Alexa ঋণের বোঝা: স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার পর জীবন দিলেন গৃহকর্তা

ঢাকা, রোববার   ২০ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৪ ১৪২৬,   ২০ সফর ১৪৪১

Akash

ঋণের বোঝা: স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার পর জীবন দিলেন গৃহকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:২৫ ১০ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ২৩:২৮ ১০ অক্টোবর ২০১৯

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের একটি ফ্ল্যাট থেকে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মিরপুর ১৩ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ৫ নম্বর সড়কের ১০ নম্বর বাড়ির তিন তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তারা হলেন, সরকার মোহাম্মদ বায়েজীদ, তার স্ত্রী অঞ্জনা ও ছেলে ফারহান। ময়নাতদন্তের জন্য তাদের মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ বলছে, আর্থিক অনটন, ব্যবসায় ধস, ঋণগ্রস্থ থাকা ও ব্যাংক লোনের চাপ সইতে না পেরে স্ত্রী ও ছেলেকে খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে হত্যা করেন বায়েজীদ। পরে নিজে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।
 
জানা গেছে, বায়েজীদ প্রথমে গার্মেন্টের ব্যবসা করতেন। পরে পর্দার কারখানা করেন। তার ছেলে ফারহান মিরপুরের ঢাকা কমার্স কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলো। আর স্ত্রী ছিলেন গৃহিনী।

থানা সূত্র জানায়, বাসা থেকে একাধিক চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ। এগুলোতে লেখা রয়েছে, ব্যাংক ঋণের চাপ, ব্যবসায় লোকসান ও পাওনাদারদের চাপে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এর আগে স্ত্রী ও সন্তানকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করেছেন। তিনি স্বেচ্ছায় এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। এর জন্য অন্য কেউ দায়ী নয়।

এর আগে বুধবার রাতে স্বজনরা ফোন দিয়ে তাদের না পেয়ে বাসার দরজা বন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশের ধারণা, রাতে কোনো একসময় স্ত্রী ও সন্তানকে খাবারের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে হত্যার পর বায়েজীদ আত্মহত্যা করেন।

প্রতিবেশীরা জানান, বায়েজিদের বয়স আনুমানিক ৪৫ বছর। তিনি ব্যবসায়ী ছিলেন। ব্যাংক থেকে অনেক টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু ব্যবসায় লোকসান হওয়ায় ঋণও পরিশোধ করতে পারছিলেন না। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় মামলাও করেছে। এ নিয়ে হতাশায় ভুগছিলেন বায়েজীদ।

ডিএমপির মিরপুর জোনের সহকারি কমিশনার খায়রুল আমীন বলেন, খবর পেয়ে ওই বাসায় গিয়ে এক নারী ও তার ছেলের মরদহ বিছানার ওপরে পাওয়া গেছে। আর বায়েজীদের মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলানো অবস্থায় পাওয়া যায়। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে/আরএ