Alexa রাসূল (সা.) এর হাদিসে সুস্থতা ও অবসরের মূল্যায়ণ (শেষ পর্ব)  

ঢাকা, সোমবার   ২৬ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ১১ ১৪২৬,   ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

রাসূল (সা.) এর হাদিসে সুস্থতা ও অবসরের মূল্যায়ণ (শেষ পর্ব)  

মাওলানা ওমর ফারুক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৩৩ ২১ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১৮:৩৮ ২১ জুলাই ২০১৯

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

নবী করিম (সা.) বলেন, দুটি নিয়ামত এমন রয়েছে যে দুটির ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষ ধোকায় পতিত হয়ে আছে। (১) সুস্থতা। (২) অবসর।

আরো পড়ুন>>> রাসূল (সা.) এর হাদিসে সুস্থতা ও অবসরের মূল্যায়ণ (পর্ব-১)  

প্রথম পর্বের পর থেকে-

গুনাহ থেকে মুক্তির পদ্ধতি এটা নয়:
গুনাহ থেকে মুক্তির পদ্ধতি এটা নয় যে, মানুষ এই চিন্তা করবে যে, এ গুনাহ করে নেই তারপর ছেড়ে দেব। বরং গুনাহ থেকে মুক্তির পথ হলো, - আজই গুনাহ ছেড়ে দিতে হবে - মনের ওপর এমন প্রবল চাপ প্রয়োগ করে গুনাহ থেকে আলাদা হওয়া। এ ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। শয়তানের একটি বড় ধোকা যা দ্বারা সে অনেক ভালো ভালো লোকদের শিকার করতে সক্ষম হয় তা এই যে, চলো এই গুনাহ করেই নাও যাতে মনে কোনো আফসোস না থাকে যে, তুমি এ কাজ কেন করলে না? শুধু একবারের মতো করে নাও তারপর না হয় তাওবা করে নিও। ইস্তিগফার করে নিও। তাওবার দরজা তো আল্লাহর নিকট সবসময়ই খোলা আছে। এভাবেই শয়তান মানুষকে ধোকা দেয় আর মানুষ তাওবার ভরসায় গুনাহে লিপ্ত হয়। আল্লাহ আমাদের সকলকে হেফাজত করুন। আমীন।

গুনাহ করার দ্বারা মনে পরিতৃপ্ততা আসে না:
হজরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) বলেন এটা শয়তানের অত্যন্ত মারাত্মক অস্ত্র এ জন্য যে, যখন কেউ একবার তাওবার ভরসায় গুনাহ করে ফেলে এরপর সহজে সে উক্ত গুনাহ ছাড়তে পারে না। এর কারণ এতোক্ষণ তার গুনাহ করার সাহসই হচ্ছিল না। যখন একবার গুনাহ করে ফেলেছে এখন তার ভেতর গুনাহ করার সাহস এসে গেছে। যখন সাহস এসে গেছে এরপর গুনাহের চাহিদা উত্তরোত্তর পর্যায়ক্রমে শুধু বৃদ্ধিই পেতে থাকবে। কেননা গুনাহের বৈশিষ্ট হলো মানুষ কখনো গুনাহ করে পরিতৃপ্ত হয় না। এমন হয় না যে, একবার গুনাহ করেই মন ভরে গেছে। গুনাহ করার ইচ্ছা শেষ হয় না। গুনাহের দৃষ্টান্ত হলো চুলকানোর ন্যায় যে, যতই চুলকানো হোক ততোই চুলকানোর আগ্রহ বাড়তে থাকে। চুলকাতে থাকো আর মজা নিতে থাকো। কিন্তু এই চুলকানোর পরিণতি কী হয়? রোগ সেরে যায়? না, বরং চুলকানি রোগটা আরো বেড়ে যায়। গুনাহের বৈশিষ্টও এমনই। কখনোই পরিতৃপ্তি আসে না। যখন একবার গুনাহ করে এরপর গুনাহের চাহিদা আরো বেড়ে যায়। এভাবে বাড়তেই থাকে। এ কথা চিন্তা করা যে, একবার গুনাহ করে মনের চাহিদা মিটিয়ে ফেলবো, এটা শয়তানের ভয়ঙ্কর ধোকা। যতক্ষণ মানুষ এ চিন্তা পরিত্যাগ না করবে ততক্ষণ গুনাহ ছাড়ার তাওফীক হবে না।

আরো পড়ুন>>> ‘মাদিনা’ হজে জন্ম নেয়া প্রথম শিশু

তাওবার ভরসায় গুনাহ করা নির্বুদ্ধিতা:
শয়তান ধোকা দেয় যে, গুনাহ করে নাও পরে তাওবা  করে নিও। আরে, এর কী গ্যারান্টি আছে? যে, তাওবার সুযোগ পরে পাওয়া যাবে। কেউ কী জামানত দিয়ে রেখেছে যে, মৃত্যু পূর্বে তার তাওবার সুযোগ পাওয়া যাবে। আমার শ্রদ্ধেয় পিতা (রহ.) বলতেন - তাওবার ভরসায় গুনাহ করার দৃষ্টান্ত হলো আমলের ভরসায় বিচ্ছুর কামড় খাওয়া। তিনি এ বিষয়ে একটি ঘটনা শুনাতেন। দারুল উলূম দেওবন্দে থাকাকালীন তিনি বিচ্ছুর ভয়ে ‘আমল’ শিখেছিলেন। অত্যন্ত পরীক্ষিত আমল ছিল। সে আমল এতো কার্যকরী ও ফলপ্রসু ছিল যে, দেওবন্দে কাউকে বিচ্ছু কামড়ালেই তার কাছে নিয়ে আসা হত। তিনি আমল করে ফু দিলেই সঙ্গে সঙ্গে বিষ নেমে যেত।

একটি উপদেশমূলক ঘটনা:
একবার রাতে আমার আম্মার ষ্টোররুমে যাওয়ার প্রয়োজন হলো। সে ঘরটি ছিল অন্ধকার। ঘরে একটিমাত্র লণ্ঠন ছিল। যেটি দ্বারা তখন আব্বাজান লেখালেখি করছিলেন। আম্মা এসে আব্বাকে বললেন, আমি ষ্টোররুমে অমুক জিনিসটি আনতে যাব। ঘর অন্ধকার। এক মিনিটের জন্য বাতিটি দিন। আব্বাজান তখন লেখায় এত মগ্ন ছিলেন যে, এক মিনিটের জন্যও তিনি বাতিটি দিতে চাইলেন না। বললেন অন্ধকারেই যাও, সে জিনিস তো রুমের একেবারে সামনেই রয়েছে। অসুবিধে হবে না। আম্মা আপত্তি জানিয়ে বললেন, ঘরে বিচ্ছু থাকতে পারে। অন্ধকারে গেলে কামড় দেবে। আব্বার মুখ থেকে তখন বেরিয়ে গেল, বিচ্ছুর কামড়ে কী হবে? আমি আমল জানি। সঙ্গে সঙ্গে আমল করে ফু দিলে বিষ নাই হয়ে যাবে। অগত্যা আম্মা লাইট ছাড়াই চলে গেলেন। আল্লাহর ফায়সালা সে ঘরে পা দেয়া মাত্রই আম্মাকে বিচ্ছু কামড়ে দিল। অস্থির হয়ে আব্বাজানকে এসে বলা মাত্রই তিনি আমল শুরু করে দিলেন। আব্বাজানের ভাষায় আমি যতোই আমল করি, আমল করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেলাম কিন্তু বিষ নামার নাম নেই। বিষ নামানোর যত পদ্ধতি জানতাম একে একে সব প্রয়োগ করলাম, কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না। অথচ সেগুলো পূর্বে বহুবারের পরীক্ষিত আমল ছিল। এ আমল দ্বারা বহু বিষ নামিয়েছি। কিন্তু সেদিন সব ব্যর্থ হলো।

এ ঘটনার তিনটি শিক্ষা:
আব্বাজান বলেন, এ ঘটনায় তিনটি শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। (১) মানুষের কখনো অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস নিয়ে বড় মুখ করে কিছু বলা উচিত নয়। অথচ আমার মুখ দিয়ে এ জাতীয় শব্দই বেরিয়ে গিয়েছিল। (২) কোনো আমল, ওষুধ, ওযীফা, তদবীর ইত্যাদির নিজস্ব কোনো ক্ষমতা নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত মহান আল্লাহ না ইচ্ছা করবেন। ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহরই। সুস্থতা একমাত্র তারই হাতে। (৩) তাওবার ভরসায় গুনাহ করা এমনই যেমন আমলের ভরসায় বিচ্ছুর কামড় খাওয়া। এটা যেমন নির্বুদ্ধিতা ও বোকামী, তেমনি তাওবার ভরসায় গুনাহ করাও নির্বুদ্ধিতা ও বোকামী। কে জানে? তাওবার তাওফীক হবে কীনা, তাওবার সময় পাওয়া যাবে কীনা। এ জন্য যে, তাওবার তাওফীক তো আল্লাহই দিয়ে থাকেন। আল্লাহর অনুগ্রহ ছাড়া তাওবার তাওফীক হয় না। আর যে ব্যক্তি এতোটা দুঃসাহস দেখায় যে, গুনাহ করে তাওবা করে নেব, কেউ জানে না হয়তো আল্লাহ তার তাওবার সুযোগই রুদ্ধ করে করে দেবেন। আল্লাহ রক্ষা করুন।

আরো পড়ুন>>> জমজম কুপ সৃষ্টির রহস্য ও অজানা কিছু তথ্য

যখন হাত পা নাড়ানোর শক্তি থাকবে না:
যাই হোক, সময় কেটে যাচ্ছে আর মানুষ ধোকায় পড়ে আছে। হাদিসের সারমর্ম বের হলো, সুস্থতার যে সময় আল্লাহ দান করেছেন তাকে সুবর্ণ সুযোগ মনে করো। এমনিভাবে অবসরের যে মুহুর্তগুলো আল্লাহ দান করেছেন তাকে কাজে লাগাও। আমাদের শায়খ বলতেন -
 
ابھی تو ان کی آھٹ پر ميں آکھيں کھول ديتا ھوں
وہ کيا وقت ھوگا جب نھ ھوگا يھ بھی امکان ھیں

এখনো তো হাত পা সচল রয়েছে, এখনই কিছু করলে নেকীর ভান্ডারে সংরক্ষিত হয়ে থাকবে। কিন্তু এক সময় এমন আসবে যখন হাত পা নাড়ানোর শক্তি থাকবে না। কেউই এই সময় এড়িয়ে যেতে পারবে না।

কোন বিষয়ের অপেক্ষায় রয়েছো: তিরমিযি শরীফের একটি হাদিসে রাসূল (সা.) এই এভাবে বলেছেন- 

দারিদ্রের অপেক্ষা করছো কী?
তোমরা কী অপেক্ষায় রয়েছো যে, এখন তো টাকা পয়সা রয়েছে। কাল দান খয়রাত করবো। পরশু করবো। তাহলে কী তোমরা দারিদ্র এসে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছ? যে দারিদ্র তোমাদের দান খয়রাত করার আকাঙ্খা নিস্প্রভ করে দেবে। দারিদ্র এসে যাওয়ার পরে কী দান করতে পারবে? আরে ভাই, আজ তোমার ধন সম্পদ রয়েছে তা আল্লাহর পথে ব্যয় কর। কাল কী হবে তা তো তোমার জানা নেই।

ধনবান হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছো?
তোমরা কী এমন টাকাওয়ালা হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছো যা তোমাকে আখিরাত বিমুখ বানিয়ে দেবে। অর্থাৎ নেক কাজ করতে এই চিন্তায় গড়িমসি করছো যে, আজ তো নফল পড়ার সুযোগ নেই। ব্যবসার ব্যস্ততা রয়েছে, চাকরির ব্যস্ততা রয়েছে। যখন ব্যস্ততা কমে আসবে তখন নফল পড়বো, তাহাজ্জুদ পড়বো, সদকা করবো। এখন ফুরসত নেই। এখন ব্যবসায় উন্নতি করতে হবে। টাকা কামাতে হবে। রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, তোমরা কী এমন ধনবান হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছো যা তোমাদেরকে আখিরাত বিমুখ বানিয়ে দিবে। কে জানে সচ্ছলতা, প্রাচুর্য এসে গেলে মাথা থেকে আল্লাহর স্মরণই বের হয়ে যাবে। ভালো কাজ করার স্প্রীহাই শেষ হয়ে যাবে। এরপর টাকা কামানোর ধান্দায় এভাবে লিপ্ত হয়ে যাবে যে, নেক কাজ করার কথা মনেও পড়বে না।

আরো পড়ুন>>> ইসলামে মদ, জুয়া, বেদী, ভাগ্য নির্ধারক শর নিষিদ্ধ (পর্ব-৩)

অসুস্থতার অপেক্ষা করছো?
নাকি এখন নেক কাজ করতে এ জন্য গড়িমসি করছো যে, এখন হাত পা সচল রয়েছে। শরীরে শক্তি আছে। অঙ্গ প্রত্যঙ্গে জোড় আছে। অমুক নেক কাজটি কাল করবো, পরশু করবো। এভাবে গড়িমসি করতে করতে তোমাদের ওপর কোনো অসুস্থতা এসে পড়বে তখন ইচ্ছা থাকলেও আর নেক কাজ করার উপায় থাকবে না।

বার্ধক্যের অপেক্ষা করছো?
নাকি এখন নেক কাজ করতে গড়িমসি করছো এখন যৌবনকাল। ভাবছো নেক কাজ করতে এতো তাড়াহুড়ো করার কী আছে? এখন তো যৌবনকে উপভোগ করার সময়। কামনা-বাসনা পূরণের সময়। আশা-আকাঙ্খা অনুযায়ী জীবনকে ভোগের সময়। যৌবন গিয়ে বার্ধক্য আসলে তাওবা করে নিব। নেকীর কাজ করবো। তাহাজ্জুদ পড়বো, দান ছদকা করবো। আজকের যুগে এ ধরণের মানসিকতা, এ ধরণের স্বপ্ন বহু সংখ্যক যুবক-যুবতী লালন করে। শুধু তাই নয় যে যুবক-যুবতীরা আল্লাহর পথে চলতে সচেষ্ট হয়, গুনাহ ত্যাগ করে তাদেরকেও তারা তিরস্কার করে নির্বোধ মনে করে।

রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন তোমরা কী বার্ধক্যের অপেক্ষা করছো? যা তোমাদের শরীরে দুর্বলতা এনে দিবে। যখন বার্ধক্য আসবে তখন তোমাদের অবস্থা এমন হবে যে, না মুখ থাকবে না কোমড়ে জোড় থাকবে আর না শরীরে শক্তি থাকবে। তখন নেক কাজ করতে চাইলেও অনুতাপ ও পরিতাপ ছাড়া কিছুই করতে পারবে না। 

মাওলানা রূমি বলেন- 
আরে বুড়োকালে তো অত্যাচারী হিংস্র বাঘও সুবোধ শান্ত শিষ্ট হয়ে যায়। শিকার করে না। একেবারে সুফী সাহেব হয়ে যায়। সে এ জন্য শিকার করে না, কারণ তার শিকার করার শক্তি নিঃশেষ হয়ে গেছে। যৌবনের ক্ষিপ্রতা, তেজীভাব আর নেই। এখন সুবোধ শান্ত শিষ্ট হয়ে বসে থাকা ছাড়া তার আর কোনো উপায়ও নেই। ইচ্ছা থাকলেও কোনো ছাগলকে আক্রমণ করার শক্তি নেই। এটাকে কী ভালো হয়ে যাওয়া বলে? অতএব বুড়োকালে তাওবা করায় কোনো বাহাদুরী নেই। হ্যাঁ, ভরা যৌবনে তাওবা করা, আল্লাহর ভয়ে মনের কামনা বাসনা দলিত মথিত করা এটাই হলো নবীদের আদর্শ।

এটাই নবীদের আদর্শ:
হজরত ইউসুফ (আ.)-কে দেখুন যৌবন ভরা শরীর। সুস্থ ও সবল দেহ। সৌন্দর্যে টুইটুম্বুর। এমনকি মানুষ হিসেবে গুনাহের প্রতি আকর্ষণও জাগ্রত হচ্ছিলো। কিন্তু আকর্ষণ সত্তেও নিজেকে গুনাহ থেকে রক্ষা করেছেন। এটাই হলো নবীদের আদর্শ। এ জন্যই মহানবী (সা.) বলেছেন তোমরা কী ভালো কাজের জন্য বার্ধক্যের অপেক্ষায় রয়েছো? যখন অথর্ব হয়ে বসে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। 

মৃত্যুর অপেক্ষা করছো কী?
নেক কাজ করতে গড়িমসি করছো কী মৃত্যুর অপেক্ষায়? মনে রেখ মৃত্যু হঠাৎ এসে যাবে। তা সবকিছু শেষ করে দিবে।

দাজ্জালের অপেক্ষা করছো কী?
নেক কাজ করতে গড়িমসি করছো কী দাজ্জালের অপেক্ষায়? যে, যখন দাজ্জাল এসে যাবে তখন নেক কাজ করবো। আরে দাজ্জাল তো যত অদৃশ্য জিনিসের অপেক্ষায় রয়েছো দাজ্জাল তাদের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর। দাজ্জালের ফিৎনা যখন আসবে তখন বড় পেরেশানীতে জড়িয়ে পড়বে। নেক কাজের সুযোগ পাবে না। স্বয়ং মহানবী (সা.) দাজ্জালের ফিৎনা থেকে আশ্রয় চেয়েছেন।

কিয়ামতের অপেক্ষা করছো?
নেক কাজ করতে গড়িমসি করছো কী এ জন্য যে, যখন কিয়ামত আসবে তখন নেক কাজ করবো। কিয়ামত তো বড় ভয়ানক বিষয়। তখন তো আমলের দরজাই বন্ধ হয়ে যাবে। যা-ই হোক, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, তোমরা কোন জিনিসের অপেক্ষায় রয়েছো? নিজেদের সংশোধনের জন্য, ভালো কাজে অগ্রসর হওয়ার জন্য, গোনাহ থেকে বাঁচার জন্য, তাকওয়া অবলম্বনের জন্য, নিজেকে আল্লাহর অনুগত করার জন্য, আল্লাহর রাসূলের (সা.) সুন্নতের ওপর আমল করার জন্য আখের কোন সময়ের অপেক্ষা করছো? কোনো কিছুরই নয়। বরং আমরা এই ধোকায় পড়ে রয়েছি যে, সুস্থতা সর্বদা থাকবে। অবসর সর্বদা থাকবে।
 
শেষ কথা:
যা-ই হোক, এই হাদিস আমাদের সচেতন করছে যে, জীবনের যে মুহুর্তগুলো আল্লাহ আমাদের দান করেছেন তার প্রতিটি মুহুর্তই অত্যন্ত দামী। একে খুব সতর্কভাবে ব্যয় করা উচিত। আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজে ব্যয় করো। নফস ও শয়তানের বিরোধিতা করার হিম্মত করো। প্রবৃত্তির পূজারী হয়ো না যে, যা মনে চায় তাই করতে লেগে পড়ো। যে ব্যক্তি মন চাহী জিন্দেগী যাপন করে তা মূলত কোনো জীবনই নয়। এমন জীবন থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাও। নিজের চেষ্টাও অব্যাহত রাখো। আর এ জন্য দোয়াও জারী রাখো যে, সময়ের সঠিক ব্যবহারের তাওফীক যেন আল্লাহ দেন। সুস্থতা আর অবসরের সময়গুলোর যত্ন নাও। তা সঠিক পদ্ধতিতে ব্যয় করো। মহান আল্লাহ আপন অনুগ্রহ ও দয়ায় আমাকে এবং আপনাদের সবাইকে তার ওপর পরিপূর্ণ আমল করার তৌফীক দিন। আল্লাহুম্মা আমীন। চলবে...

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে

Best Electronics
Best Electronics