Alexa রাসূল (সা.) এর বাণী

ঢাকা, রোববার   ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২৩ ১৪২৬,   ১০ রবিউস সানি ১৪৪১

রাসূল (সা.) এর বাণী

পর্ব-১

প্রিয়ম হাসান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৫৬ ২০ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৯:২৮ ২৩ নভেম্বর ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

‘আল্লাহ ছাড়া কোনো প্রভু নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহ্‌র রাসূল।’ 

প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারা বিশ্বের রাসূল হিসেবে প্রেরিত হয়েছিলেন এবং পৃথিবীর সব জায়গায় ইসলামের আহ্বান পৌঁছে দেয়া তাঁর দায়িত্ব ছিল।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তায়ালার সর্বশেষ নবী। রাসূল (সা.) বলেন, ‘যে আমার আনুগত্য করল সে আল্লাহর আনুগত্য করল।’ (সহিহ বুখারী)।

দুনিয়াতে যারা আল্লাহর সর্বশেষ নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেখানো পথে চলবে, পরকালে তারাই জান্নাতে যাবে। তারাই জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। 

আমরা তাঁর উম্মত বা অনুসারী দল। আমরা তাঁর দেখানো পথে চলি। সঠিক পথ পাবার জন্যে তিনি আমাদের কাছে দু’টি জিনিস রেখে গেছেন। একটি হলো আল্লাহর কুরআন। আর অপরটি হলো তাঁর সুন্নত বা সুন্নাহ।

নবীর সুন্নাহ সম্পর্কে জানা যায় হাদিস থেকে। হাদিসের অনেকগুলো বড় বড় গ্রন্থ আছে। নবীর বাণীকে হাদিস বলে। নবীর কাজ কর্ম এবং চরিত্রের বর্ণনাকে ও হাদিস বলে।

নবীর সমর্থন এবং আদেশ নিষেধের বর্ণনাকেও হাদিস বলে। ইসলামের সত্য ও সঠিক পথকে জানাবার জন্যে আমাদেরকে আল্লাহর বাণী কোরআন মজিদকে বুঝতে হবে এবং মানতে হবে।

ঠিক তেমনি আমাদেরকে মহানবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী হাদিস পড়তে হবে এবং সে অনুযায়ী চলতে হবে।
তবেই মহান আল্লাহ খুশী হবেন আমাদের প্রতি। আমরা হতে পারবো সত্যিকার মুসলিম।

সে জন্যেই আমরা এখানে সংকলন করেছি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনেকগুলো হাদিস। এসো আমরা সবাই প্রিয় নবীর এই বাণীগুলো পড়ি এবং মেনে চলি।

আল্লাহ:

(১) জান্নাতের চাবি হলো – ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নাই’ এ সাক্ষ্য দেয়া। (আহমদ)।
শব্দার্থ : ‘ইলাহ’ মানে হুকুমকর্তা, আইনদাতা, আশ্রয়দাতা, ত্রাণকর্তা, উপাস্য, প্রার্থনা শ্রবণকারী।

(২) আল্লাহ সুন্দর! তিনি সৌন্দর্যকেই পছন্দ করেন। (সহিহ মুসলিম)।

(৩) শ্রেষ্ঠ কথা চারটি:
(ক) সুবহানাল্লাহ – আল্লাহ পবিত্র,
(খ) আল হামদুলিল্লাহ – সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর,
(গ) লা–ইলাহা ইল্লাল্লাহ – আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নাই,
(ঘ) আল্লাহু আকবর – আল্লাহ মহান। (সহিহ মুসলিম)।

আল্লাহর অধিকার:

(৪) বান্দাহর ওপর আল্লাহর অধিকার হলো, তারা কেবল তাঁরই আনুগত্য ও দাসত্ব করবে এবং তাঁর সঙ্গে কোনো অংশীদার বানাবে না। (সহিহ বুখারী)।

ঈমান:

(৫) বলো : ‘আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি ; অত:পর এ কথার ওপর অটল থাকো। (সহিহ মুসলিম)।

(৬) ঈমান না এনে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। (তারগীব)।

(৭) যে কেউ এই ঘোষণা দেবে: ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নাই আর মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর রাসূল’– আল্লাহ তাকে জাহান্নামের জন্যে নিষিদ্ধ করে দেবেন। (সহিহ বুখারী)।

ঈমান থাকার লক্ষণ:

(৮) তুমি মুমিন হবে তখন, যখন তোমার ভালো কাজ তোমাকে আনন্দ দেবে, আর মন্দ কাজ দেবে মনোকষ্ট। (আহমদ)।

ইসলাম:

(৯) সব কাজের আসল কাজ হলো ‘ইসলাম’। (আহমদ)।

(১০) কোনো বান্দাহ ততোক্ষণ পর্যন্ত মুসলিম হয় না, যতোক্ষণ তার মন ও জবান মুসলিম না হয়। (তাগরীব)।

পবিত্রতা:

(১১) পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। (সহিহ মুসলিম)।

(১২ ) যে পূত পবিত্র থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে পূত পবিত্র রাখেন। (সহিহ বুখারী)।

সালাত:

(১৩) সালাত জান্নাতের চাবি। (আহমদ)।
শব্দার্থ : সালাত –নামাজ। জান্নাত –বেহেশত।

(১৪ ) সালাত হলো ‘নূর’। (সহিহ মুসলিম)।

(১৫) সালাত আমার চক্ষু শীতলকারী। (নাসায়ী)।

(১৬) পবিত্রতা সালাতের চাবি। (আহমদ)।

(১৭) সালাত মুমিনদের মিরাজ। (মিশকাত)।
শব্দার্থ : মিরাজ মানে –উর্ধ্বে গমন করা বা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা।

(১৮) যে পরিশুদ্ধ হয় না, তার সালাত হয় না। (মিশকাত)।

(১৯) সাত বছর বয়স হলেই তোমাদের সন্তানদের সালাত আদায় কতে আদেশ করো। (আবু দাউদ)।

(২০) কেয়ামতের দিন পয়লা হিসাব নেয়া হবে সালাতের। (তাবরানি)।

(২১) আল্লাহর অনুগত দাস আর কুফরীর মাঝে মিলন সেতু হলো সালাত ত্যাগ করা। (সহিহ মুসলিম)।

(২২ ) যে ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্যে সালাত পড়ল, সে শিরক করল। (আহমদ)।

সাওম:

(২৩) সাওম একটি ঢাল। (মিশকাত)।
শব্দার্থ: সাওম –রোজা।

(২৪) সাওম এবং কোরআন বান্দার জন্যে সুপারিশ করবে। (বায়হাকী)।

(২৫) যখন রমজান শুরু হয়, তখন রহমতের দুয়ার খুলে দেয়া হয়। (সহিহ বুখারী)।

(২৬) তোমাদের মাঝে বরকতময় রমজান মাস এসেছে। আল্লাহ তোমাদের ওপর এ মাসের সিয়াম সাধনা ফরজ করে দিয়েছেন। (নাসায়ী)। 

হজ ও ওমরা:

(২৭) হজ ও ওমরা পালনকারীরা আল্লার মেহমান। (মিশকাত)।

আল্লাহর পথে জিহাদ:

(২৮) আল্লাহর পথে একটি সকাল কিংবা একটি সন্ধ্যা ব্যয় করা গোটা পৃথিবী এবং পৃথিবীর সমস্ত সম্পদের চেয়ে উত্তম। (সহিহ বুখারী)।

(২৯) যে লড়ে যায় আল্লাহর বাণীকে বিজয়ী করার জন্যে সেই আল্লাহর পথে ( জিহাদ করে )। (সহিহ বুখারী)।

(৩০) অত্যাচারী শাসকের সামনে সত্য কথা বলা সবচেয়ে বড় জিহাদ। (তিরমিযী)।

জ্ঞানার্জন:

(৩১) রাত্রে ঘন্টাখানেক জ্ঞান চর্চা করা সারা রাত জেগে (ইবাদতে নিরত) থাকার চেয়ে উত্তম। (দারমী)।

(৩২) যে জ্ঞানের সন্ধানে বের হয়, সে আল্লাহর পথে বের হয়। (তিরমিযী)।

(৩৩) আমার পরে সবচেয়ে বড় দানশীল সে, যে কোনো বিষয়ে জ্ঞান লাভ করল, অত:পর তা ছড়িয়ে দিল। (বায়হাকী)।

আল কোরআন:

(৩৪) সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব। (সহিহ মুসলিম)।

(৩৫) কোরআনকে আঁকড়ে ধরো, তাহলে কখনো বিপথগামী হবে না। (মিশকাত)।

(৩৬) কোরআন পরিবারের লোকেরা আল্লাহর পরিবার এবং তাঁর বিশেষ লোক। (নাসায়ী)।

(৩৭) তোমরা আল্লাহর কিতাবকে আঁকড়ে ধরো। এর হালালকে হালাল বলে গ্রহণ করো এবং এর হারামকে হারাম বলে বর্জন করো। (হাকিম)।

(৩৮) যে আল্লাহর কিতাবের পথ ধরে সে দুনিয়াতে বিপথগামী হয় না এবং পরকালে হয় না দুর্ভাগা। (মিশকাত)।

(৩৯) আমার উম্মতের সম্মানিত লোক হলো কোরআনের বাহক আর রাতের সাথীরা (বায়হাকী)।

রাসূল ও সুন্নাহ:

(৪০) সর্বোত্তম জীবন পদ্ধতি হচ্ছে মুহাম্মাদ (সা.) প্রদর্শিত পদ্ধতি। (সহিহ মুসলিম)।

(৪১) যে আমার আনুগত্য করল সে আল্লাহর আনুগত্য করল। (সহিহ বুখারী)।

(৪২) যে আমাকে অমান্য করল সে আল্লাহকে অমান্য করল। (সহিহ বুখারী)।

(৪৩) যে আমার সুন্নতকে ভালবাসলো সে আমাকে ভালবাসলো। (সহিহ মুসলিম)।

(৪৪) যে আমার সুন্নত থেকে বিমুখ হলো, সে আমার লোক নয়। (সহিহ মুসলিম)।

(৪৫ ) আমি আল্লাহর কাছে শেষ নবী হিসেবে লিখিত আছি। (শরহে সুন্নাহ)।

নিয়্যত:

(৪৬) কাজ নির্ভর করে নিয়্যতের ওপর। (সহিহ বুখারী)।
 নিয়্যত মানে -উদ্দেশ্য, সংকল্প, ইচ্ছা, কোনো নির্দিষ্ট কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়া।‘কাজ নির্ভর করে নিয়্যতের ওপর’ মানে কাজের পেছনে মানুষের যে উদ্দেশ্য, সংকল্প বা সিদ্ধান্ত থাকে, তার ভিত্তিতেই সে ফল ও পুরস্কার লাভ করবে।

(৪৭) প্রত্যেক ব্যক্তি তার কাজের সেই ফলই পাবে, যা সে নিয়্যত করেছে। (সহিহ বুখারী)।

(৪৮) আল্লাহ তোমাদের চেহারা সুরত ও ধনসম্পদ দেখবেন না, তিনি দেখবেন তোমাদের অন্তর ও কাজ। (সহিহ মুসলিম)।
এখানে অন্তর মানে -উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বা নিয়্যত।
এই তিনটি হাদিস থেকে আমরা মানব জীবনে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বা নিয়্যতের গুরুত্ব জানতে পারলাম। সুতরাং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যেই যাবতীয় কাজ করা উচিত।

নৈতিক চরিত্র:

(৪৯) মহৎ চরিত্রের পূর্ণতা দানের জন্যে আমার আগমন। (মুআত্তায়ে মালিক)।
শব্দার্থ:‘আখলাকুন’ও‘খুলুকুন’ মানে -নৈতিক চরিত্র, ব্যবহার, আচার আচরণ।

(৫০) উত্তম চরিত্রের চাইতে বড় মর্যাদা আর নেই। (ইবনে হিব্বান)।

(৫১) ঈমানের পূর্ণতা লাভকারী মুমিন তারা,যাদের নৈতিক চরিত্র সর্বোত্তম। (মিশকাত)।

(৫২) তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো মানুষ তারা, যাদের আচার ব্যবহার সবচেয়ে ভালো। (সহিহ বুখারী)।

(৫৩) আল্লাহর নবীর চরিত্র ছিল ঠিক কোরআনের মতো। (আয়েশা (রা.) (সহিহ মুসলিম)।

দ্বীন:

(৫৪) দ্বীন খুব সহজ। (সহিহ বুখারী)।
ব্যাখ্যা :দ্বীন মানে –জীবন যাপন পদ্ধতি।

এখানো দ্বীন মানে দ্বীন ইসলাম। অর্থাৎ ইসলামের জীবন যাপন পদ্ধতি খুব সহজ।

(৫৫) দ্বীন হলো– কল্যাণ কামনা। (সহিহ মুসলিম)।
দ্বীন ইসলামের মূল কথা হলো, নিজের এবং সকল মানুষের দুনিয়াবী ও পরকালীন কল্যাণ চাওয়া।

(৫৬ ) আল্লাহ যার ভালো চান, তাকে দ্বীনের সঠিক জ্ঞান দান করেন। (সহিহ বুখারী)।

চলবে...

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে