওয়া খেজুরের সাতটা খেজুর নিয়ে বিচিসহ চূর্ণ করে তোমার জন্য তা দিয়ে সাতটি বড়ি তৈরি করে দেয়। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৮৩৫)।

এই হাদিস থেকে আরেকটি জিনিস বোঝা যায়, তা হলো- কোনো ওষুধ গ্রহণ করার আগে অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। কারণ মহান আল্লাহ তাঁর বহু সৃষ্টিতে ঔষধি গুণ রেখেছেন, তবে রোগভেদে তার প্রয়োগেরও ভিন্ন ভিন্ন পন্থা রেখেছেন, যারা তা নিয়ে গবেষণা করেন, তারাই তা জানতে পারেন।

কালোজিরা : বিস্ময়কর এই জিনিসটির প্রশংসা করেছেন খোদ রাসূল (সা.)। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, কালোজিরায় সব ধরনের রোগের উপশম আছে, তবে ‘আস্সাম’ ব্যতীত। আর ‘আস্সাম’ হলো মৃত্যু। এর ‘আল হাব্বাতুস্ সাওদা’ হলো (স্থানীয় ভাষায়) ‘শূনীয’ (অর্থাৎ কালিজিরা)। (মুসলিম, হাদিস : ৫৬৫৯)।

তাই যেকোনো রোগ নিরাময়ে, রোগ থেকে নিরাপদ থেকে অন্যান্য সতর্কতার পাশাপাশি অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে কালিজিরা সেবন করা যেতে পারে। আয়ুর্বেদিক, ইউনানি ও কবিরাজি চিকিৎসায় এর ব্যাপক ব্যবহার হয়ে থাকে। তাই যারা এসব চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা করে, তাদের কাছে রোগ অনুযায়ী সঠিক ব্যবহারবিধি পাওয়া যাবে। কারণ একেক ধরনের রোগের জন্য কালিজিরার ব্যবহারবিধিও একেক রকম।

মধু : মধুর ঔষধি গুণ সবারই কমবেশি জানা। মহান আল্লাহ মধুর মধ্যে বহু রোগের আরোগ্য রেখেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তার (মৌমাছির) পেট থেকে নির্গত হয় বিবিধ বর্ণের পানীয়, যাতে মানুষের জন্য রয়েছে আরোগ্য। অবশ্যই তাতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।’ (সূরা : নাহল, আয়াত : ৬৮-৬৯)।

রাসূল (সা.) মধু বেশ পছন্দ করতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) মিষ্টি ও মধু খুব ভালোবাসতেন। (বুখারি, হাদিস : ৫২৭০)। এ ছাড়া তিনি অন্যদের বিভিন্ন রোগের জন্য মধু পান করার পরামর্শ দিতেন। মহানবী (সা.) এর কাছে এক সাহাবি এসে তাঁর ভাইয়ের পেটের অসুখের কথা বললে রাসূল (সা.) তাকে মধু পান করানোর পরামর্শ দেন এবং এতে সে সুস্থ হয়ে ওঠে। (বুখারী, হাদিস : ৫৩৬০)।

জয়তুন : প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ (সা.) এর পছন্দের ফলগুলোর একটি ছিল জয়তুন। এর তেলও শরীরের জন্য বেশ উপকারী। প্রিয় নবী (সা.) তা নিজে ব্যবহার করতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও ব্যবহার করার তাগিদ দিতেন। হজরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা (জয়তুনের) তেল খাও এবং তা শরীরে মালিশ করো। কেননা এটি বরকত ও প্রাচুর্যময় গাছের তেল।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৮৫১)।

পবিত্র কোরআনুল কারিমে বর্ণিত ফলগুলোর অন্যতম একটি ফল জলপাই বা জয়তুন। সূরা ত্বিনের প্রথম আয়াতে মহান আল্লাহ যে ফলের কসম খেয়েছেন। সূরা নুরের ২৪ নম্বর আয়াতে তিনি এই ফলের গাছকে আখ্যা দিয়েছেন মুবারক গাছ হিসেবে। রাসূল (সা.) এর একটি হাদিস থেকেও জানা যায় যে আগের নবীরাও এই বরকতময় গাছের ফল ও তেল ব্যবহার করতেন। মিসওয়াক হিসেবে ব্যবহার করতেন এই গাছের ডালকে। (আল মুজামুল আওসাত)।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে