রাজশাহী মেডিকেলে জ্বর, সর্দি-কাশি নিয়ে ভর্তি যুবকের মৃত্যু

ঢাকা, শুক্রবার   ০৫ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২৩ ১৪২৭,   ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

রাজশাহী মেডিকেলে জ্বর, সর্দি-কাশি নিয়ে ভর্তি যুবকের মৃত্যু

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৪৮ ২৯ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৮:০৭ ২৯ মার্চ ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নওগাঁর রাণীনগরে ঢাকা থেকে আসা এক যুবককে (২২) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি গ্রামবাসী। অসুস্থ যুবক তিনটি হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হন।

পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাতে তার মৃত্যু হয়। এছাড়াও যুবকের মরদেহ গ্রামে নিয়ে গেলেও কোনো লোকজন তার মরদেহের কাছে যায়নি।

ওই যুবক রাণীনগরের কালীগ্রাম ইউপির অলংকার দীঘি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ঢাকায় একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করতেন।

ওই ছেলের বাবা বলেন, শুক্রবার রাতে জ্বর আর সর্দি-কাশি নিয়ে ঢাকা থেকে নওগাঁতে আসে ছেলে। শনিবার সকালে বাড়িতে যাওয়ার সময় করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়েছে সন্দেহে স্থানীয় ইউপিসদস্যসহ গ্রামের লোকজন তাকে বাড়িতে যেতে দেয়নি। বাধ্য হয়ে টেম্পু স্ট্যান্ড থেকে চিকিৎসার জন্য আদমদীঘি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, আদমদীঘি হাসপাতালে তার চিকিৎসা না করেই ফিরিয়ে দেন চিকিৎসকরা। এরপর আবারো ছেলেকে নিয়ে স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরই মধ্যে স্থানীয়রা বিষয়টি ইউএনওকে জানালে পরে তার সহযোগিতায় চিকিৎসার জন্য প্রথমে রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা দেখেই হাতে কাগজ ধরিয়ে দিয়ে নওগাঁ সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠায়।

এর পর নওগাঁ হাসপাতালে পৌঁছার পর সেখানেও ভালোভাবে না দেখে রাজশাহী নিয়ে যেতে বলে হাতে আরেকটি কাগজ ধরিয়ে দেয়া হয়। এরপর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। বিকেল ৩টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয়। ছেলের জ্বর কোনোভাবেই কমছিল না। পরে রাত ৮টার দিকে সে মারা যায়।

নওগাঁ সিভিল সার্জন ডা. আ. ম. আখতারুজ্জামান বলেন, ওই যুবক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ ছিল। যেহেতু নওগাঁ সদর আধুনিক হাসপাতালে করোনাভাইরাস পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই সেহেতু তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাই। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। 

রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, শনিবার বিকেল ৩টার দিকে যুবক ভর্তি হন। রাত ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বেশি দিন জ্বর থাকায় ব্রেন ইনফেকশনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মকর্তা।

কালিগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু মন্ডল বলেন, ওই যুবক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাননি। তিনি মেনিনজাইটিস রোগে মারা গেছেন। চিকিৎসক তার মৃত্যু সনদে নিশ্চিত করে দিয়েছেন। নিজ গ্রামে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে