ঢাকা, রোববার   ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৫ ১৪২৫,   ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪০

অভিযোগ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দিকে

রাজধানীতে নিখোঁজ ৩ জনের সন্ধান এখনো মেলেনি

শফিকুল বারী

 প্রকাশিত: ২০:৪০ ৭ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ২০:৪০ ৭ ডিসেম্বর ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেয়া তিন জনের কোন খোঁজ এখনো মেলেনি। তারা বেঁচে আছেন নাকি গুম হয়েছেন-তা নিয়ে চরম উৎকন্ঠায় আছেন তাদের পরিবার ও স্বজনরা। 

এদিকে পরিবারের সদস্যরা তাদেরকে উদ্ধারের আকুতি জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। ‘নিখোঁজ’ হওয়া এই তিন জনের মধ্যে একজনের পরিবার শুক্রবার সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার অনুরোধ করেছেন। নিখোঁজ র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (চাকরিচ্যুত) হাসিনুর রহমানের সন্ধানের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন তার স্ত্রী শামীমা আখতার।

সংবাদ সম্মেলনে শামীমা আখতার লিখিত বক্তব্যে জানান, তার স্বামী ২৮ বছর সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার ৪ নম্বর এভিনিউয়ের ১০ নম্বর রোডের ৬৫৯ নম্বর বাড়িতে হাসিনুর রহমান পরিবার নিয়ে থাকতেন। গেল ৮ আগস্ট রাত ১০ টা ২০ মিনিটে দু’টি হাইএস মাইক্রোবাসে ১৪-১৫ জন ব্যক্তি হাসিনুরকে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় জিডি (সাধারণ ডায়রি) করা হয়। কিন্তু আজও তার সন্ধান মেলেনি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে তাকে খুঁজে বের করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

শামীমা বলেন, ‘সংরক্ষিত এলাকা থেকে আইন-শৃঙ্খখলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়া তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আমার স্বামী অন্যায় করলে আইনের মাধ্যমে তার বিচার করা হোক।’ 

উল্লেখ্য, হাসিনুর রহমান র‌্যাব-৫ ও র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বিজিবিতেও বেশ কিছুদিন দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে চট্টগ্রামে র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক ছিলেন। র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখা তদন্ত করে তার সঙ্গে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরীরের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পায়। ২০১১ সালের প্রথম দিকে তাকে র‌্যাব-৭ থেকে অব্যাহতি দিয়ে সেনাবাহিনীতে ফেরত পাঠানো হয়। তিনি সেনাবাহিনীর আরডকে যোগদান করেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে একটি মামলা হয়। ওই মামলায় তার ৫ বছরের জেল হয়। ২০১৪ সালের শেষে দিকে তিনি জেল থেকে মুক্তি পান। 

বৃহস্পতিবার পল্লবী থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত তার কোন সন্ধান পাইনি। নিখোঁজের ঘটনায় করা জিডি’র তদন্ত করা হচ্ছে। 

এছাড়া গেল বছরের ৪ ডিসেম্বর নিখোঁজ হন ভিয়েতনামের সাবেক রাষ্ট্রদ‚ত মারুফ জামান। তিনি বিকেলে ধানমন্ডির ৯/এ নম্বর রোডের ৮৯ নম্বর বাসা থেকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে বের হয়ে নিখোঁজ হন। ওই দিন বেলজিয়াম থেকে তার মেয়ে সামিহা জামানের বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল। সামিহা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে বাবার ব্যক্তিগত মোবাইলে ফোনটি বন্ধ পেয়ে তিনি একটি ট্রাক্সি করে বাসায় ফেরেন। তখন থেকে মারুফ জামানের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। পরদিন সামিহা ধানমন্ডি থানায় থানায় একটি জিডি করেন। 

অপরদিকে গেল বছরের ২৫ আগস্ট ধানমন্ডির স্টার কাবারের সামনে থেকে নিখোঁজ হন কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ইশরাক আহমেদ (২০)। তিনি ছুটিতে ঢাকায় পরিবারের কাছে এসেছিলেন। এই নিখোঁজ ছাত্রের বাবা তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী জামালউদ্দিন আহমেদ ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। নিখোঁজ হওয়ার এক বছর পরও তার কোন সন্ধান মিলেনি। ইশরাকের বাবার আকুতি, সে যেখানেই থাকুক, তাকে উদ্ধার করা হোক।

এ বিষয়ে ধানমন্ডি থানার ওসি আব্দুল লতিফ বলেন, ইশরাক ও মারুফ জামান নিখোঁজের ঘটনায় দায়ের করা দুইটি জিডি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে তাদের এখনো কোন সন্ধান পাইনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসবি/জেডআর