রাতেও থাকবে সূর্যের আলো!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৪ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২১ ১৪২৭,   ১১ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

রাতেও থাকবে সূর্যের আলো!

বিজ্ঞান ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:২১ ২ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ২০:৫০ ২ এপ্রিল ২০২০

ছবিঃ সংগৃহীত

ছবিঃ সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বন্ধ করার ক্ষেত্রে সৌরশক্তিই হতে পারে একমাত্র সমাধান। তবে সৌরশক্তিকে নির্ভরযোগ্য করে তুলতে ২৪ ঘণ্টা শক্তির নিরবচ্ছিন্ন যোগানের বিকল্প নেই। কিন্তু দিনের বেলা ব্যতীত সৌরশক্তি উৎপাদন অব্যাহত রাখার কোন উপায় এখনো বের হয়নি।

দিনের মতো রাতের বেলাতেও নিরবচ্ছিন্ন সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে অভিনব এক পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছে একটি কোম্পানি। কোম্পানিটির নাম সোলারস্পেস।  

কোম্পানিটির ধারণা, মহাকাশে একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় বিশাল আকারের আলোক প্রতিফলক রাখার মাধ্যমে পৃথিবীর অপরপ্রান্তে আলো দিতে থাকা সূর্যের শক্তি ব্যবহার করে রাতেও সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য আলোর যোগান দেয়া সম্ভব হবে।
 
এছাড়াও প্রতিফলিত ওই আলো সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রতিফলনের মাধ্যমে সৌরশক্তিও উৎপাদন করা যাবে। এতে রাতের বেলাতেও সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটবে না।

ধারণা অনুযায়ী, মহাকাশে অত্যন্ত হালকা ওজনের বিশাল একটি প্রতিফলক রেখে দেয়া হবে, যা সূর্য যেখানেই থাকুক না কেন সেখান থেকে আলোকে সোলার প্ল্যান্টে প্রতিফলিত করবে।

পদ্ধতিটি নিয়ে কাজ করতে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যার মধ্যে জ্যামিতিক, আকারগত ও উৎপাদনগত চ্যালেঞ্জ অন্যতম। জ্যামিতিক চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, কত উচ্চতায় রাখলে প্রতিফলকটি ২৪ ঘণ্টা আলো প্রতিফলিত করতে পারবে তা বের করা।

আকারগত চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, কত বড় প্রতিফলক তৈরি করতে হবে তা বের করা। এক্ষেত্রে বিশাল একটি প্রতিফলক ভালো হবে নাকি ছোট ছোট অনেকগুলো প্রতফলক ভালো হবে তা বের করা।

আর উৎপাদনগত চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, প্রতিফলকগুলো কোথায় উৎপাদন করা হবে এটি ঠিক করা। পৃথিবীতে বানিয়ে মহাকাশে প্রেরণ করা ভালো হবে নাকি থ্রিডি প্রিন্টারে মহাকাশেই এই প্রতিফলকগুলো প্রিন্ট করে স্থাপন করা ভালো হবে এটি বের করা।

ইউরোপিয়ান রিসার্চ কাউন্সিল এই কোম্পানিটিকে ধারণাটির ওপর কাজ করতে পাঁচ বছরের গবেষণা অনুদান হিসেবে সাড়ে ২৭ লাখ ডলার দিয়েছে।  

ইউরোপিয়ান রিসার্চ কাউন্সিল থেকে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন জটিলতার কারণে হয়তো এই পদ্ধতির কার্যকরী নিশ্চিত করতে অনেক বছর সময় লেগে যাবে। তবে এই অর্থায়ন ভবিষ্যতের সৌরবিদ্যুতের নির্ভরযোগ্যতার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাজে লাগবে বলে তারা মনে করছেন।

এদিকে চীন ও জাপান এ রকমই এক পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে তারা মহাকাশে এক মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

অপরদিকে জাপানের অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশান এজেন্সি সম্পূর্ণ বিপরীত একটি সমাধান নিয়ে কাজ করছে। তারা পুরো সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রকেই মহাকাশে পাঠিয়ে দিতে চেষ্টা করছে। যাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজটি সেখানেই করা যায়। এরপর সেখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎকে লেজারের মাধ্যমে পৃথিবীতে নিয়ে আসা যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচএফ