রাসূল (সা.) এর পাঁচ বিষয়ে ১ দোয়া

ঢাকা, শুক্রবার   ০৩ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২০ ১৪২৬,   ০৯ শা'বান ১৪৪১

Akash

রাসূল (সা.) এর পাঁচ বিষয়ে ১ দোয়া

মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ কাসেমী ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:০৭ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

দোয়া একটি বড় ইবাদাত। বিনয় ও নম্রতার উত্তম বহি:প্রকাশ। স্রষ্টা ও সৃষ্টির মাঝে সম্পর্ক ও সংযোগের অন্যতম মাধ্যম। চিন্তা, পেরেশানী ও  বিপদ থেকে মুক্তির কার্যকরী উপায়।

দোয়ার মতো মহামূল্যবান সম্পদ যার অর্জন হলো, তার উভয় জগতের সফলতা অর্জন হয়ে গেল। আল্লাহর সন্তুষ্টির সার্টিফিকেট তার হস্তগত হয়ে গেল। এটা তো সেই শাহী ফরমান, যা কঠিন ও অস্বাভাবিক  পরিস্থিতিতে বিপদ, হতাশাগ্রস্থ  মানুষকে সাহায্য করে। এটা তো সেই হাতিয়ার, যার দ্বারা বান্দা তার প্রতিপালকের রহমত ও অনুগ্রহ লাভ করতে পারে। জীবনযাত্রায় কামিয়াবী ও সফলতার রাজপথে পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।

আল্লাহ তায়ালা নিজ বান্দাদেরকে দোয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর দোয়া বিমুখ লোকদেরকে কঠিন শাস্তির ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘তোমাদের প্রতিপালক বলেছেন, আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের  দোয়া কবুল করবো, নিশ্চয় যারা অহংকার বশত আমার ইবাদাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তারা অপদস্ত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। (সূরা: গাফির, আয়াত: ৬০)।

রাসূলে করিম (সা.) উম্মতকেও আল্লাহর নিকট দোয়া করার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। এ বিষয়ে উম্মতকে সুস্পষ্ট হেদায়েত ও নির্দেশনা প্রদান করেছেন। আল্লাহর নবী (সা.) ছিলেন ইবাদাত-বন্দেগীর প্রতিচ্ছবি, বিনয় ও নম্রতার সর্বোত্তম আদর্শ। তিনি আল্লাহর নিকট খুব দোয়া করতেন। রাসূলের (সা.) সমস্ত দোয়াকে মুহাদ্দিসীনে কেরাম সংরক্ষিত রেখেছেন। এবং অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সঙ্গে উম্মত পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন। সেসব দোয়া কি? সেগুলো একদিকে আল্লাহর শরিকহীন একাত্ববাদের ও বড়ত্বের শানের বর্ণনা। অপরদিকে রাজাধিরাজের দরবারে বান্দার হীনতা ও অক্ষমতার প্রকাশ। 

একদিকে বিশ্বস্রষ্টার গুণ-প্রশংসার উত্তম সমন্বয়, অপরদিকে সব ত্রুটি-বিচ্যুতির অকপট স্বীকারোক্তি। দোয়াগুলো সংক্ষিপ্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাৎপর্যপূর্ণ ও ব্যাপক অর্থবোধক। দুনিয়া-আখেরাত উভয়জগতের কল্যাণসমূহকে শামিল করেছে রাসূলের দোয়া সমুহ। তাছাড়া তাঁর দোয়া অলংকার শাস্ত্রের অন্যতম উৎস। ছোট ছোট বাক্যের মজবুত গাঁথুনী এবং উপমা ও রূপকথার মাধুর্যতা এতোই বেশি যে, তা আররি সাহিত্যিকদের খোরাক যোগায়।

রাসূলে (সা.) আল্লাহর দরবারে একটি দোয়া বেশি পরিমাণে করতেন, যা কানযুল উম্মাল কিতাবে রয়েছে-

উচ্চারণ- ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা আস সিহ্হাতা ওয়াল ইফ্ফাতা ওয়াল আমানাতা ওয়া হুসনুল খুলুকি ওয়া রিযা বিল কাদরি।’ 

‘হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট সুস্থতা, চারিত্রিক পবিত্রতা, আমানতদারিতা ও উত্তম চরিত্র এবং তাকদিরের প্রতি সন্তুষ্টির গুণ কামনা করছি।’ (সূত্র: কানযুল উম্মাল- হাদিস নম্বর: ৩৬৫০)।

এই সংক্ষিপ্ত দোয়ায় আল্লাহর নবী পাঁচটি বিষয় প্রার্থনা করেছেন। এক. সুস্থতা। আর সুস্থতা আল্লাহ তায়ালার এক মহা নিয়ামত। এটা এমন এক নিয়ামত, পৃথিবীতে যার কোনো বিকল্প নেই। সুস্থতা ও চারিত্রিক পবিত্রতা পৃথিবীর সব মানুষকে পুলোকিত করে। অন্তর ও দেমাগকে আনন্দ ও সতেজতা দান করে। যদি কেউ সুস্থতার নিয়ামত থেকে বিরত হয়, তাহলে এ বিশ্ব চরাচরের প্রশস্ততা, আকর্ষণীয় দৃশ্যাবলী তার কাছে সংকীর্ণ ও অন্ধকারাচ্ছন্ন  মনে হয়। এ জন্য আল্লাহর নবী (সা.) এই মহামূল্যবান নিয়ামত আল্লাহর নিকট কামনা করেছেন। উম্মতকেও শিক্ষা দিয়েছেন। এক রেওয়ায়েতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা.) এক অসুস্থ সাহাবিকে দেখতে যান, উপস্থিত হয়ে দেখেন, তার শরীরের একটি অঙ্গ নিথর হয়ে পড়ে আছে। তখন রাসূল (সা.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন,  তুমি কি আল্লাহর নিকট সুস্থতার দোয়া কর না? সাহাবী উত্তর দিলেন, আমি এই দোয়া করি যে, হে আল্লাহ! আপনি আখেরাতে আমাকে যে শাস্তি দেবেন, সেটা দুনিয়াতে দিয়ে দিন। রাসূল (সা.) বললেন, সুবহানাল্লাহ! তুমি কি সেই শাস্তি সহ্য করতে পারবে? বরং তুমি আল্লাহর নিকট এই দোয়া কর, হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ দান করুণ! এবং আমাকে জাহান্নাম থেকে হেফাজত করুণ!

যেমনিভাবে  বান্দার উচিৎ আল্লাহর নিকট সুস্থতার দোয়া করবে, ধ্বংসাত্মক রোগব্যাধি থেকে হেফাজতের দোয়া করবে। তেমনিভাবে শরয়ী কর্তব্য হলো, সুস্থতার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং এমন বিষয় থেকে বেচেঁ থাকবে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক।
বর্তমানে আমাদের সমাজে এমন অনেক বিষয়ের সয়লাব হচ্ছে, যা মানুষের স্বাস্থ্যকে বিনষ্ট করে দেয়। শরীরকে খোলসে পরিণত করে। যেমন- মদ, সিগারেট,তামাক ইত্যাদি নেশা জাতীয় বস্তু। এগুলো আমাদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। ধনী-দরিদ্র, নারী-পুরুষ, যুবক-বৃদ্ধ প্রত্যেকেই এগুলোতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। নতুন প্রজন্মও আসক্ত হচ্ছে। পরিত্রাণের চেষ্টাও করা হচ্ছে না। 

এক রিপোর্টে জানা যায়, বিশ্বের ৮০% নেশা সেবন হয় উন্নত দেশগুলোতে। নেশাগ্রস্থদের ৬০% পনেরো থেকে ত্রিশ বছর বয়সী। যার দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, নেশার লানত কীভাবে আমাদের যুব সমাজ ও অনাগত প্রজন্মের জন্য মৃত্যুবিষে পরিণত হচ্ছে। এটা খুবই পরিতাপের বিষয়। যা এখনি সংশোধনের দাবি রাখে। এই নাজুক পরিস্থিতিতে পিতা-মাতার দায়িত্ব হলো, নিজের সন্তানদেরকে নেশা জাতিয় বস্তু থেকে দূরে রাখা। নেশাখোর বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে নিষেধ করা বা বাধাঁ দেয়া। নেশা থেকে সৃষ্ট রোগ ও অশুভ পরিণতির ব্যাপারে সতর্ক করা। এ বিষয়ে কোনরূপ ছাড় না দেয়া।

সতীত্বতা ও চারিত্রিক পবিত্রতা: আল্লাহর নবী (সা.) দ্বিতীয় যে দোয়া করেছেন এবং উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন। তা হলো, সতীত্বের হেফাজত ও চারিত্রিক পবিত্রতা। এটা মহা মূল্যবান একটি দৌলত। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম। সেই অমূল্য রতন, যা মানুষকে মুত্তাকী ও পরহেজগার বানায়। হাশরের ময়দানে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ও কেয়ামতের বিভীষিকাময় আজাব থেকে হেফাজত করে। চারিত্রিক পবিত্রতার অর্থ হলো, ব্যক্তি নিজের খাহেশাত তথা প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ রাখবে। জিনা ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকবে। ভুল ও হারাম ক্ষেত্রে প্রবৃত্তির ব্যবহার করবে না। আজকের এই খারাপ সময়ে পশ্চিমা সভ্যতার কালো থাবা আমাদের সমাজকে গ্রাস করছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ইসলামী সভ্যতামুক্ত হয়ে আমাদের সমাজ।

ফলে অনেক অপরাধ ও অশ্লীলতার সয়লাব হচ্ছে। যার কারণে ইসলামী সভ্যতা ও সংস্কৃতি ধারণ করে সমাজে চলাফেরা করা মুশকিল। বাড়ির চার দেয়াল থেকে বের হলেই চোখে পড়ে অশালীন নারীর বিচরণ। অপরদিকে সাজ-সজ্জায়পূর্ণ রূপের ঝলকানী। পর্দাহীন অবাধে মেলামেশার দৃশ্য। কুরুচিপূর্ণ গানের বাজনা। ঘরে ঘরে টিভি, ইন্টারনেট পৌঁছে গেছে। এন্ড্রোয়েট মোবাইল ও ওয়াইফাই কানেকশন সবখানে। আল্লাহ তায়ালা হেফাজত করুন ও নিরাপদ রাখুন! উত্তম চরিত্রের পরিচয়ই পাল্টে গেছে। অন্তর ও নজরের পবিত্রতা বিনষ্টে এমন চক্রান্ত করা হয়েছে যে, ঈমান ও বিশ্বাসের ভিত্তিসমূহ নড়বড়ে হয়ে গেছে। যুব সমাজ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। যেসব চেহারায় ঈমান ও ইয়াকিনের নুর জলমল করার কথা ছিল, সেসব চেহারা আজ স্বার্থপর ব্যর্থ ভালোবাসার সাক্ষ্য দিচ্ছে। যেসব দিল-দেমাগে ইশকে এলাহী ও আল্লাহর জিয়ারতের তামান্না বিরাজমান থাকার কথা ছিল, সেসব চেহারা আজ অগণিত প্রেমিকা আর রূপবতীর আফসোসের কেন্দ্র। যা খুবই আফসোসের বিষয়। তা প্রতিটি সচেতন মুসলিমকে চিন্তিত ও ব্যথিত করছে। চারিত্রক উৎকর্ষতা অর্জন করতে হলে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে দৃষ্টি ও অন্তর হেফাজতের প্রতি। মানুষ যদি পরনারী থেকে নিজের নজর হেফাজত করে আর যৌবনকালে অন্তরে যেসব অশুভ চিন্তা-ভাবনা জন্মায়, সেগুলো থেকে নিজের অন্তরাত্মাকে পরিষ্কার ও পবিত্র রাখতে পারে, তাহলে এমন ব্যক্তির জন্য চরিত্র ঠিক রাখা খুবই সহজ। এই কারণেই আল্লাহ তায়ালা মুসলিম নর-নারীকে দৃষ্টি অবনত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। (সূরা: নুর, আয়াত: ৩০)। 

আল্লাহর নবী (সা.) নজর হেফাজতকারীকে সুসংবাদ দিয়েছেন। আর কুদৃষ্টিকে বলেছেন, শয়তানের বিষমিশ্রিত তীর। যা মানুষের ঈমান ও ইয়াকিনের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। ইবাদাতের স্বাদ ও আগ্রহ বিনষ্ট করে। বিশিষ্ট বুজুর্গ খাজা আজীজুল হাসান মাজযুব (রহ.) বলতেন, যখন কোনো রূপসীর প্রতি হঠাৎ দৃষ্টি পড়ে যায়, তখন তার গণ্ডদেশের লালিমাকে জাহান্নামের আগুন মনে করে বলো! রাব্বানা ওয়াকিনা আজাবান্নার (হে আল্লাহ! আপনি আমায় দোজখের আগুন থেকে মুক্তি দান করুন!) এবং আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা কর।

আমানতদারিতা: তৃতীয় দোয়া যা আল্লাহর নবী (সা.) করেছেন এবং উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন। সেটা হলো –আমানতদারিতা।  শব্দটি তাৎপর্যপূর্ণ ও ব্যাপক অর্থবোধক। মানুষ যদি এর মর্ম পরিপূর্ণভাবে বুঝে এবং সে অনুযায়ী আমল করে, তাহলে তার পুরো জীবন ইসলামের আলোয় আলোকিত হবে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই তার জীবনের লক্ষ্য হবে। আমানতদারিতার অর্থ শুধু এটা নয় যে, কেউ আপনার নিকট কোনো মূল্যবান বস্তু আমানত রাখলো, আর আপনি সেটা হুবহু ফিরিয়ে দিলেন। এটাও আমানতদারিতার অন্তর্ভূক্ত যে,  শরীয়তের সব বিধান নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করবে। ইসলামের আদেশ-নিষেধ মানার ক্ষেত্রে কোনোরূপ ত্রুটি করবে না। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে যে শরীর, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা দান করেছেনে। চাওয়া ব্যতীতই নাক, কান, চোখসহ সুস্থ সবল অঙ্গ-প্রতঙ্গ দান করেছেন, সেগুলোকে আল্লাহর আনুগত্যে ব্যবহার করাও আমানতদারিতা। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে হারাম বস্তু ও বিষয় থেকে দূরে রাখুন! অন্যের হক সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বস্তুর হেফাজত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং তা হকদারের নিকট পৌঁছে দেয়াও আমানত। অন্যের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা ও তার হক নষ্ট করা খেয়ানত। মোটকথা আমানতদারিতার মর্ম অত্যন্ত ব্যাপক ও তাৎপর্যময়।

উত্তম চরিত্র: উত্তম চরিত্র হলো পরপিূর্ণ ঈমানের পরিচায়ক। ইসলাম ও মুসলমানের বৈশিষ্ট্য। জান্নাতে যাওয়ার সহজ মাধ্যম। আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের বড় উপায়।  উত্তম চরিত্র সেই মহামূল্যবান অলংকার যে, তাতে সজ্জিত ব্যক্তিকে রাসূল (সা.) এর প্রিয় হওয়ার সৌভাগ্যের কথা বলা হয়েছে। কেয়ামত দিবসে রাসূলের নৈকট্যশীল হওয়ার সুসংবাদ দেয়া হয়েছে। এটা তো সেই মহাগুণ, যার পূর্ণতার জন্য রাসূল (সা.)-কে প্রেরণ করা হয়েছে। এটাকে কামেল ঈমানের মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। উত্তম চরিত্রবান ও ভালো কাজের মানুষ স্রষ্টা ও সৃষ্টি সবার নিকটই প্রিয়পাত্র ও গ্রহণযোগ্য হয়ে থাকে। সমাজের লোকদের কেন্দ্রবিন্দু ও অনুসরণীয় হয়ে থাকে। শত্রু-মিত্র সবার ভালোবাসা পেয়ে থাকে। উত্তম চরিত্র সেই অলংকার, যা মানুষকে করে  সৌন্দর্যমণ্ডিত। অন্য সবাই তার প্রতি ঝুঁকে ও তার কথা গুরুত্বের সঙ্গে শুনে। 

বর্তমানে সামগ্রিকভাবে আমাদের মুসলমানদের থেকে চরিত্রের মূল্যবান অলংকার বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। দায়িত্ববোধের গুরুত্ব ও ব্যক্তিত্বের গাম্ভীর্যতা আমাদের থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। ধৈর্যশীলতা, সহনশীলতা ও একে অন্যকে সহ্য কারার বা মেনে নেয়ার গুণ কমে  যাচ্ছে। সহানুভূতী, সহযোগিতা, ভ্রাতৃত্ব ও মুহাব্বত আমাদের সমাজ থেকে দূর হয়ে যাচ্ছে। বিপদে ধৈর্যধারণ, নীরবে নিভৃতে অন্যকে সহযোগিতা করার স্বভাব নেই বললেই চলে। ফলে একদিকে পারস্পরিক ঝগড়া বিবাদ বাড়ছে, অন্য ভাইয়ের ত্রুটি অনুসন্ধান করা হচ্ছে, মুসলিম ভাইয়ের ইজ্জত নষ্ট করা হচ্ছে, অতি সাধরণ বিষয়ে স্বয়ং দ্বীনি ভাইয়ের ব্যাপারেও অন্তরে ঘৃণা, বিদ্বেষ পোষণ করা হচ্ছে। অপরদিকে আমাদের এই করুণ অবস্থার  কারণে অন্যরা হাসার সুযোগ পাচ্ছে। ইসলাম ও মুসলমানদের ব্যাপারে ভুল ও নেতিবাচক সংবাদ ছড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে মানুষ ইসলাম ধর্ম থেকে দূরে অবস্থান করছে। 

আল্লাহর নবীর আনীত শ্রেষ্ঠ ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা বা চিত্র অমুসলিমদের দিল-দেমাগে বসানো হচ্ছে। সুতরাং আমাদের দ্বীনি ও জাতীয় দায়িত্ব হলো, আমরা আল্লাহর নিকট উত্তম চরিত্রের মহাদৌলত চাইবো, এবং নিজেকে চারিত্রিক উৎকর্ষতা ও দায়িত্বশীলতার গুণে গুণান্বিত করবো। এ জন্য কোনো আল্লাহ ওয়ালা, সাহেবে নিসবত বুজুর্গের সংস্পর্শে থাকা। নিজের আমলী ও আখলাকী তথা চারিত্রিক ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করতে ধারাবাহিক কার্যকর মেহনত চালিয়ে যাওয়া।

তাকদিরের ওপর রাজি থাকা: পঞ্চম ও সর্বশেষ, দোয়া যা আল্লাহর নবী (সা.) করতেন এবং উম্মতকেও শিক্ষা দিয়েছেন । সেটা হলো তাকদিরের ওপর সন্তুষ্ট থাকা। তাদিরের ওপর সন্তুষ্ট থাকার অর্থ হলো, যখন কোনো মানুষের ভালো ও আনন্দের বিষয় অর্জন হয়, তখন আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করা। আর মনে করা এই ভালো অবস্থা আমার কোনো শক্তি বা যোগ্যতার কারণে হয়নি, এতে আমার চিন্তা-চেতনা, মেধা যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার কোনো দখল নেই। বরং তা কেবলমাত্র আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ। যা তিনি আমাকে দান করেছেন।  কোনোরূপ অধিকার ছাড়াই। 

ফলে আমি অন্যের তুলনায় মর্যাদাবান হয়েছি। সুতরাং এখন আমার দায়িত্ব হলো, শরীয়তের গণ্ডিতে অবস্থান করে আল্লাহর নিয়ামত দ্বারা উপকৃত হওয়া। এবং আল্লাহর বান্দাদেরকে উপকার করা। আর যদি কোনো বিপদ আসে, কঠিন ও মনোক্ষুণ হওয়ার কোনো বিষয়ের সম্মুখীন হয়, তাহলে ধৈর্য ধারণ করা, তা থেকে মুক্তির জায়েয কোনো পন্থা অবলম্বন করা। হাউ মাউ করে কাঁদা, বুক চাপড়ানো, অস্থির হয়ে পড়া, এগুলো রিযা বিল কাযার (তাকদিরের ওপর সন্তুষ্টির) পরিপন্থী। এটাও তাকদিরের ওপর সন্তুষ্টির পরিপন্থী যে, বিপদ ও পেরেশানীতে মুক্তির আশায় হারাম ও নাজায়েয উপায়ের সাহায্য নেয়া। যেমন, গণক, যাদুকরের নিকট যাওয়া, তাদের কথাকে সত্য মনে করা, তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করা। এসব বিষয় তাকদিরের প্রতি ঈমান না আনার পরিচায়ক। অনুরূপভাবে কঠিন পরিস্থিতির শিকার হয়ে ফাঁসিতে  ঝুলাও  তাকদিরের ওপর সন্তুষ্টির পরিপন্থী।

সংগ্রহ : নুসরাত জাহান

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে