.ঢাকা, বুধবার   ২০ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৫ ১৪২৫,   ১৩ রজব ১৪৪০

রাজবাড়ীতে পাট চাষিদের দুরবস্থা

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৮:২৫ ৯ আগস্ট ২০১৮   আপডেট: ১৮:২৫ ৯ আগস্ট ২০১৮

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

আবহাওয়ার বৈরি আচরণ, রোদ ও বৃষ্টির ভারসাম্য না থাকায় রাজবাড়ীর পাট চাষিদের এবার মাথায় হাত। যখন রোদ প্রয়োজন তখন বৃষ্টি আবার যখন বৃষ্টি প্রয়োজন তখন রোদ। এমন দোলাচল অবস্থায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রাজবাড়ীর পাটচাষিদের। সারাদেশের পাটের চাহিদার সাত শতাংশ যোগান দেয় রাজবাড়ী। অথচ এবছর আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি।

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ীর মাটি পাট চাষের উপযোগী। প্রতি বছর এই জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ পাটের আবাদ করা হয়। এ বছর পাটের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৪৯ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু পাট চাষ হয়েছে ৪৭ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে এক হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ কম হয়েছে।

কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়ন ও মাঝবাড়ি ইউনিয়ন, সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, পাটের আবাদ তেমন ভালো হয়নি। অনেক ক্ষেতে পাট এখনো অনেক ছোট। অধিকাংশ ক্ষেতের পাটই মাঝারি বা নিম্নমানের। অনেকেই পাট ক্ষেত নষ্ট করে ধানের জন্য প্রস্তুত করছেন। কেউ রেখেছেন পতিত।

মদাপুর ইউনিয়নের কৃষক খন্দকার হারুন জানান, এবার ৭০ শতাংশ জমিতে আগাম পাটের আবাদ করেছিলেন। অতি বৃষ্টির কারণে অর্ধেক পাটের বীজ থেকে চারা গজায় নাই। এরপর চারা কিছুটা বড় হওয়ার পর খেতে পানি জমে গোড়া পচে গেছে। ফলে পাট ক্ষেত ভেঙে ওই জমিতে নতুন করে ধান চাষ করা হয়েছে। কিন্তু পাট চাষ করতে গিয়ে বিশ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। যাদের ফলন আশানুরূপ হয়েছে, তারাও পাট জাগ দেওয়া নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছে। কারন আগের মতো জলাশয় নেই।

সদর উপজেলার চন্দনী গ্রামের বাসিন্দা কার্ত্তিক চন্দ্র দাস বলেন, এবার ১২০ শতাংশ জমিতে পাটের বীজ বপন করেছিলাম। এর কয়েক দিন পর প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এতে করে বেশির ভাগ পাটের বীজ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে নতুন করে দ্বিতীয় বার আবার বীজ বপন করতে হয়। পাটের চারা কিছুটা বড় হওয়ার পর আগাছা পরিস্কার করার জন্য নিড়ানী দিতে হয়। এসময় শুস্ক আবহাওয়া না থাকায় পোকা মাকড়ের আক্রমণ বেশি হয়েছে। এছাড়া পাটের চারার গোড়ায় পানি জমে থাকায় গাছ স্বাভাবিকভাবে বাড়তে পারেনি। সব মিলিয়ে পাট চাষে এবার লোকসান হবে।

জেলা কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুকুমার সরকার বলেন, কৃষকরা বিভিন্ন সমিতি ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করে। এবার পাটের আবাদ ভালো হয়নি। অনেক কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। সরকারের উচিত শস্য বীমা চালু করা এবং কৃষকের ভুর্তকি দেয়া।

রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ফজলুর রহমান বলেন, চাষিদের মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেওয়া হয়। পাটের ফলন খুব একটা খারাপ হয়নি। তবে নিচু জমির পাট আশানুরূপ ফলন হয়নি। আর বৈরী আবহাওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের কোনো হাত নেই। তাছাড়া এবার ধানের দাম বেশি পাওয়ায় অনেকেই ধান চাষে আগ্রহী হয়েছে। এতে করে পাটের আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর