.ঢাকা, বুধবার   ২০ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৫ ১৪২৫,   ১৩ রজব ১৪৪০

রাজনীতিতে দ্রুত পরিবর্তন ঘটবে: মওদুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ১৬:০৬ ১০ আগস্ট ২০১৮   আপডেট: ১৬:০৬ ১০ আগস্ট ২০১৮

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে দ্রুত পরিবর্তন ঘটবে। কখন কোথায় কি ঘটনা ঘটবে আমরা কেউ জানি না। শুধু এটুকু জানি দেশে কোনো সরকার নেই, যেটুকু আছে সে টুকুরও পরিবর্তনের সময় চলে এসেছে।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম নামের একটি সংগঠন আয়োজিত ‘শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক নির্যাতন এবং বিএনপি নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহীতার মামলা কেন?’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মওদুদ বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি দেখে মনে হয় দেশে কোনো সরকার নেই। পুলিশ আছে, র‍্যাব আছে, কিন্তু কোনো সরকার নেই। রাজধানীতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ওপর হামলা করা হল, কারা হামলা করেছে আমরা সবাই জানি কিন্তু কোনো গ্রেফতার নেই।

বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮০০ কোটি টাকা চলে গেল। সোনা চুরি হল। কয়লা চুরি হল। পাথর চুরি হল। কঠিন শিলা চুরি হল কিন্তু একজনকে গ্রেফতার করা হয়নি। দেশে সরকার থাকলে এগুলো হওয়ার কথা নয়।

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, আমাদের নেত্রী কারাগারে, সবাই মামলায় জর্জরিত। বিএনপিকে নিঃশেষ করার যেই পরিকল্পনা, তাতে এগিয়ে যাচ্ছে তারা। কিন্তু তাতে কি দেশের কোনো উন্নতি হয়েছে? প্রকৃতির যে আইন তা নিজস্ব গতিতে চলে। এর একটি দৃষ্টান্ত কোটা আন্দোলন। আরেকটি হল শিক্ষার্থীদের হত্যার বিরুদ্ধে যে আন্দোলন।

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে মওদুদ বলেন, নির্বাচন কমিশনার সরকারের তল্পিবাহক ব্যক্তি। কিন্তু বিবেকের তাড়নায় একটি সত্য কথা বলে ফেলেছেন যে আগামী নির্বাচনে অনিয়ম যে হবে না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তার এ বক্তব্যের পরেই অন্যান্য কমিশনাররা দ্বিমত পোষণ করেছেন। এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের আর নিজের পদে থাকার কোনো অধিকার থাকতে পারে না। আমরা অবিলম্বে তার পদত্যাগ দাবি করি।

সড়ক পরিবহন আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীর সঙ্গে রাজনৈতিক ব্লাফ দিয়েছে, রাজনৈতিক প্রতারণা করেছে সরকার। শিক্ষার্থীদের রক্ত বৃথা যাবে? কি চেয়েছিলো তারা অন্যায় কোন দাবি তো ছিল না, তাদের এখানেও কিন্তু একটা ফাঁকিবাজি ব্লাফ, যে প্রতারণা তারা (সরকার) করেছিলো কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে। 

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী ও দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলমকে গ্রেফতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদুল আলমের ওপর যে অত্যাচার তা অকল্পনীয়। সরকার একেবারে বেপরোয়া হয়ে গেছে। জনগণের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। সেজন্য সব শ্রেণির মানুষের ওপর এতো নির্যাতন।

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম. জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, জিনাফের সভাপতি লায়ন মিয়া মোহাম্মাদ আনোয়ার, ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা, যুবদল নেতা কাদের সিদ্দীকি প্রমুখ বক্তব্য দেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/এমআরকে