রাজবাড়ীতে বিএনপির অন্তর্কোন্দল চরমে

ঢাকা, সোমবার   ২০ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৬ ১৪২৬,   ১৪ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

রাজবাড়ীতে বিএনপির অন্তর্কোন্দল চরমে

 প্রকাশিত: ১৮:৫৭ ২১ জুলাই ২০১৭  

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত ১৫১ সদস্যের রাজবাড়ী জেলা কমিটি গত ১০ জুলাই ঘোষণার পর থেকে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রায় দুই যুগ ধরে চলা খৈয়ম এবং খালেক-হারুন গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব নতুন কমিটি ঘোষণার পর প্রকট আকার ধারণ করেছে। কমিটি ঘোষণার পর দিনই খালেক গ্রুপ বলে পরিচিত দপ্তর সম্পাদক খন্দকার নুরুল নেওয়াজ নুরু হামলার শিকার হন। অন্যদিকে, খৈয়ম গ্রুপ সংবাদ সম্মেলন করে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এ কমিটি তারা মানবেন না। প্রয়োজনে আদালতে যাবেন। তাদের দাবি, দলীয় কর্মকাণ্ড করবেন তারা, আর কমিটিতে থাকবেন ‘কর্মী বিচ্ছিন্ন’ লোক, তা হবে না। প্রাক্তন সংসদ সদস্য ও নতুন কমিটিতে জেলা বিএনপির সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম তার অনুসারী নেতা-কর্মীদের নিয়ে জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে দলের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকেন। অপরদিকে, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এম এ খালেক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর রশিদ হারুন দলের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন এম এ খালেকের নিজস্ব কার্যালয় থেকে। আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, নতুন কমিটিতে যাদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে, তাদের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। এই কমিটিতে খায়রু নামের যাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তিনি জেলা যুবদল নেতা বাবলু হত্যা মামলার আসামি। ‘মূলত হত্যা মামলার আসামি আর খালেক-হারুন গ্রুপের আওয়ামী লীগপন্থিদের নিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশে ফেরার পর কমিটি নিয়ে কথা বলা হবে।’ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এম এ খালেক পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির জন্মলগ্ন থেকে দলের সঙ্গে যুক্ত আছেন। নতুন কমিটিতে খৈয়ম গ্রুপের যাদের নাম রয়েছে, তাদের অনেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং নিষ্ক্রিয়। রাজবাড়ী-২ আসনের প্রাক্তন সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির নেতা মো. নাসিরুল হক সাবু জানান, নতুন কমিটিতে বেশির ভাগ সদস্য জনবিচ্ছিন্ন। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এদের সম্পৃক্ততা নেই। কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর রশিদ হারুনের বিরুদ্ধে শতাধিক নেতা-কর্মী সংগঠনবিরোধী কার্যাকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে খালেদা জিয়ার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। তৃণমূলের নেতা-কর্মী বিচ্ছিন্ন এই ধরনের লোক দিয়ে বিএনপির মতো একটি বৃহৎ দল চালানো অসম্ভব। নতুন কমিটি অবশ্যই সংশোধিত হওয়া উচিত। এ ব্যাপারে কেন্দ্রে কথা বলা হবে। নতুন কমিটিতে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর রশিদ হারুন বলেন, কমিটি নিয়ে যে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে, তা দ্রুতই সমাধান করে রাজবাড়ীর বিএনপিকে চাঙ্গা করা হবে। এ সময় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি যদি আওয়ামী লীগের সঙ্গে আতাত করে থাকি, তাহলে কেন্দ্র থেকে কেন আমাকে বারবার দায়িত্ব দেওয়া হয়?’ তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা নেই- এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কেন মামলা নেই, তা আমি কীভাবে বলব? সভাপতির নামেও তো মামলা নেই।’ জেলা বিএনপির নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়ছে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের ওপর। কোন্দলের কারণে কেন্দ্র থেকে কোনো কর্মসূচি আসলে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারছেন না। ডেইলি বাংলাদেশ/আরকে
Best Electronics