রাখির হাসিমুখ বেদনার স্মৃতি

ঢাকা, রোববার   ১৬ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৩ ১৪২৬,   ১২ শাওয়াল ১৪৪০

রাখির হাসিমুখ বেদনার স্মৃতি

ডেস্ক নিউজ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩৪ ৭ জুন ২০১৯   আপডেট: ১৮:৪৭ ৭ জুন ২০১৯

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর সোনামুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী রাখি আক্তার। অষ্টম শ্রেণির বই নেয়ার সময় একটি ফ্রেমে বন্দী হয় সে। ছবিটি তখনকার স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য মুজিবর রহমানের মুঠোফোনে রয়ে গেল। উৎসব মুহূর্তের সেই ছবি বেদনার স্মৃতিতে পরিণত হলো।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মা-বাবার শয়নকক্ষে রাখির ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া গেছে। সে আক্কেলপুর পৌর এলাকার সোনামুখী গ্রামের আনিছুর রহমানের মেয়ে।

রাখির মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ছুটে আসেন মুজিবুর রহমান। মুঠোফোনের ছবিটি বের করে বারবার আফসোস করেছেন তিনি।

রাখির মা বেদেনা খাতুন বলেন, বিকেলে রাখিকে বাড়িতে একা রেখে ফসলি জমি দেখতে যাই। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে রাখিকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাইনি। তখন বাড়ির দোতলায় নিজেদের শয়নকক্ষে ঢুকে রাখিকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখি। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।

বাবা আনিছুর বলেন, আমি মুরগির ব্যবসা করি। দুই ছেলেমেয়ের মধ্যে রাখি বড়। রাখি পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। আদরের মেয়েকে এবার ঈদে তিন সেট জামা কিনে দিয়েছি। নতুন জামা-কাপড় পরে হাসিমুখে ঈদ উদযাপন করেছে সে। গতকালও তাকে বিষণ্ন থাকতে দেখিনি। কেন এভাবে আমার মেয়ে মরল তার কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।

প্রতিবেশী মন্টু মিয়া বলেন, রাখি খুব মেধাবী ছিল। কেন সে মারা গেল, ভেবে পাচ্ছি না। কোনো কারণ ছাড়া তো মেয়েটি এভাবে মরতে পারে না।

আক্কেলপুর থানার ওসি কিরণ কুমার রায় বলেন, খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে থানায় নিয়ে আসা হয়। শুক্রবার মরদেহ সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর