Alexa রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক পাওয়া নয়ন তারার সফলতার গল্প

ঢাকা, সোমবার   ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ১১ ১৪২৬,   ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Akash

কুবির সমাবর্তন

রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক পাওয়া নয়ন তারার সফলতার গল্প

কুমিল্লা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৫:৪৪ ২৮ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ০৫:৪৭ ২৮ জানুয়ারি ২০২০

স্বামী-সন্তানের সঙ্গে নয়ন তারা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

স্বামী-সন্তানের সঙ্গে নয়ন তারা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গল্পটা শুরুর। তখন পরিবার-পরিজন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়, সেখানে আদৌ ভালোভাবে পড়ালেখা হবে কি না, আরো কতো কিছু! তবে বাবা ও কলেজের শিক্ষকদের উৎসাহ অনুপ্রেরণায় সব বাধা পেরিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন তিনি। আর সময়ের আবর্তে গল্পটা একদম ভিন্ন হয়ে ধরা দিলো।

বলা হচ্ছে  কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক পেয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করা অর্থনীতি বিভাগের প্রথম ব্যাচের ছাত্রী নয়ন তারার কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে রেকর্ডসংখ্যক নম্বর পেয়ে নিজ বিভাগে শুধু উত্তীর্ণ হননি, অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকও হয়েছেন। 

২০০৭ সালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন নয়ন তারা। এ বিভাগে চার পয়েন্টের মধ্যে ৩.৯৬ সিজিপিএ পান মেধাবী এ শিক্ষার্থী। যা এখন পর্যন্ত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে কোনো শিক্ষার্থীর পাওয়া সর্বোচ্চ নম্বর।

সমাবর্তনে স্বামী-সন্তান নিয়ে আসা নয়ন তারা জানান তার সফলতার গল্প।  স্মৃতিচারণ করে বলেন, এখনকার মতো এত পরিপাটি ক্যাম্পাস ছিলো না তখন। তবুও দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাই। কিন্তু মাঝে মাঝে খুব হতাশায় পড়ে যেতাম। স্যারদেরকে বলতাম আমি শুধু পাশ করতে চাই।  তখন আমার শ্রেণি শিক্ষকরা আমাকে ধমক দিয়ে বলতো আমরা ভাবছি তুমি প্রথম হবে। সে জায়গায় তুমি এসব কি বলো। আমার বিভাগের শিক্ষকদের এমন কথা শুনে আমার উৎসাহ দ্বিগুন হয়। আমি আরো মনোযোগী হই। 

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফল দেখে আমি অভিভূত হই। এত ভালো করেছি যে তখন থেকে আমার মনে স্বপ্ন জাগে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবো। শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়েছি। তার মাঝে আমি একটি সরকারি ব্যাংকে ছয় বছর চাকরি করেছি। তার মাঝেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে আবেদন করি। ডাক পড়ে আমার। শিক্ষক হিসেবে মনোনীত হই। ওই দিনটি ছিলো আমার জীবনে স্মরণীয় একটি দিন। 

নয়ন তারা বলেন, আমার স্বামী ব্যাংকে চাকরি করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার জন্য তিনি আমাকে যথেষ্ট উৎসাহ দিয়েছেন। অফিসের পাশাপাশি সংসার-সন্তান দেখাশুনাতেও আমার স্বামীর যথেষ্ট ভূমিকা ছিলো বলেই হয়তো আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে পেরেছি।

তবে সফল হওয়ার পেছনে শিক্ষকদের অবদানের কথাও অকপটে স্বীকার করে নয়ন তারা বলেন, আমি কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার সোনার বাংলা কলেজের শিক্ষার্থী। উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি থেকে শুরু করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া পর্যন্ত সব বিষয়ে উৎসাহ দিতেন কলেজের অধ্যক্ষ আবু ছালেক মো. সেলিম রেজা সৌরভ স্যার। অধ্যক্ষ স্যারসহ কলেজের অন্য সব শিক্ষকদের উৎসাহের জন্যই আজ আমার এ অর্জন। আমি স্যারদের প্রতি আমার হৃদয় নিংড়ানো কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর