রাইফেল ছেড়ে ই-কার ও রোবট উৎপাদনে কালাশনিকভ

.ঢাকা, বুধবার   ২৪ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ১০ ১৪২৬,   ১৮ শা'বান ১৪৪০

রাইফেল ছেড়ে ই-কার ও রোবট উৎপাদনে কালাশনিকভ

 প্রকাশিত: ০৭:২২ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ০৭:২২ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

ভবিষ্যতের পৃথিবীতে হয়তো রোবট আর ইলেকট্রিক গাড়ির আধিপত্য দেখা যাবে। সেটা কত দ্রুত হবে তা হয়তো সময়ই বলে দেবে। কিন্তু এটি যে হবেই তার আভাস মিলছে। 

একাধিক শীর্ষ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাণ শুরু করেছে। বাকিদের অনেকে ই-গাড়ি নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে। আর রোবট নিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান বেশ আগে থেকেই কাজ করছে। ই-গাড়ি ও রোবট নির্মাতাদের তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন রাশিয়ান কিংবদন্তি কালাশনিকভ অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।

২০০ বছরের পুরনো এ প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে, তারা ইলোন মাস্কের টেসলার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে যাচ্ছে। বিখ্যাত স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ‘একে-৪৭’-এর নির্মাতা এ প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার ৯৫ শতাংশ হালকা অস্ত্রের উৎপাদক। নিজ দেশের বাইরে ২৭টি দেশে তারা তাদের উৎপাদিত অস্ত্র রফতানি করে। 

রুশ জেনারেল, উদ্ভাবক ও ছোট অস্ত্রের নকশাবিদ মিখাইল কালাশনিকভ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ‘একে-৪৭’ রাইফেলের নকশা করেন। পরবর্তীতে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে যায় এ রাইফেল। এটিকে ‘বিশ শতকের সেরা অস্ত্র’ বলে অভিহিত করেছে অনেকে। ধারণা করা হয়, এখন পর্যন্ত সারা বিশ্বে ১০ কোটিরও বেশি একে-৪৭ বিক্রি হয়েছে।

১৮০৭ সালে মস্কো থেকে ১ হাজার ৩০০ মাইল পূর্বে ইজেভস্কে এ অস্ত্র নির্মাতা কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৩ সালে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোজটেক নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকে নানা ধরনের পরিবর্তন সূচিত হতে থাকে। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে পিস্তল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইজমেককে একীভূত করা হয়। একীভূতকরণের পর নতুন প্রতিষ্ঠানের নাম হয় কালাশনিকভ কনসার্ন।  

একীভূত হওয়ার আগ পর্যন্ত ধরে নেয়া হয় কালাশনিকভের ভাগ্য সোভিয়েত যুগের অন্যান্য বৃহদাকার প্রতিষ্ঠানের মতোই হতে যাচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠান মন্দার কারণে একসময় ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন হ্রাস, বাজে ব্যবস্থাপনা ও কম মজুরির জন্য মিখাইল কালাশনিকভসহ অন্য বর্ষীয়ান কর্মীদের দায়ী করা হয়। 

২০১৪ সালে প্রাইভেট শেয়ারহোল্ডারদের আগমনের পর প্রতিষ্ঠানটি নতুন মডেলের অ্যাসল্ট রাইফেল, হান্টিং রাইফেল, হ্যান্ডগান ও অন্য ধরনের ছোট অস্ত্র বাজারে নিয়ে আসে। একই সঙ্গে তারা কাপড় উৎপাদনও শুরু করে। ফলস্বরূপ ২০১৭ সালে বর্ধিত রফতানি চাহিদা পূরণ করতে প্রতিষ্ঠানটি ৩০ শতাংশ কর্মী বাড়াতে বাধ্য হয়।

পরিবর্তনের এ পর্যায়ে কালাশনিকভ ই-কার ও রোবট উৎপাদনে নামে। গত সপ্তাহে মস্কোর বাইরে অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষা বাণিজ্য মেলায় কালাশনিকভের স্টলে গিয়ে দর্শকরা এক প্রকার চমকে যায় বলা যায়। অস্ত্রের পাশাপাশি সেখানে প্রদর্শিত হচ্ছিল হালকা নীল রঙের সিভি-১ মডেলের সত্তরের দশকের একটি গাড়ি। রাইফেলের পাশাপাশি প্রদর্শিত এ ইলেকট্রিক গাড়ির মধ্য দিয়ে কালাশনিকভ ই-কারের জগতে প্রবেশের পরিকল্পনা করছে।

সিভি-১-এর উৎপাদন এখনো শুরু হয়নি। এটিকে রাশিয়ায় ইলেকট্রিক গাড়ির ক্রমবর্ধমান বাজারে প্রতিষ্ঠানটির প্রবেশের একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপ চলাকালে কালাশনিকভ রাশিয়ান পুলিশকে ৩০টি ইলেকট্রিক মোটারসাইকেল ও থ্রি-হুইলার প্রদান করে। 

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী বছর তারা তাদের প্রথম ইলেকট্রিক বাইকটি বিক্রি শুরু করবে। তারা বিশ্বাস করে আজ হোক বা কাল, ইঞ্জিনের ব্যবহার শেষ হয়ে যাবেই। কালাশনিকভ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সৌদি আরবে ইলেকট্রিক গাড়ি ও মোটরসাইকেল রফতানির পরিকল্পনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বাস, তাদের তৈরি ই-গাড়ি ও মোটরসাইকেল কালাশনিকভ রাইফেলের মতোই নির্ভরযোগ্য হবে এবং বিশ্ব জয় করে নেবে।

গাড়ির পাশাপাশি কালাশনিকভ নজর দিয়েছে রোবট তৈরিতে। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি মস্কোতে ‘ইগোরেক’ নামে একটি রোবট উন্মোচন করেছে। ১৩ ফুট উচ্চতা ও ৪ দশমিক ৫ টন ওজনের এ রোবটটি কারিগরি ও যুদ্ধসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ করার জন্য নকশা করা হয়েছে। তবে প্রদর্শিত রোবটটি নড়াচড়ায় সক্ষম না হওয়ায় দেশটির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএ