রামগঞ্জে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী গ্রেফতার

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১৫ ১৪২৭,   ১২ সফর ১৪৪২

রামগঞ্জে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী গ্রেফতার

রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি      ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫১ ১০ আগস্ট ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে তানজিলা রহমান আয়না নামে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় রামগঞ্জ থানার পুলিশ ওই গৃহবধূর স্বামী জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারে প্রেরন করেছে।

শনিবার সকাল ১১টায় উপজেলার ২ নম্বর নোয়াগাঁও ইউপির সাউধের খিল গ্রামের মোল্যা বাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে। জহিরুল ইসলাম জনি মোল্যা বাড়ির মো. মহসিন মোল্যার বড় ছেলে। 

তাজিলার বড় ভাই সাইফুর রহমান বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে রামগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। রামগঞ্জ থানার এসআই মো. হুমায়ুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। 

গৃহবধূ তানজিলা আক্তার আয়না ঢাকা ইডেন মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে রোববার দিবাগত রাতে বরিশাল তার পিত্রালয়ে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর নোয়াগাঁও ইউপির সাউধেরখিল গ্রামের মোল্যা বাড়ির মহসিনের ছেলে মো. জহিরুল ইসলাম জনির সঙ্গে ২০১৬ সালে বরিশাল সদর কাউনিয়া থানার পান্থপথ নাবিকনীড়ের ভাটিখানা গ্রামের সাইদুর রহমানের মেয়ে তানজিলা আক্তারের বিয়ে হয়। পরিবারের লোকজন তানজিলার আগের আরেকটি বিয়ের সংবাদ গোপন রেখে জনির সঙ্গে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে। পরে বিষয়টা জানাজানি হলে দুই পরিবারের মধ্যে পারিবারিক অশান্তি শুরু হয়। 

গৃহবধূ অন্তঃসত্তা হয়ে গত ৯ মাস স্বামীর বাড়ি বসবাসের এক পর্যায়ে শনিবার সকাল ১১টায় অসুস্থবোধ করলে স্বামী জনি দ্রুত প্রথমে একটি প্রাইভেট হাসপাতাল ও পরে রামগঞ্জ সরকারি হাসপাতাল নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করে। মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে তানজিলার ভাই-বোনেরা বরিশাল থেকে রামগঞ্জ এসে স্বামী জহিরুল ইসলাম ও তার বাবা, মা, চাচী এবং ছোট ভাইসহ ৫ জনকে আসামি করে রামগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। গৃহবধূ তানজিলার মৃত্যুর পর থেকে শশুর-শাশুড়ী, দেবর, চাচী, শাশুড়ী পলাতক রয়েছে।

এ ব্যাপারে নিহতের ভাই সাইফুর রহমান জানান, আমার বোনকে জনি ও তার পরিবারের লোকজন পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। বেশ কয়েকমাস থেকে তানজিলার স্বামী আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। তবে আমার বোন মাঝে মাঝে গোপনে আমাদের সঙ্গে কথা বলতো। শুক্রবার রাতেও সে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। এরপর শনিবার সকালে তার স্বামী জনি ফোন করে আমাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

রামগঞ্জ থানার  ওসি মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, গৃহবধূ তানজিলা মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে। স্বামী জহিরুল ইসলাম জনিকে গ্রেফতার করে লক্ষ্মীপুর কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ