রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের ২ বছর, এখনো আতংক কাটেনি

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৪ ১৪২৬,   ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের ২ বছর, এখনো আতংক কাটেনি

রাঙামাটি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১০ ১৩ জুন ২০১৯  

১৩ জুন ২০১৭ সাল। এদিন রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে ৪ সেনা কর্মকর্তাসহ মারা যান ১২০ টি তাজা প্রাণ। অন্যদিকে ২০১৭ সালের ১২ জুন পাহাড় ধসে নানিয়ারচর উপজেলায় বড়পুল পাড়া ও ধর্মচান পাড়া ও হাতি মারায় একই পরিবারের ৫ জনসহ ১১ জন মারা যান।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পাহাড় কাটা বন্ধে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলে মানুষের মাঝে জনসচেতনতা বাড়ানো সম্ভব হয়ে উঠছে না। সম্প্রতি রাঙামাটি শহরের মহিলা কলেজ গেইট এলাকায় কাপ্তাই হ্রদের মাটি কেটে বহুতল ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে মাটি চাপা পড়ে ৩ শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

এরমধ্যে ২০১৭ সালে রাঙামাটি শহরে ৪ সেনা সদস্যসহ ৬৫ জন, কাউখালী উপজেলায় ২৩ জন, কাপ্তাই উপজেলায় ১৮ জন, জুরাছড়ি উপজেলায় ৪ জন ও বিলাইছড়ি উপজেলায় ২ জন মারা গেছে। নিহতের মধ্যে ৩৩ জন শিশু, মহিলা ৩০ জন, পুরুষ ৪২ জন। নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২০ জন। আহত হয়েছেন ৮২ জন। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বেশ কয়েকজন চলে গেলেও ৩৯ জন রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

অপরদিকে ২০১৭ সালের ১২ জুন মধ্য রাতে ভারী বর্ষণের ফলে উপজেলার সাবেক্ষং ইউনিয়নের বড়পুল পাড়া ৪ জন, ধর্মচানপাড়া ৪ জন এবং হাতিমারায় ২ জন, ঘিলাছড়িতে ১ জন পাহাড়ের মাটি চাপা পড়ে নিহত হয়েছে। একই দিনে রাঙামাটি পৌর শহরের ২০ থেকে ২৫ টি স্থানে মাটি ধসের ঘটনা ঘটলেও কোনো হতাহত হয়নি।

গত বছর পাহাড় ধসে রাঙামাটি জেলায় ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা দাঁড়িছে ৭২০ পরিবার। ক্ষতিগ্রস্থ ঘর বাড়ির মধ্যে রাঙামাটি সদরে ৯০, কাউখালী ১৯০, নানিয়ারচর ৩০, বরকল ৭০, চিংমরং, ওয়াগ্গার রাইখালী ৩৪০ ক্ষতিগ্রস্থদের শুধুমাত্র কিছু ত্রাণ সামগ্রী ছাড়া আর কিছুই পায়নি ক্ষতিগ্রস্থরা।

অন্যদিকে, রাঙমাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ৯ দিনের মাথায় শুরু হলেও দীর্ঘ ৬ মাস বন্ধ ছিলো রাঙামাটি- কাপ্তাই সড়ক। এছাড়া ২০১৭ সালে ভারী বর্ষণের ফলে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক ধসে গিয়ে দীর্ঘ ১ মাস পর চালু করতে পারলেও চালু হওয়ার ৪ দিনের মাথায় আবারো অতি বর্ষণের ফলে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক আবারো বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এইদিনে রাঙামাটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন ছিলো অনেক দিন। বাজারে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছিলো। মোবাইল নেটওয়ার্ক বিঘ্ন ঘটায় টেলিযোগাযোগ ব্যহত হচ্ছে। পানি ও বিদ্যুৎ সংকটে মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের মাটি ভেঙে পড়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বর্ষণের ফলে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এর শাল বন এলাকায় ১০০ মিটার রাস্তা ৩০ ফুট জায়গা পাহাড়ের নিচে তলিয়ে গেছে। রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের বিভিন্ন স্থানে ১০০ মিটার রাস্তা ৪০থেকে ৫০ ফুট গভীরে তলিয়ে গেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম