Alexa রান করা কি এতোই কঠিন! 

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৭ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ২ ১৪২৬,   ১৭ সফর ১৪৪১

Akash

রান করা কি এতোই কঠিন! 

আসাদুজ্জামান লিটন  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৩০ ৭ অক্টোবর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

খেলার রাজা বলা হয় ক্রিকেটকে। ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে এই খেলার এমন নামকরণ। এক সময় সমাজের সম্ভ্রান্ত পর্যায়ের লোকেরা ক্রিকেট খেলতো। ক্রম বিবর্তনের ধারায় এখন তা পরিণত হয়েছে গণমানুষের খেলায়। 

সময়ের চাহিদা মেনে খেলার ফরম্যাটও হয়েছে তিন ধরণের। টেস্টের পর এসেছে ওয়ানডে এবং সর্বশেষ সংস্করণ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট। এতো ফরম্যাটের ভিড়ে এখনো ক্রিকেটের রাজকীয় মাধ্যম হয়ে আছে টেস্ট ম্যাচ। প্রাচীনতম এই সংস্করণকেই আসল ক্রিকেট বলে মনে করেন ক্রিকেট বোদ্ধারা। 

টেস্ট ম্যাচে রান বন্যার আশা করেন দর্শকরা। বোলাররা একেরপর এক বল ছুঁড়ে যাবেন, তাদের প্রতিহত করে আক্রমণে যাবেন ব্যাটসম্যানরা। সিংগেল, ডাবলস ও বাউন্ডারির পসরা সাজিয়ে রানের পাহাড় গড়বেন সবাই, এমনটাই চান ক্রিকেটভক্তরা। 

তবে এমন অনেক ম্যাচ আছে যেখানে ব্যক্তিগতভাবে রান করা দূরের কথা, দলীয়ভাবে রান করতেও  ঘাম ছুটে গেছে সবার। ফলে অল্প সময়ে অল্প রানেই অল আউট হয়েছে দল। রেকর্ডের খেলা ক্রিকেটে সেসব ইনিংসের জায়গা হয়েছে সর্বনিম্ন ইনিংসের তালিকায়। 

ডেইলি বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য আজ থাকছে সর্বনিম্ন কিছু ইনিংসের গল্প। ইনিংসগুলোর স্কোর দেখে মনে হতে পারে, আসলেই টেস্টে রান করা কি এতো কঠিন? 

টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বনিম্ন রানের দলীয় ইনিংসটি নিউজিল্যান্ডের। ইংল্যান্ডের বোলিং তোপে তৃতীয় ইনিংসে মাত্র ২৬ রানে অল আউট হয়ে যায় তারা। ইনিংসের দৈর্ঘ্য ছিল ২৭ ওভার। ওভারপ্রতি মাত্র ০.৯৬ রেটে রান করা ইনিংসটি টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে ধীরগতির দলীয় ইনিংস হিসেবে স্থান করে আছে। বার্ট সাটক্লিফ সর্বোচ্চ ১১ রানের ইনিংস খেললেও আর কেউ দুই অংকের ঘরে রান করতে পারেননি। পাঁচজন ব্যাটসম্যান রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে গিয়েছেন প্যাভিলিয়নে। 

দলীয় ৩০ রানের দুটি ইনিংস সহ তালিকার পরের চারটি স্থানেই আছে দক্ষিণ আফ্রিকা। মজার ব্যাপার হলো, সবচেয়ে কম রানে প্রতিপক্ষকে অল আউট করার ক্ষেত্রে প্রথম চার ইনিংসেই বোলিং প্রান্তে ছিল ইংল্যান্ড দল। প্রথম, দ্বিতীয় ও চতুর্থ ইনিংসের সর্বনিম্ন রানের লজ্জ্বার রেকর্ডও দক্ষিণ আফ্রিকার দখলে। ইনিংসগুলো যথাক্রমে ৩৬, ৩০ ও ৩০ রানের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অল আউট হওয়া ৩০ রানের ইনিংসে কেউই দুই অংকের ঘরে রান করতে পারেনি। অধিনায়ক টেলর করেন সর্বোচ্চ ৭ রান যা কোন দলের পরিপূর্ণ ইনিংসের সর্বোচ্চ রানের মধ্যে সর্বনিম্ন। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের সেই ইনিংসের রানগুলো ছিল যথাক্রমে ৭,০,৩,১,১,৪,২,০,০,১,০।

সর্বনিম্ন রানের ১০ ইনিংসের বাকীগুলো যথাক্রমে ৩৬ (অস্ট্রেলিয়া), ৩৮ (আয়ারল্যান্ড), ৪২  (অস্ট্রেলিয়া), ৪২ (নিউজিল্যান্ড) ও ৪২ (ভারত)। দশবারের মধ্যে আটবার বোলিং আক্রমণকারী দলের নাম ইংল্যান্ড, দুইবার এ কৃতিত্ব লাভ করে অস্ট্রেলিয়া।

এখনো পর্যন্ত টেস্টে ৫০ রানের নিচে অল আউট হয়ার ঘটনা ঘটেছে ২২ বার। সবচেয়ে বেশি সাতবার এর শিকার হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। চারবার করে পঞ্চাশের নিচে অল আউট হয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। দুইবার ইংল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড, ভারত, বাংলাদেশ, উইন্ডিজ ও পাকিস্তান একবার করে এই লজ্জ্বার সম্মুখীন হয়।  সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছে এ বছরই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সে ম্যাচে আয়ারল্যান্ড অল আউট হয়েছিল মাত্র ৩৮ রানে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটানুরাগীদের কাছে সর্বনিম্ন রানের ইনিংসের স্মৃতি বেশ তাজাই থাকার কথা। গেলো বছর নর্থ সাউন্ডে উইন্ডিজের বিপক্ষে নিজেদের ইতিহাসের সর্বনিম্ন ৪৩ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল টাইগাররা। এর আগে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন ইনিংস ছিল ৬২ রানের। 

বিপক্ষকে এমন লজ্জ্বা উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে পটু দল ইংল্যান্ড। ৫০ রানের নিচে ১৩ বার প্রতিপক্ষকে অল আউট করেছে থ্রি লায়ন্সরা। চারবার অস্ট্রেলিয়া, তিনবার দক্ষিণ আফ্রিকা এবং দুইবার উইন্ডিজ ক্রিকেট দল এই কৃতিত্ব অর্জন করে। 

দলীয় শতরানের হিসেবে একমাত্র আফগানিস্তান এই লজ্জা থেকে মুক্ত আছে। ক্রিকেটের কুলীন গোত্রের নবীনতম দেশ ছাড়া প্রতিটি দলেরই শতরানের নিচে অল আউট হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। 

প্রতিটি টেস্ট খেলা দলের সর্বনিম্ন ইনিংসঃ

দলের নাম

স্কোর

প্রতিপক্ষ

ভেন্যু

নিউজিল্যান্ড

২৬

ইংল্যান্ড

অকল্যান্ড

দক্ষিণ আফ্রিকা

৩০

ইংল্যান্ড

পোর্ট এলিজাবেথ

অস্ট্রেলিয়া

৩৬

ইংল্যান্ড

বার্মিংহাম

আয়ারল্যান্ড

৩৮

ইংল্যান্ড

লর্ডস

ভারত

৪২

ইংল্যান্ড

লর্ডস

বাংলাদেশ

৪৩

উইন্ডিজ

নর্থ সাউন্ড

ইংল্যান্ড

৪৫

অস্ট্রেলিয়া

সিডনি

উইন্ডিজ

৪৭

ইংল্যান্ড

কিংস্টন

পাকিস্তান

৪৯

দক্ষিণ আফ্রিকা

জোহানেসবার্গ

জিম্বাবুয়ে

৫৯

নিউজিল্যান্ড

হারারে

শ্রীলংকা

৭১

পাকিস্তান

ক্যান্ডি

আফগানিস্তান

১০৩

ভারত

ব্যাঙ্গালোর

ওভারের দিক থেকে সবচেয়ে ছোট ইনিংস দক্ষিণ আফ্রিকার কবলে। ১৯২৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিতে ১১জন ব্যাটসম্যান মিলে মোকাবেলা করতে পেরেছিলেন মাত্র ১২.৩ ওভার (৭৫বল)। ১৫ ওভারের নিচে কোন দলের অল আউট হওয়ার ঘটনা আছে মাত্র একবার। তবে সবচেয়ে কম বলের স্থায়িত্বের ইনিংসের সেরা দশে আছে বাংলাদেশের নামও। 

সবচেয়ে কম বলের দশ ইনিংসঃ

দলের নাম

ওভার

প্রতিপক্ষ

ভেন্যু

দক্ষিণ আফ্রিকা

১২.

ইংল্যান্ড

বার্মিংহাম

অস্ট্রেলিয়া

১২.

ইংল্যান্ড

ব্রিসবেন

ইংল্যান্ড

১৫.

অস্ট্রেলিয়া

মেলবোর্ন

আয়ারল্যান্ড

১৫.

ইংল্যান্ড

লর্ডস

ভারত

১৭.

ইংল্যান্ড

লর্ডস

অস্ট্রেলিয়া

১৮.

দক্ষিণ আফ্রিকা

কেপটাউন

অস্ট্রেলিয়া

১৮.

ইংল্যান্ড

নিউল্যান্ডস

বাংলাদেশ

১৮.

উইন্ডিজ

নর্থ সাউন্ড

দক্ষিণ আফ্রিকা

১৮.

ইংল্যান্ড

সেইন্ট জর্জ পার্ক

ইংল্যান্ড

১৯.

উইন্ডিজ

কুইন্স পার্ক ওভাল

টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের এসব ম্যাচের স্কোর দেখলে ব্যাট করার চেয়ে বল করাকেই সহজ মনে হওয়া স্বাভাবিক। এসব ম্যাচে ব্যাটের চেয়ে বল হাতেই ছড়ি ঘুরিয়েছেন বোলাররা। 

বোলারদের দুর্দান্ত ডেলিভারীর সামনে ব্যাটসম্যানদের অসহায় আত্মসমর্পণ ক্রিকেটের বহুমুখী সৌন্দর্যের আরেক দিক। 

তাই ব্যাট বলের আসল লড়াই দেখতে এখনো অসংখ্য ক্রিকেটভক্তরা তাকিয়ে থাকেন ক্রিকেটের অভিজাত ফরম্যাট টেস্ট ক্রিকেটের দিকেই। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এএল/সালি