Alexa রাসূল (সা.) এর বাণী

ঢাকা, সোমবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২৪ ১৪২৬,   ১১ রবিউস সানি ১৪৪১

রাসূল (সা.) এর বাণী

পর্ব- ৭

প্রিয়ম হাসান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:১৫ ২ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২১:২৪ ২ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দুনিয়াতে যারা মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার সর্বশেষ নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেখানো পথে চলবে, পরকালে তারাই জান্নাতে যাবে। তারাই জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। 

রাসূলুল্লাহ (সা.) মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার সর্বশেষ নবী।

 প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে আমার আনুগত্য করল সে আল্লাহর আনুগত্য করল।’ (সহিহ বুখারী)।

আরো পড়ুন>>> রাসূল (সা.) এর বাণী পর্ব-৬

আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়াসাল্লাম এর উম্মত বা অনুসারী দল। আমরা তাঁর (সা.) দেখানো পথে চলি। সঠিক পথ পাবার জন্যে তিনি আমাদের কাছে দু’টি জিনিস রেখে গেছেন। একটি হলো আল্লাহর কোরআন। আর অপরটি হলো তাঁর সুন্নত বা সুন্নাহ।

নবীর (সা.) সুন্নাহ সম্পর্কে জানা যায় হাদিস থেকে। হাদিসের অনেকগুলো বড় বড় গ্রন্থ আছে। প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণীকে হাদিস বলে। নবীর (সা.) কাজ কর্ম এবং চরিত্রের বর্ণনাকে ও হাদিস বলে।

নবীর সমর্থন এবং আদেশ নিষেধের বর্ণনাকেও হাদিস বলে। ইসলামের সত্য ও সঠিক পথকে জানাবার জন্যে আমাদেরকে  মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার বাণী কোরআন মজিদকে বুঝতে হবে এবং মানতে হবে।

ঠিক তেমনি আমাদেরকে মহানবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী হাদিস পড়তে হবে এবং সে অনুযায়ী চলতে হবে। তবেই মহান আল্লাহ খুশী হবেন আমাদের প্রতি। আমরা হতে পারবো সত্যিকার মুসলিম।

সে জন্যেই আমরা এখানে সংকলন করেছি প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনেকগুলো হাদিস। 

এসো আমরা সবাই প্রিয় নবীর এই বাণীগুলো পড়ি এবং মেনে চলি-

পর্ব- ৬ এর পর থেকে...

(২৮০) আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জনগণের মাঝে সবচেয়ে প্রিয় হতে চায়, তার উচিত গুনাহ হতে দূরে সরে মহান আল্লাহর তাকওয়া অর্জন করা’। (কানযুল ফাওয়ায়েদ, খণ্ড ২, পৃ. ১০)।

(২৮১) প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নম্রতা, বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি করে; সুতরাং নম্র হও যাতে মহান আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতের শামিল হতে পারো’। (নাহজুল ফাসাহাহ, পৃ. ২৭৭)।

(২৮২) মহানবী (সা.) এমন একদল লোকের মাঝ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন যাদের মধ্যে শক্তিধর এক লোক ছিল। যে বড় বড় পাথর উত্তোলন করছিল এবং উপস্থিত লোকেরা তাকে ভারউত্তোলনের বীর হিসেবে বাহবা দিচ্ছিল। আর ওই ক্রীড়াবিদের কর্মকাণ্ডে সকলে অবাক হচ্ছিল। আল্লাহর নবী (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, এখানে লোক সমাগমের কারণ কী? জনগণ ভারউত্তোলক ওই ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কথা সম্পর্কে মহানবী (সা.)-কে অবগত করল। 

রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘তোমাদেরকে কি বলবো না যে, এ ব্যক্তির চেয়ে শক্তিশালী কে? তার চেয়ে শক্তিশালী হচ্ছে সে, যাকে গালী দেয়া হয় কিন্তু সে ধৈর্য্য ধারণ করে নিজের প্রতিশোধ পরায়ন নফসের ওপর নিয়ন্ত্রন রাখে এবং নিজের শয়তান ও তাকে গালি দানকারী শয়তানের ওপর বিজয়ী হয়।’ (তারায়েফুল হেকাম, পৃ. ৪০০)।

(২৮৩) আল্লাহর নবী (সা.) বলেছেন, লজ্জা দুই প্রকারের, বুদ্ধিবৃত্তি ভিত্তিক লজ্জা এবং বোকামীপূর্ণ লজ্জা। বুদ্ধিবৃত্তি ভিত্তিক লজ্জা জ্ঞান হতে উত্সারিত এবং বোকামীপূর্ণ লজ্জা অজ্ঞতা ও মূর্খতা হতে উত্সারিত হয়। (উসুলে কাফী, খণ্ড ২, পৃ. ১০৪)।

(২৮৪) মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমার লজ্জা শেষ হয়ে যায় তখন তুমি সব কিছু করতে পারো।’ (লজ্জাহীন ব্যক্তিরাই বিভিন্ন গুনাহ সম্পাদন ও আইন লঙ্ঘনে কোনো ভয় পায় না)। (বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ৬৮, পৃ. ৩৩৬)।

(২৮৫) রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে সাহসী ব্যক্তি হচ্ছে সে, যে নিজের নফসের চাহিদার ওপর বিজয়ী হয়’। (মান লা ইয়াহযারহুল ফাকীহ, খণ্ড ৪, পৃ. ৩৯৫)।

(২৮৬) আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘লোকদের ওপর কর্তৃত্ব অর্জন ও বিজয়ী হওয়া সাহসীকতা ও বীরত্ব নয়, বরং নিজের লাগামহীন নফসের ওপর কর্তৃত্ব লাভ করাই হচ্ছে প্রকৃত সাহসীকতা ও বিজয়’। (মাজমুয়াতু ওয়ারাম, খণ্ড ২, পৃ. ১১)।

(২৮৭) হজরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে ক্ষণিকের জন্য হেয় ও প্রতিপন্ন হতে প্রস্তুত হয় না, সে সারা জীবন অজ্ঞতার কারণে হেয় ও প্রতিপন্ন হয়’। (বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ১, পৃ. ১৭৭)।

(২৮৮) নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে মুমিন মানুষের সঙ্গে মেশে এবং তাদের ঝামেলা সহ্য করে, মহান আল্লাহর দরবারের তাদের পুরস্কার ওই মুমিন অপেক্ষা বৃহৎ যে মানুষের সঙ্গে মেশে না এবং তাদের ঝামেলাও সহ্য করে না’। (মেশকাতুল আনওয়ার ফি গুরারিল আখবার, পৃ. ১৯৩)।

(২৮৯) হজরত মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুনাফিকের তিনটি চিহ্ন : (১) যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, (২) যখন প্রতিশ্রুতি দেয় তা ভঙ্গ করে, (৩) আমানতের খেয়ানত করে’। (সহিহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, পৃ. ৮৯)।

(২৯০) রাসূলে আকরাম (সা.) বলেছেন, ‘হে আলী! নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ সমাধানের উদ্দেশ্যে বলা মিথ্যাকে পছন্দ করেন এবং ফাসাদ সৃষ্টির কারণ হয় এমন সত্য বলাকে অপছন্দ করেন’। (মাকারেমুল আখলাক, পৃ. ৪৩৩)।

(২৯১) আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে নিজের বোঝা অন্যের ওপর চাপিয়ে দেয় সে ব্যক্তি অভিশপ্ত’।

(২৯২) হজরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি একটি গুনাহ হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার জন্য মহান আল্লাহর নিকটে ৭০টি কবুল হওয়া হজের সওয়াব রয়েছে’। (মেশকাতুল আনওয়ার ফি গুরারিল আখবার, পৃ. ৩১৬)।

(২৯৩) নবী করিম (সা.) বলেছেন, মিথ্যা হতে দূরে থাকো, কেননা মিথ্যা চেহারাকে কালো করে দেয়’। (মুস্তাদরাক, খণ্ড ২, পৃ. ১০০)।

(২৯৪) মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর নিকট বিবাহের মত প্রিয় কোনো বন্ধন ইসলাম ধর্মে নেই’। (মুস্তাদরাক, খণ্ড ২, পৃ. ৫৩১)।

(২৯৫) হজরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার স্বত্তাকে ভালবাসে, তার উচিত আমার সুন্নতের অনুসরণ করা, আমার পথে পথচলা। আর আমার সুন্নতের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিবাহ করা’। (মাকারেমুল আখলাক, পৃ. ১৯৬)।

(২৯৬) আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, কোনো নারীকে তার সৌন্দর্য্যের কারণে বিবাহ করো না, কেননা তার সৌন্দর্য তার নৈতিক অবনতির কারণ হতে পারে। একইভাবে তার সম্পদের দিকে দৃষ্টি রেখে তাকে বিবাহ করো না, কেননা তার সম্পদ তার ঔদ্ধ্যত্য ও অবাধ্যতার কারণ হতে পারে। বরং কোনো নারীকে তার ঈমানের কারণে বিবাহ করো’। (মাহাজ্জাতুল বাইদ্বা, খণ্ড ৩, পৃ. ৮৩)।

(২৯৭) রাসূলে আকরাম (সা.) বলেছেন, ‘গুনাহ হতে তওবা করা সর্বদা পছন্দনীয় কাজ, কিন্তু যুবক বয়সে এ কাজটি অধিক পছন্দনীয়’। (মাজমুয়াতুল ওয়ারাম, খণ্ড ২, পৃ. ১১৮)।

(২৯৮) নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘জ্ঞানী ব্যক্তিরা দুই প্রকারের: যে আলেম নিজের জ্ঞানের ওপর আমল করে তার জ্ঞান তার জন্য পরিত্রাণদাতা হয়। আর যে আলেম নিজের জ্ঞানকে ত্যাগ করে সে ধ্বংস হয়ে যায়’। (বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ২, পৃ. ৩৬)।

(২৯৯) মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, হে আবুযার! ওই ব্যক্তি কেয়ামতের দিন মহান আল্লাহর নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যে নিজের জ্ঞান হতে উপকৃত হয় না’। (লি-আলিল আখবার, পৃ. ১৬১)।

(৩০০) হজরত রাসূল (সা.) দেখলেন মসজিদে দু’টি দল বসে আছে; একট দল ইসলামি জ্ঞানচর্চায় ব্যস্ত এবং অপরটি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা ও মুনাজাতে ব্যস্ত। আল্লাহর নবী (সা.) বললেন, উভয় দলই আমার পছন্দের, কিন্তু জ্ঞানচর্চাকারী দলটি প্রার্থনায়রত দলটি অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। আর আমি মহান আল্লাহর পক্ষ হতে মানুষকে শিক্ষা দানের লক্ষ্যে প্রেরিত হয়েছি। অত:পর মহানবী (সা.) জ্ঞানচর্চাকারী দলটিতে যেয়ে বসলেন। (বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ১, পৃ. ২০৬)।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে