Alexa রামদা দেখিয়ে জমি দখল

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৮ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৩ ১৪২৬,   ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪০

রামদা দেখিয়ে জমি দখল

জামালপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৭:০৮ ১৬ জুন ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলায় প্রভাবশালী কামালের বিরুদ্ধে রামদা দেখিয়ে একটি পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার বিকেলে উপজেলার ডোরাইল ইউপির মাজালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছেন ভুক্তভোগীদের কয়েকজন।

মাজালিয়া গ্রামের আব্দুর রহমানের কাছ থেকে ১৯৫৩ সালে হাসড়া মাজালিয়া মৌজার ৬১ শতাংশ জমিটি সাফ কওলা হিসেবে নেন মনিরুদ্দিনের ছেলে মোজাফ্ফর ও জৈন শেখ। এরপর থেকে জমিটি তাদের মালিকানায় ছিল। তারা জমিতে বসতবাড়ি, পুকুর, কবরস্থান স্থাপন করেন। এছাড়া ফলজ ও বনজ বৃক্ষও রোপণ করেন।

এরইমধ্যে জমির আগের মালিক আব্দুর রহমানের আয়নাল হক, নাতি মজনু মিয়া জমিটি ফিরে পেতে মোজাফ্ফর ও জৈন শেখের পরিবারকে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দিচ্ছিলেন।

জমি নিয়ে বিভিন্ন সময় গ্রাম্য সালিশও হয়। এতে মোজাফ্ফর ও জৈন শেখের ছেলে সাইফুল ইসলাম, আব্দুল কাদের, তোষর আলী, শফিকুল ইসলাম, চান মিয়া, আলতাব হোসেন, তোতা মিয়া ও লাল চান মিয়া নিজেদের জমির প্রকৃত মালিক হিসেবে দাবি করেন।

ওই সালিশে আয়নাল হক, নাতি মজনু মিয়ার পক্ষে ডোয়াইল ইউপির প্রভাবশালী কামাল হোসেন ও তার ভাই মিনহাজ আহম্মেদ বকস উপস্থিত ছিলেন। সালিশে সাইফুল ইসলামসহ তার অন্যান্য ভাইয়েরা জমি ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান।

পরে কামাল ও মিনহাজের নেতৃত্বে তাদের সহযোগী মজিবর রহমান, হবিবর রহমান, আব্দুল মান্নান, ফারুক হোসেন, জয়নাল আবেদীন, ফরিদ হোসেন, আলী আকবরসহ কয়েকজন রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তোষর আলীর বাড়ি ভাঙচুর করে ও ঘর থেকে ৫ লাখ টাকা লুট করেন।

এছাড়া তাদের জমিতে রোপণ করা অর্ধশতাধিক ফলজ ও বনজ গাছ, কলা ও সবজি বাগানের গাছ কেটে ফেলেন। স্থানীয় গাছ কাটার করাতি সুজা মিয়া, আব্দুল খালেক গাছ কাটার কাজ করেন। একইসঙ্গে একটি ছাপড়া ঘর ভেঙে জমি জবর দখলের চেষ্টা করেন কামাল ও মিনহাজ।

এ সময় আলতাব হোসেন, তোতা মিয়া ও লাল চান মিয়া তাদের বাধা দিতে গেলে কামাল রামদা দেখিয়ে তাদের ভয় দেখান ও মারধর করেন। এ ঘটনায় আলতাব, রুবেল, কাদের, তোতা, চানমিয়া, ঝর্ণা, রওশন আরা, অনিক, তৌকির ও রিপন। এদের মধ্যে গুরুতর আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ভয়ে পালিয়ে গেছেন তাদের কজন আত্মীয়।

সরিষাবাড়ী থানার ওসি মুহাম্মদ মাজেদুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানা নেই। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর