Alexa রহস্যময় দুই সবুজ শিশু!

ঢাকা, রোববার   ১৭ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২ ১৪২৬,   ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

রহস্যময় দুই সবুজ শিশু!

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:১৮ ২২ অক্টোবর ২০১৯  

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

গল্পটা বেশ পুরনো। কিন্তু রহস্য? দিন যতই যাচ্ছে জমে ততটাই ক্ষীর! ভার্চুয়াল দুনিয়া কিংবা বই-পুস্তক সব জায়গাতেই দুই সবুজ শিশুর উপস্থিতি অনেক আগে থেকেই। এদের নিয়ে হয়তো নানা জায়গায় অল্প-স্বল্প গল্পও শুনেছেন। কিন্তু এগুলো কি আসলেই গালগল্প? নাকি এর পেছনে কোনো সত্য রয়েছে? কগস্টেলের র‍্যালফ ও নিউব্রিজের উইলিয়াম নামের দু’জন লেখক সবুজ রঙা শিশুদের কথা লিখেছেন। তারপরও সন্দেহ আর রহস্য ঘিরেই থাকে মধ্যযুগের এসব আখ্যান নিয়ে।

সবুজ দুই শিশুর অস্তিত্ব এবং জীবন নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে, গবেষণাও করেছেন অনেকেই। সেসব বিশ্লেষন করে জানা যায়, দ্বাদশ শতকে ইংল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে উলপিট নামের এক গ্রামে হাজির হয় দুই সবুজ রঙা শিশু। এরা ছিল ভাই বোন। ছোট্ট এই ভাইবোনকে খুবই ভীতসন্ত্রস্ত  দেখাচ্ছিল, কিন্তু তাদের দেখে উল্টো ভয় পেয়ে যায় গ্রামবাসী। কারণ, এই দুই শিশুরই গায়ের রং ছিল সবুজ।

রূপ বা বর্ণের কারণেই নয়, তাদের মুখের ভাষাও ছিল বেশ আলাদা। তারা দু’জন কি বলছে বা বোঝাতে চাচ্ছে তা বোঝার কোনো জোঁ নেই। এমন হয় না কি মানুষ! এদিকে কোথায় তাদের দেশ, কোত্থেকে কীভাবে এলো তা নিয়ে বিশাল রহস্য তৈরি হলো গ্রামে। সে যাহোক- ভয়, দ্বিধা আর বিভ্রান্তি কাটিয়ে তাদের নিয়ে যাওয়া হলো উইলকিস এলাকার স্যার রিচার্ড ডি কেইনের বাড়িতে।

শিম খেতে ভালোবাসতো এই দুই শিশু

রিচার্ড ডি কেইন বুঝতে পারলেন দু’জনই বেশ ক্ষুধার্থ; কয়েকদিন ধরে কিছুই খেতে পারেনি তারা। ঘরে থাকা বেশকিছু ভালো খেতে দিলেন তাদের। এমনকি গ্রামবাসীরাও যে যার সাধ্যমতো খাবার নিয়ে এলো। শিশু দু’টির চারদিকে খাবারের ছড়াছড়ি। রহস্য আরো ঘণিভূত হলো তখনই, যখন তারা কোনো খাবারই তারা খেতে পারছিল না। হঠাৎ করেই বাচ্চা দু’টার চোখ পড়ে শিম গাছের ওপর। তারা শিম খেতে আগ্রহী হয়ে পড়ে। হাতে নিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করে তারা। এ অবস্থা দেখে সবাই তাদের শিখিয়ে দেয় কীভাবে শিমের বীজ খুলে খেতে হয়। এরপর বেশ কিছুদিন ধরে তারা কেবল শিমের বীজই খেতে থাকে।

কিন্তু এই একই খাবার খেয়ে আর কতদিন! অসুস্থ হয়ে পড়ে ছেলেটি। রোগা আর মনমরা ভাবটাও কাটে না। কিছুদিনের মধ্যেই মারা যায় ছেলেটি। অন্যদিকে মেয়েটি সুস্থ থাকে এবং কিছুদিনের মধ্যে তার গায়ের রং সবুজ থেকে স্বাভাবিক হয়ে যায়। কিছুদিন পর সে ধীরে ধীরে ইংরেজি ভাষা শিখতে থাকে এবং তাকে খ্রিস্টধর্মের দীক্ষা দেয়া হয়। অন্য মানুষের মতোই স্বাভাবিক জীবন পায় সে।

এরপর অনেক চেষ্টার পর মেয়েটিকে শেখানো হলো ইংরেজি ভাষা। তারপরই জানা যায় তারা কোথা থেকে এসেছে। সে জানায়, তারা ভাই-বোন এমন এক জায়গা থেকে উলপিটে এসেছিল, যেখানে কোনো সূর্য নেই অথচ আলো রয়েছে সবসময়ই! এক মিষ্টি শব্দের টানে তারা এক অদ্ভুত পথের মাধ্যমে পৃথিবীতে আসে তারা। এই সবুজরঙা ভাইবোনকে নিয়ে পরবর্তীকালে বহু গল্প-কাহিনীর সঙ্গে হয়েছে বিস্তর গবেষণাও। তারপরও এই রহস্য এখনো অমীমাংসিত।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে