রাজধানীতে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতে সতর্ক পুলিশ

ঢাকা, সোমবার   ০১ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৮ ১৪২৭,   ০৮ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

রাজধানীতে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতে সতর্ক পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:২৪ ৩ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ২২:২৮ ৩ এপ্রিল ২০২০

রাজধানীতে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতে সতর্ক অবস্থানে পুলিশ। ছবি-সংগৃহীত

রাজধানীতে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতে সতর্ক অবস্থানে পুলিশ। ছবি-সংগৃহীত

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে রাজধানীসহ দেশব্যাপী সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য বিষয় তদারকি করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। শুক্রবার নগরীর বাংলামোটর এলাকায় পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল চোখে পড়ার মতো। শুধু বাংলামোটরই নয়, এমন চিত্র ছিলো পুরো রাজধানী জুড়েই। 

এদিন রাজধানীর ব্যস্ততম মোড়গুলোতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থেকে নিরাপত্তা দিয়েছে। সরেজমিনে  দেখা গেছে, বাংলামোটর এলাকায় পুলিশের বেশ কয়েকটি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। কেউ অকারণে ঘোরাঘুরি করলে বা গাড়ি নিয়ে বের হলে চেকপোস্টে চেক করা হচ্ছে। 

এছাড়া তারা কী কাজে বাসা থেকে বের হয়েছে, এজন্য পুলিশের কাছে বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। এ সময় পুলিশের এই চেকপোস্ট থেকে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ও একটি পিকআপ আটক করা হয়। 

জানা গেছে, চালকরা আইন না মেনে দুজন-তিনজন মিলে মোটরসাইকেলে একসঙ্গে ঘোরাঘুরি করেছে। পুলিশ প্রশ্ন করলে তারা কোনো সঠিক জবাব দিতে পারিনি। এজন্য পুলিশ তাদের আটক করে।

বাংলামোটরে ডিউটিরত ট্রাফিক সার্জেন্ট রায়হান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, এই রাস্তা দিয়ে কিছু লোক অযথা গাড়ি নিয়ে ঘোরাফেরা করছে। তারা সরকারের দিক নির্দেশনা ও আইন মানছেন না। এজন্য আমরা এই চেক পোস্টের মাধ্যমে তাদের দাঁড় করিয়ে কী প্রয়োজনে তারা বেরিয়েছে, সে বিষয়ে জানার চেষ্টা করছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  ট্রাফিক পুলিশের (এসি) ডিউটিরত এ কর্মকর্তা ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে মূলত হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য সরকার ছুটি ঘোষণা করছে। অনেকে হোম কোয়ারেন্টাইনে না থেকে ঈদের মতো আনন্দ-উৎসব করছে। নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভাবছেন না। এজন্য তাদের সচেতন করার জন্য এ চেক পোস্টের কাজ অব্যাহত রেখেছি।

পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে হোম কোয়ারেন্টাইনের কোনো বিকল্প নেই। খুব প্রয়োজন ছাড়া যারা অপ্রয়োজনে রাস্তায় বের হয়েছে, আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। এদের মধ্যে যারা কোনো কারণ ছাড়াই অথবা খুব প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হয়েছেন, আমরা তাদের বিভিন্ন প্রশ্ন করে সন্তোষজনক উত্তর না পেলে কিছুক্ষণ বসিয়ে রেখে ছেড়ে দিচ্ছি।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হোম কোয়ারেন্টাইনে যারা না থাকবে, তাদের গ্রেফতার করার ক্ষমতা আমাদের নেই। এজন্য কিছুক্ষণ বসিয়ে কোয়ারেন্টাইন মানে কী, সেটা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছি।

সে সময় এক মোটরসাইকেলে তিনজন চলাচল করার অপরাধে চালকসহ দুইজনকে আটক করে পুলিশ। আটক মোটরসাইকেলের মালিক রাহুল হোসেন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বাসায় থেকে ভালো লাগছিল না। তাই তিন বন্ধু মিলে ঘুরতে বের হয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ যে এতো সতর্ক, সেটা বুঝতে পারিনি। আজকে ছেড়ে দিলে আর রাস্তায় বের হবো না। 

তাদের কাছে জানতে চাইলে আরো বলেন, মোটরসাইকেলে তিনজন চলাফেরা করা অপরাধ, সেটা আমরা জানি। কিন্তু রাস্তায ফাঁকা পেয়ে লোভ সামলাতে পারিনি। এখন থেকে খুব প্রয়োজন ছাড়া আর বাইরে বের হবো না। 

এছাড়া পিকআপ চালক রশিদ মিয়া ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরে বাসায়। আজ শুধু একটি ট্রিপ পেয়েছি। সবই বুঝি, এরপরও পেটের দায়ে বাইরে বের হতে হচ্ছে। কিন্তু আমার বাইরে বের হওয়া ঠিক হয়নি, সেটা রাস্তায় এসে বুঝলাম। আজকের পর থেকে আইন মেনে চলব, আপাতত ঘর থেকে বের হবো না।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/জেডআর