Alexa রাষ্ট্রপতির ক্ষমার পরও কারাগারে রাখা আজমতকে মুক্তির নির্দেশ

ঢাকা, সোমবার   ২৬ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ১১ ১৪২৬,   ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

রাষ্ট্রপতির ক্ষমার পরও কারাগারে রাখা আজমতকে মুক্তির নির্দেশ

নিজস্ব পতিবেদক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:২০ ১৫ জুলাই ২০১৯  

আজমত আলী

আজমত আলী

রাষ্ট্রপতির আদেশে সাজা মওকুফের পরও ১০ বছর দরে জামালপুরের কারাগারে থাকা শিক্ষক আজমত আলীকে তাৎক্ষণিক মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

আদেশে সর্বোচ্চ আদালত বলেছেন, রাষ্ট্রপতির আদেশে সাজা মওকুফের পরও আজমত আলীকে আবার কারাগারে পাঠানো অযৌক্তিক ও দুর্ভাগ্যজনক। তাকে তাৎক্ষণিক মুক্তি দিতে বিবাদীদের নির্দেশ দিচ্ছি।

যাবজ্জীবন সাজার বিরুদ্ধে আজমত আলীর করা রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চ এ রায় দেন। গত ২৭ জুন রায়ে স্বাক্ষর করেন আপিল বিভাগের বিচারপতিরা।

সোমবার আপিল বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. আবু তাহের ভূঁইয়ার সাক্ষরে এ রায়ের অনুলিপি জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ এবং জামালপুরের জেলারের কাছে পাঠানো হয়েছে। রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠানো রায়ের এ অনুলিপি পেলে দু-একদিনের মধ্যে মুক্তি মিলবে বৃদ্ধ এ শিক্ষকের।

আজমত আলী জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দির পাখিমারা গ্রামের ইজ্জত উল্লাহ সরদারের ছেলে। তিনি টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঘোড়ামারার ভেঙ্গুলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।

১৯৮৭ সালের ১ এপ্রিল জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এলাকার কলিম উদ্দিনের ছেলে রেজাউল করিম নিহত হন। এই ঘটনায় আজমত আলীকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়। এ মামলায় ১৯৮৯ সালের ৮ মার্চ জামালপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন আজমত আলী। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেন।

পরে ১৯৯৬ সালের ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতির ক্ষমার আদেশ পেয়ে জামালপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। প্রায় নয় বছর পর ২০০৫ সালের ২ মার্চ হাইকোর্টের রায়েও তিনি খালাস পান।

এদিকে, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এ আপিলে ২০০৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আজমত আলীকে নিম্ন আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। পরে ২০০৯ সালের ২৯ অক্টোবর গ্রামের বাড়ি থেকে আজমত আলীকে গ্রেফতার করে নিম্ন আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। সেই থেকে কারাগারে আছেন তিনি।

২০১০ সালের ১১ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের আপিলে আসা রায়ে হাইকোর্টের রায় (খালাস) ও আদেশ রদ করে নিম্ন আদালতের রায় (যাবজ্জীবন) ও আদেশ বহাল রাখা হয়।

আজমতের আইনজীবী জয়ন্ত কুমার দেব বলেন, আজমত আলী মুক্তির পর লিভ টু আপিলের বিষয়ে আর খোঁজখবর রাখেননি। ফলে বাদীপক্ষ রাষ্ট্রপতির ক্ষমার বিষয়টি জানায়নি। অন্য কেউই আর রাষ্ট্রপতির আদেশের বিষয়টি উল্লেখ করেনি।

আজমত আলীর মেয়ে বিউটি খাতুন সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কার্যালয়ের আইনি সহায়তার জন্য আবেদন করেন। লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যানের নির্দেশে আপিল বিভাগে রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন দায়ের করার সিদ্ধান্ত আসে। রিভিউ আবেদনের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ এ নির্দেশ দেন।

আদালতে রিভিউ আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই

Best Electronics
Best Electronics