Alexa রাসূল (সা.) এর চিকিৎসা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২২ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৬ ১৪২৬,   ২২ সফর ১৪৪১

Akash

রাসূল (সা.) এর চিকিৎসা

প্রিয়ম হাসান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১৭ ৭ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৬:১৮ ৭ অক্টোবর ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

হৃদয়কে আক্রমন করে এমন দুই প্রকার রোগ হলো (১) অবিশ্বাস ও বিভ্রান্তি এবং (২) তীব্র কামনা-বাসনা। 

এ দু‘টি বিষয় পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে। সন্দেহ বা অবিশ্বাস সম্বন্ধে মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা বলেন,

فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ فَزَادَهُمُ اللّهُ مَرَضاً وَلَهُم عَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْذِبُونَ

(১) ‘তাদের অন্তঃকরণ ব্যধিগ্রস্ত আর আল্লাহ তাদের ব্যধি আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন। বস্তুতঃ তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে ভয়াবহ আযাব, তাদের মিথ্যাচারের দরুন।’ (সূরা: আল বাকারা, আয়াত: ১০) 

وَمَا جَعَلْنَا أَصْحَابَ النَّارِ إِلَّا مَلَائِكَةً وَمَا جَعَلْنَا عِدَّتَهُمْ إِلَّا فِتْنَةً لِّلَّذِينَ كَفَرُوا لِيَسْتَيْقِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ وَيَزْدَادَ الَّذِينَ آمَنُوا إِيمَانًا وَلَا يَرْتَابَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ وَالْمُؤْمِنُونَ وَلِيَقُولَ الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ وَالْكَافِرُونَ مَاذَا أَرَادَ اللَّهُ بِهَذَا مَثَلًا كَذَلِكَ يُضِلُّ اللَّهُ مَن يَشَاء وَيَهْدِي مَن يَشَاء وَمَا يَعْلَمُ جُنُودَ رَبِّكَ إِلَّا هُوَ وَمَا هِيَ إِلَّا ذِكْرَى لِلْبَشَرِ

(২) ‘আমি তাদেরকে করেছি জাহান্নামের প্রহরী। কাফেরদের পরীক্ষা স্বরুপ। আমি তাদের এই সংখ্যা উল্লেখ করেছি যাতে কিতাবীদের দৃঢ় প্রত্যয় জন্মে, বিশ্বাসিদের বিশ্বাস বর্ধিত হয় এবং বিশ্বাসীরা ও কিতাবীরা সন্দেহ পোষণ না করে। এর ফলে যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে তারা ও কাফেরেরা বলবে যে, আল্লাহ এই অভিনব উক্তি দ্বারা কী বুঝাতে চেয়েছেন? এভাবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথ নির্দেশ করেন। তোমার রবের বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনি জানেন। এটা তো মানুষের জন্য সাবধান বানী।’ (সূরা আল মুদ্দাসসির ৭৪, আয়াত: ৩১)

যারা কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী নিজেদের বিচার-ফাইসালা করতে অস্বীকার করে তাদের উদ্দেশে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَإِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ إِذَا فَرِيقٌ مِّنْهُم مُّعْرِضُونَ

وَإِن يَكُن لَّهُمُ الْحَقُّ يَأْتُوا إِلَيْهِ مُذْعِنِينَ

أَفِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ أَمِ ارْتَابُوا أَمْ يَخَافُونَ أَن يَحِيفَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَرَسُولُهُ بَلْ أُوْلَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ

(৩)‘আর যখন তাদেরকে ফাইসালা করে দেয়ার জন্য আহ্বান করা হয় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে তখন তাদের একদল মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর সত্য তাদের স্বপক্ষে হলে তারা বিনীতভাবে রাসূলের নিকট ছুটে আসে। তাদের অন্তরে কী ব্যাধি আছে, না তারা সংশয় পোষণ করে, না কী তারা ভয় করে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাদের প্রতি যুলুম করবেন? বরং তারাই তো যালিম।’ (সূরা: আন-নূর সূরা ২৪, আয়াত: ৪৮-৫০)  

এটিই সন্দেহ এবং বিভ্রান্তি জনিত অসুস্থতা। তীব্র কামনা-বাসনা থেকেই ব্যভিচারের উদ্ভব ঘটে।  এ সম্পর্কে আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা বলেন,

يَا نِسَاء النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِّنَ النِّسَاء إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَّعْرُوفًا

‘হে নবী-পত্নীরা! তোমরা অন্য নারীদের মতো নও। যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো তাহলে পর-পুরুষের সঙ্গে কোমল কন্ঠে এমন ভাবে কথা বল না যাতে অন্তরে যার ব্যাধি রয়েছে সে প্রলুব্ধ হয় এবং তোমরা ন্যায় সঙ্গত কথা বলবে।’ (সূরা: আল আহযাব-৩৩, আয়াত: ৩২)

দেহ আক্রমণকারী পীড়াসমূহ- আল্লাহ তায়ালা বলেন,

لَيْسَ عَلَى الْأَعْمَى حَرَجٌ وَلَا عَلَى الْأَعْرَجِ حَرَجٌ 

‘অন্ধের জন্য দোষ নেই, খোঁড়ার জন্য দোষ নেই, আর দোষ নেই রুগীর জন্য’ (সূরা: আন-নূর- ২৪, আয়াত: ৬১) 

আয়াতের বক্তব্যটি হজ, সিয়াম ও পবিত্রতা (ওযু, গোসল) অর্জনের সময় ব্যক্তির পীড়া-কষ্ট বৃদ্ধি পেলে এমন পরিস্থিতিতে করণীয় সংক্রান্ত।

যারা কোরআন বুঝতে এবং অনুধাবন করতে পারেন, আল্লাহ তায়ালার প্রেরিত মহাগ্রন্থ কোরআনে নিহিত অপরিসীম জ্ঞান ও মহিমা প্রত্যক্ষ করার জন্য তাদের উক্ত আয়াতটি যথেষ্ঠ।

চিকিৎসা বিজ্ঞান ৩টি মূল নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত: (১) সুস্বাস্থ, (২) রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা,(৩) পরিস্কর-পরিচ্ছন্ন থাকা।

হজ করা, সিয়াম পালন ও পবিত্রতা অর্জনের সময় নিম্নলিখিত নীতিসমূহ আল্লাহ তায়ালা কোরআনে উল্লেখ করেছেন,

أَيَّامًا مَّعْدُودَاتٍ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ فَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ وَأَن تَصُومُواْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ

‘গণনার কয়েকটি দিনের জন্য অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে, অসুখ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তার পক্ষে অন্য সময়ে সে রোজা পূরণ করে নিতে হবে। আর এটি যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্ট দায়ক হয়, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্যদান করবে। যে ব্যক্তি খুশীর সঙ্গে সৎকর্ম করে, তা তার জন্য কল্যাণ কর হয়। আর যদি রোজা রাখ, তবে তোমাদের জন্যে বিশেষ কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পার।’ (সূরা: আল বাকারা-২, আয়াত: ১৮৪)

অসুস্থতার কারণে সিয়াম পালন করা থেকে বিরত থাকা যাবে বা সিয়াম ভঙ্গ করা যাবে, আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে এ অনুমতি দিযেছেন। ভ্রমণকালীন সময়েও আল্লাহ তায়ালা সিয়াম ভঙ্গ করার অনুমতি দিয়েছেন যেন ভ্রমনকালে ভ্রমণকারী হীনবল হয়ে না যায়। ভ্রমনকালে ভ্রমণকারী শারীরিক দিক দিয়ে খুবই দুর্বল হয়ে পড়ে। শরীর সবল রাখার জন্য পুষ্টির প্রয়োজন হয়। এ জন্য শরীর সবল রাখার ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা সিয়াম পালন করা থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছেন। 
আল্লাহ সুবাহানু তায়ালা বলেন,

وَأَتِمُّواْ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلّهِ فَإِنْ أُحْصِرْتُمْ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ وَلاَ تَحْلِقُواْ رُؤُوسَكُمْ حَتَّى يَبْلُغَ الْهَدْيُ مَحِلَّهُ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضاً أَوْ بِهِ أَذًى مِّن رَّأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِّن صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ فَإِذَا أَمِنتُمْ فَمَن تَمَتَّعَ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلاثَةِ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعْتُمْ تِلْكَ عَشَرَةٌ كَامِلَةٌ ذَلِكَ لِمَن لَّمْ يَكُنْ أَهْلُهُ حَاضِرِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَاتَّقُواْ اللّهَ وَاعْلَمُواْ أَنَّ اللّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ

‘আর তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ ওমরাহ পরিপূর্ণ ভাবে পালন কর। যদি তোমরা বাধা প্রাপ্ত হও, তাহলে কোরবানীর জন্য যা কিছু সহজলভ্য, তাই তোমাদের ওপর ধার্য। আর তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত মাথা মুন্ডন করবে না, যতক্ষণ না কোরবাণী যথাস্থানে পৌছে যাবে। যারা তোমাদের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়বে কিংবা মাথায় যদি কোনো কষ্ট থাকে, তাহলে তার পরিবর্তে রোজা করবে কিংবা খয়রাত দেবে অথবা কোরবানী করবে। আর তোমাদের মধ্যে যারা হজ ওমরাহ একত্রে একই সঙ্গে পালন করতে চাও, তবে যাকিছু সহজলভ্য, তা দিয়ে কোরবানী করাই তার ওপর কর্তব্য। বস্তুতঃ যারা কোরবানীর পশু পাবে না, তারা হজের দিনগুলোর মধ্যে রোজা রাখবে তিনটি আর সাতটি রোজা রাখবে ফিরে যাবার পর। এভাবে দশটি রোজা পূর্ণ হয়ে যাবে। এ নির্দেশটি তাদের জন্য, যাদের পরিবার পরিজন মসজিদুল হারামের আশে-পাশে বসবাস করে না। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক। সন্দেহাতীতভাবে জেনো যে, আল্লাহর আযাব বড়ই কঠিন।’ (সূরা: আল বাকারা-২, আয়াত: ১৯৬)

অসুস্থতা এবং ইহরাম অবস্থায় মাথা মুন্ডন নিষিদ্ধ। কিন্ত কোনো পীড়া, উঁকুন কিংবা মাথার অন্যান্য যন্ত্রণাদায়ক পীড়ার জন্য ইহরাম অবস্থায়ও মাথা মুন্ডনের অনুমতি আল্লাহ সুবাহানু তায়ালা বান্দাকে দিয়েছেন। মাথা মুন্ডনে ক্ষতিকর উপাদানগুলো দূর হয় ও পরিচ্ছন্ন হয় এবং পীড়া-কষ্ট বৃদ্ধির কারণসমূহ দূর হয়। এটি ক্ষতিকর কোনো কিছু থেকে মুক্ত হওয়ার একটি উদাহরণ। ইহরাম অবস্থায় মাথা মুন্ডনের ব্যবস্থা নিষেধাজ্ঞা থেকে অধিক গ্রহণযোগ্য।

দেহের ক্ষতিকর কারণগুলোর মধ্যে নিম্নের ১০টি বিষয় প্রধান: 
(১) ঘিঞ্জি,সংকীর্ণ ও অপর্যাপ্ত আলো-বাতাস, (২) উত্তেজিত রক্ত, (৩) বীর্যাধিক্য, (৪) মূত্র, (৫) দেহের বর্জ্য নিঃসরণ, (৬)বায়ু,(৭) বমি, (৮) হাঁচি, (৯) ঘুম এবং (১০)ক্ষুৎ-পিপাসা।

এ দশটি বিষয় যখন সন্তোষজনক বা যথা নিয়মে থাকবে না তখনই কোনো ব্যক্তি পীড়াগ্রস্থ হয়। যেমন ঘুম সংক্রান্ত বিষয়টি একটি নির্দিষ্ট অসুস্থতার কারণ।

আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে মাথা মুন্ডন করে মাথা থেকে ক্ষতিকর উপাদানসমূহ দূর করার অনুমতি দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালার এ অনুমতি বান্দাকে প্রেরণা যোগায় এবং অন্যান্য অসুখের কারণগুলো দূর করতে অভ্যস্ত হয়, কোনো বিষয়ে সতর্ক পর্যবেক্ষণে, যেমন- খাদ্র অথবা অন্য কোনো বিষয়ে সংযম ইত্যাদিতে উৎসাহিত হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تَقْرَبُواْ الصَّلاَةَ وَأَنتُمْ سُكَارَى حَتَّىَ تَعْلَمُواْ مَا تَقُولُونَ وَلاَ جُنُبًا إِلاَّ عَابِرِي سَبِيلٍ حَتَّىَ تَغْتَسِلُواْ وَإِن كُنتُم مَّرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاء أَحَدٌ مِّنكُم مِّن الْغَآئِطِ أَوْ لاَمَسْتُمُ النِّسَاء فَلَمْ تَجِدُواْ مَاء فَتَيَمَّمُواْ صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُواْ بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ إِنَّ اللّهَ كَانَ عَفُوًّا غَفُورًا

‘হে ঈমাণদারগণ! তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাক, তখন নামাজের ধারে-কাছেও যেওনা, যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও যা কিছু তোমরা বলছ, আর (নামাজের কাছে যেও না) ফরজ গোসলের আবস্থায়ও যতক্ষণ না গোসল করে নাও। কিন্তু মুসাফির অবস্থার কথা স্বতন্ত্র আর যদি তোমরা অসুস্থ হয়ে থাক কিংবা সফরে থাক অথবা তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি প্রস্রাব-পায়খানা থেকে এসে থাকে কিংবা নারী গমন করে থাকে, কিন্তু পরে যদি পানিপ্রাপ্তি সম্ভব না হয়, তবে পাক-পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও-তাতে মুখমন্ডল ও হাতকে ঘষে নাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা ক্ষমাশীল।’ (সূরা: আন নিসা-৪, আয়াত: ৪৩)

সালাত সম্পাদানের পূর্বে পবিত্রতা (ওজু) অর্জনের জন্য অসুস্থ ব্যক্তির জন্য পানির পরিবর্তে পবিত্র মাটি দ্বারা পবিত্রতা (তায়াম্মুম) অর্জনের অনুমতি আল্লাহ সুবাহানু তায়ালা বান্দাকে দিয়েছেন। ফলে রুগ্ন ব্যক্তি পানি ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক থেকে রক্ষা পায়। এ আয়াত দ্বারা সর্বপ্রকার পূর্ব-সতর্কতা বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (খাদ্য ইত্যাদি) প্রতিষ্ঠিত হলো যা ওই সমস্ত ক্ষতিকর বস্তু থেকে দেহকে রক্ষা করে যেগুলো সে গ্রহণ করে কিংবা তার দেহে উৎপাদিত হয়।

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য!

উপরে উল্লিখিত চিকিৎসা বিজ্ঞানের ওই ৩টি মূল নীতির ওপর আল্লাহ তায়ালা গুরুত্ব দিয়েছেন।

আমরা কিছু ঘটনা বর্ণনা করব ও উদাহরণ দিব যা প্রচলিত অণ্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির চেয়ে নবী (সা.) প্রদত্ত আরোগ্য পন্থা অতি উত্তম, সহজবোধ্য এবং সহজসাধ্য।

হৃদরোগ চিকিৎসায় (আধ্যাত্নিক বা ভাবাবেগের কারণে) একমাত্র নবী (সা.) এর চিকিৎসা পদ্ধতিতেই যথাযত প্রতিরোধক ব্যবস্থা বিদ্যমান। হৃদয় যখন তার রব্ব, তার স্রষ্ঠা,তাঁর গুনবাচক সুন্দর নামসমূহ, তাঁর নিয়ামাতসমূহ, মহান কার্যপরিধি এবং বিধি-নিষেধ ইত্যাদি অবহিত হয় তখন বান্দা সুস্থ হয়ে উঠে। হৃদয় আরো অধিকতর সুস্থ হয় যখন বান্দা মহান আল্লাহর রহমত কামনা করে এবং মহান আল্লাহর পচ্ছন্দই তার পচ্ছন্দ হয়, আল্লাহ তায়ালা যা নিষেধ করেছেন তা এড়িয়ে চলে, বিরত থাকে। নবী (সা.) প্রদত্ত পদ্ধতির বাইরে হৃদয়ের জন্য কোনো  জীবন নেই। সুস্থ দেহ নেই, আর না আছে কোনো সবল ব্যক্তি।

রাসূলুল্লাহ (সা.) এর আরোগ্য ব্যবস্থাপনার অনুসরণ ব্যতীত অন্য কোনো পন্থায় হৃদয়ের জন্য সুস্থ-সবল দেহ লাভ করা একটি ভ্রান্ত ধারণা। এ ধরনের ভ্রান্ত ধারণা হৃদয়ের সত্যিকারের সুস্থতাকে আড়াল করে দেয় এবং তার কামনা-বাসনা হয় নিকৃষ্ট বা ইতর প্রাণীর মতো। এভাবে হৃদয় সুস্ত জীবন অর্জন থেকে দূরে সরে যায় এবং কখনো বা বিপদ-জনক হযে পড়ে।

যারা এ দুইটি পথের পার্থক্য করতে পারে না, তাদের হৃদয়ের জীবন এবং সুস্থতা নিয়ে অনুতপ্ত হওয়া উচিত। আসলে এর ক্রটি কোথায় নিহিত আছে তা খুজে বের করতে হবে এবং সঠিক পথে ফিরে আসতে হবে। কারণ তারা শান্তির আহ্বান শুনেনি। শান্তির আলোও তারা দেখেনি, বরং তারা অন্ধকার সমুদ্রে নিমজ্জিত।

সূত্র: সাপ্তাহিক আরাফাত 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে