Alexa রানী ম্যাক্সিমা ও তৃণমূলদের জন্য ব্যাংকিং

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১০ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২৫ ১৪২৬,   ১২ রবিউস সানি ১৪৪১

রানী ম্যাক্সিমা ও তৃণমূলদের জন্য ব্যাংকিং

ডেস্ক নিউজ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৩০ ১১ জুলাই ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

আজকে আমি আমার জীবনের আরেকটি সেরা দিন কাঁটিয়েছি। আমি নেদারল্যান্ডসের মহামান্য রানী ম্যাক্সিমা জরিগুয়েতা সেরুতি’র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি যিনি ২০০৯ সাল থেকে জাতিসংঘ মহাসচিবের ‘ইনক্লুসিভ ফিন্যান্স ফর ডেভেলপমেন্ট’ বা উন্নয়নের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন (ইউএনএসজিএসএ) এর বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালণ করছেন। 

ওনার সঙ্গে আমার আজ দু’বার সাক্ষাৎ হয়েছে। সকালে ‘বাংলাদেশে ফিন্যান্সিয়াল টেকনোলজি (ফিনটেক)’ শীর্ষক একটি গোলটেবিল বৈঠকে এবং পরে আবার সন্ধ্যায় ঢাকার রামপুরায় আমাদের একটি দোকানে। তিনি সেখানে এসেছিলেন আমরা সম্প্রতি সময়ে কি নতুনত্ব আনতে পেরেছি তা নিজ চোখে দেখতে। 

আমি আমার জীবনে এর আগে কখনও কোনো রানীকে সরাসরি দেখিনি। কিন্তু আজকে আমি ও ইউনিলিভার বাংলাদেশের সিইও কেদার লেলে রামপুরা, বনশ্রী’র ছোট্ট একটি দোকানে তাকে স্বাগত জানাই। তিনি আমাদের যাবতীয় কার্যাবলী সম্পর্কে অবহীত হন ও আমাদের পণ্য ও সেবার ব্যবহারকারীদের সঙ্গেও কথা বলেন। 

সকালে গোলটেবিল বৈঠকে তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন কিভাবে আরো গ্রাহক কেন্দ্রীক হতে পারে এবং লোকজনের সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে যা প্রথাগত ব্যাংকগুলো পারছেনা সে ব্যাপারে জোর দিয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি উদ্ভাবকদের জন্য একটি সংগঠন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মত সংস্থার অধীনে উদ্ভাবন ল্যাব তৈরির প্রতি জোর দেন, যেন তা সমাজে ব্যাপক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে।

আমি তাকে বাংলাদেশে আমার গল্প শুনিয়েছি যে কিভাবে আমি দেশের সব ব্যাংকগুলোকে এক সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার জন্য তাদের দ্বারে দ্বারে মাসের পর মাস ঘুরেছি এবং কিভাবে নিয়মিত ভাবে প্রথাগত ব্যাংকগুলো দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছি।  

সম্প্রতি আমরা প্রকৃত সময়ে অর্থ লেনদেন ব্যবস্থা চালু করতে ব্র্যাক ব্যাংকের সঙ্গে সফল ভাবে সংযুক্ত হতে পেরেছি। তবে এটা সহজ ছিলোনা। মাত্র একটি ব্যাংকের সঙ্গে সংযুক্ত হতেই আমার জীবনের একটি বছরের বেশি সময় লেগে গেছে। আর এ গতিতে এগোলে বাংলাদেশের সব ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত হতে আমার জীবনের বাকি পুরোটা সময়ই লেগে যাবে। 

আমি কি এটা করব? উত্তর হলো, না। কারণ, এটি স্বাভাবিক ভাবেই হবে। 

বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোকে যুক্ত করার বর্তমান সমাধান হলো ‘পুশ’ টেকনিক। যেমন, আপনাকে আপনার নিজ ব্যাংকে লগইন করতে হবে, এরপর আপনি ব্যাংক থেকে আপনার ওয়ালেটে টাকা পাঠাতে পারবেন যেমনটা আই পে’তে করতে হয়। তবে এটা আসলে সঠিক উপায় না যেভাবে আমাদের এটা করা উচিত। 

ব্র্যাক ব্যাংক সলিউশন আই পে‘তে আপনি আপনার ওয়ালেট থেকে ব্যাংকের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারবেন এবং একটি বাটন চাপার মাধ্যমে আপনি আপনার অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন। এটি প্রকৃত সময়ের (রিয়েল টাইম) মধ্যেই করা যায় এবং নিরাপদও।

দেশে প্রথমবারের মতো এ ব্যবস্থা চালু করতে আই পে ও ব্র্যাক ব্যাংক দল উভয়কেই কয়েক মাস কাজ করতে হয়েছে। এ সেবা পরখ করে দেখতে আমি পাঠকদেরকে আই পে অ্যাপ ব্যবহারের আহ্বান জানাচ্ছি।

এখনকার আই পে সলিউশন মূলত সমাজের সুবিধা ভোগীদের জন্য তৈরি অর্থাৎ যাদের স্মার্ট ফোন ও ইন্টারনেট সেবা রয়েছে তাদের জন্য। কিন্তু সমাজের দরিদ্র লোকদের স্মার্ট ফোন ও ইন্টারনেট সুবিধা কোনটিই নেই। তাহলে তারা কিভাবে এই ডিজিটাল ওয়ালেটের সুবিধা নিতে পারবে? কিভাবে ডিজিটাল ব্যাংকে প্রবেশ করতে পারবে?

সমাজের এই বিশাল সংখ্যক সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য আমরা নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম চালু করেছি। এর নাম – প্রিয় ব্যাংক। এটি আঙ্গুলের ছাপের মাধ্যমে ব্যাংক ও ডিজিটাল ওয়ালেটের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। হ্যা, আপনি আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্রের মাধ্যমে ব্যাংকে সাইন-আপ করতে পারবেন এবং আঙ্গুলের ছাপ দিয়েই আপনি কোনো স্মার্ট ফোন ছাড়াই এ ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত দোকান থেকে পণ্য ক্রয় করতে পারবেন। 

আমরা রামপুরা, বনশ্রী এলাকার কিছু বস্তিবাসীকে আমাদের এই পদ্ধতি পরীক্ষা করে দেখতে বলেছিলাম। তারা এই নতুন ব্যবস্থাটি পরীক্ষা করে দেখতে সম্মত হয় যা তারা আগে কখনও দেখেনি। তারা আমাদের দোকানে গিয়ে ফ্রি সাইন-আপ করে ও আমরা তাদেরকে কিছু টাকা দেই ব্যপারটি পরীক্ষা করে দেখার জন্য। এরপর তারা দোকানে ফিরে এসে মেশিণে আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে পণ্য কেনে। এ ব্যবস্থাটি তাদের বস্তি এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলে।

মহামান্য রানী ম্যাক্সিমা এই নতুন ব্যবস্থাটির কথা জানতে পেরে স্বয়ং নিজেই দেখতে আসেন যে বাস্তব জীবনে এটি কতটা কার্যকর হচ্ছে। তিনি আমাদের একটি দোকান ঘুরে দেখেন এবং আমাদের স্থানীয় ভাবে তৈরি নতুন মেশিন ও প্রযুক্তি প্রতক্ষ্য করেন। তিনি এই সেবা ব্যবস্থাটি আরো ভালোভাবে বুঝতে এর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীদেরও জিজ্ঞেস করেন যে তারা কেমন সুবিধা পাচ্ছেন এবং এটি তাদের জীবনে কেমন প্রভাব ফেলছে। 

আমরা এখন একজন ব্যক্তিকে একটি সত্যিকার ব্যাংক হিসাব প্রদান করতে পারি যেটি তিনি ব্যাংকের শাখায় না গিয়েও ব্যবহার করতে পারেন। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজের দরিদ্র শ্রেণীর ব্যাংকিং সমস্যার সমাধান হবে। 

আমরা যদি সত্যিই এই ব্যবস্থাটি দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে পারি তবে আমরা ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করার বর্তমান পদ্ধতি পরিবর্তন করে দিতে পারবো। বাংলাদেশে আপনি যদি কোনো কিছু প্রকৃত অর্থেই মন দিয়ে করতে চান তবে আপনার ৩টি জিনিস লাগবে।

আর তা হলো – ১. ধৈর্য, ২. আরো ধৈর্য এবং ৩. চরম ধৈর্য।

জাকারিয়া স্বপন (প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী, আই পে)- এর কলাম থেকে নেয়া।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী