Alexa রাণী ভবানী রাজবাড়ির টমটমে চড়ার গল্প

ঢাকা, রোববার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৭ ১৪২৬,   ২২ মুহররম ১৪৪১

Akash

রাণী ভবানী রাজবাড়ির টমটমে চড়ার গল্প

ভ্রমণ প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০৪ ২৭ আগস্ট ২০১৯  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

নারিকেল গাছের তলায় বসে দর্শনার্থীদের জন্য অপেক্ষা করছে দুটো টমটম। দুটোরই বেহাল দশা! অথচ একটা সময়ে এই টমটমগুলোই বাংলার পথে-ঘাটে ঘুরে বেড়িয়েছে রাজা-রাণী ও জমিদারদের নিয়ে। বর্তমানে এই টমটমগুলো বহন করে চলেছে প্রাচীন বাংলার অসংখ্য রাজকীয় ইতিহাস। তবে দুঃখজনক ব্যাপার হল সেই সময়কার সাক্ষী হয়ে থাকা এই টমটমগুলো আজ যেন বিলুপ্তির পথে।

এগুলো রাণী ভবানী রাজবাড়ির ঐতিহ্যবাহী টমটম নামে পরিচিত। এই রাজবাড়ির রয়েছে বলার মতো ইতিহাস। প্রাচীন জনপদ নাটোর জেলায় সপ্তদশ শতাব্দীতে নির্মিত হয় রাণী ভবানী রাজবাড়ি। ১৯৮৬ সালে রাণী ভবানী কেন্দ্রীয় পার্ক হিসাবে ঘোষনা করে সরকার। রাণী ভবানী কেন্দ্রীয় পার্কে রয়েছে ৬ টি দীঘি এবং শ্যামসুন্দর, তারকেশ্বর শিব এবং আনন্দময়ী কালিবাড়ি নামের ৩ টি মন্দির, যেগুলাতে এককালে রাজকীয় ভাবে পূজা–আর্চনার আয়োজন করা হতো। রাণী ভবানী রাজবাড়ি নাটোর রাজবাড়ি নামেই অধিক পরিচিত।

রানী ভবানী রাজবাড়ি বড় তোরফ ও ছোট তরফ নামক দুটি অংশে বিভক্ত। ১২০ একর আয়তনের রানী ভবানী রাজবাড়ি কমপ্লেক্সে ছোট বড় মোট ৮ টি ভবন রয়েছে। কিছুটা মতভেদ থাকলেও নিশ্চিত ভাবে বলা যায়, ১৭০৬ থেকে ১৭১০ সালের মধ্যে নাটোরের রানী ভবানী রাজবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছিলো। তৎকালীন পুঠিয়ার রাজা দর্পনারায়ণের কাছ থেকে ১৮০ বিঘা আয়তনের একটি বিল রাজা রাম জীবন দান হিসাবে গ্রহণ করে এই রাজবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা গড়ে তোলেন। বড় তরফ অংশের মূল কমপ্লেক্সটিই রানী ভবানীর রাজ প্রসাদ হিসাবে ব্যবহৃত হতো।

এই তথ্যগুলো মূলত অনলাইনের কল্যাণেই জানতে পারলাম। ঐতিহ্যের এই টমটম চালক রহেদ আলী পরামানিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল আরো বিস্তর তথ্য। স্বাধীনতার পর থেকেই এই পেশায় জড়িত তিনি। তখন তার বয়স চৌদ্দ কী পনেরো। বাবা, আসাদ আলী পরামানিকের হাত ধরেই টমটম চালানোয় হাতেখড়ি। এরপর আর নিজেকে জড়ানো হয়নি অন্য পেশায়। দীর্ঘ সময় ধরে এই পেশায় কাজ করে আবদ্ধ হয়ে পড়েছেন এক মায়ার বন্ধনে। হয়তো বা তাই অভিমানের পাল্লাটাও খানিকটা ভারি। জানা গেল কয়েক দশক আগেও এই শহরে প্রায় সাড়ে তিন’শ টমটম ছিলো। অথচ এখন পুরো শহরে টমটম মাত্র চারটা!

আগেরকার সময়ে রাজা-রাণী ও জমিদারদের শৌখিন ভ্রমণসহ যাতায়াতের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতো এই টমটমকে। এছাড়া যুদ্ধে অস্ত্র সরবরাহের যান হিসেবেও ব্যবহৃত হতো এই টমটম। কিন্তু গতিময় যান্ত্রিক জীবনের কাছে হেরে গিয়েছে প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই যান। এখন শহরের রাস্তাঘাটে এসবের দেখা মেলা ভার। 

বর্তমানে ১০ টাকার বিনিময়ে রাজবাড়ির ১২০ একর জায়গা ঘুরে বেড়িয়ে দেখান দর্শনার্থীদের। সঙ্গে বর্ণনা করে যান প্রতিটি অংশের ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব। তবে অনেক দর্শনার্থী শখের বসে টমটমে চড়ে উত্তরা গণভবন কিংবা শহর ঘুরতে চাইলে রাজবাড়ির বাইরেও টমটম নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন রহেদ আলী।

রহেদ আলীর টমটম চালিকা ঘোড়াটির নাম সম্রাট। প্রতিদিন সকাল দশটায় রহেদ আলী তার সম্রাট ও টমটম নিয়ে চলে আসেন রাজবাড়িতে। দর্শনার্থীদের ঘুরিয়ে দিনে রোজগার করেন পাঁচ’শ থেকে সাত’শ টাকা। তবে রোজগারের এই পরিমাণ নির্ভর করে দর্শনার্থীদের সংখ্যার ওপর।

বছরের যেকোনো সময় ঘুরে আসতে পারেন নাটোরের এই রাজড়িতে। একদিনে রাজবাড়ি ঘুরে, ঢুঁ মারতে পারেন চলনবিলেও। তবে ফেরার সময় নাটোরের কাঁচাগোল্লা খেতে ভুলবেন না!

ডেইলিবাংলাদেশ/এনকে