রহস্যময় একটি ঘর, ঘুরত ঝড়ো বাতাসে!

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০২ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৯ ১৪২৭,   ০৯ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

রহস্যময় একটি ঘর, ঘুরত ঝড়ো বাতাসে!

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১১ ১২ মে ২০২০  

ছবি: চিকতন কেল্লা

ছবি: চিকতন কেল্লা

একবার শত্রুদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে বাল্টিস্তানের রাজকুমার তাহতাহ খান আশ্রয় নেন চিকতন অঞ্চলে। চিকতনের সৌন্দর্যে রাজকুমার এতটাই মুগ্ধ হন যে, ঠিক করেন সেখানে একটা বড় প্রাসাদ নির্মাণ করবেন। 

তবে পলাতক রাজকুমারের বড় প্রাসাদ তৈরির স্বপ্ন পূরণ হয়নি। অষ্টম শতাব্দীতে সেখানে তৈরি করা হয় ছোট এক দুর্গ। পরে অবশ্য সেই দুর্গই বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় শাসকদের বাসস্থান হয়েছে। দূর্গের বাসিন্দাদের শাসনকালে এর আয়তন বৃদ্ধিও হয়েছে বটে। 

চিকতন কেল্লা এই দূর্গ চিকতন খার নামেও পরিচিত। লাদাখের কার্গিল জেলার চিকতন গ্রামে নিঃসঙ্গ পাহাড়ের চূড়ায় অতীতের স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দুর্গটি। সিন্ধুনদের উপত্যকায় তিব্বতি স্থাপত্যরীতিতে তৈরি এই প্রাসাদ অতীতে ছিল লাদাখের গর্ব। 

বাল্টিস্তানের শিল্পীরা অনেক কষ্টে পাথর আর কাঠ দিয়ে বানিয়েছিলেন চিকতন দুর্গ। কাঠ দিয়ে সিলিংয়ের পাশাপাশি তৈরি করা হয়েছিল দুর্গের কাঠামো। বলা হয়, এই প্রাসাদে সেসময় ছিল একটি ঘূর্ণায়মান কক্ষ। পাহাড়ি উপত্যকার ঝোড়ো বাতাসের গতিবেগের উপর নির্ভর করে ঘরটি ধীরে ধীরে ঘুরত। 

জম্মুর ডোগরা রাজবংশের আধিপত্য কায়েমের আগে চিকতন দুর্গ ছিল ক্ষমতার শীর্ষে। ক্রমে চিকতন গ্রাম ডোগরা সাম্রাজ্যের অংশ হয়ে যায়। ফলে চিকতন দুর্গ ক্রমশ পরিত্যক্ত হতে শুরু করে। বহুবার চিকতন দুর্গ শত্রুর আক্রমণের নিশানা হয়েছে। তবে সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত হয়ে পড়েনি। 

গৌরবময় স্মারক আজ নিঃসঙ্গ ধ্বংসস্তূপ১৯ শতকের শেষে চিকতন দুর্গ পুরোটাই পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। এই দুর্গ থেকে পাথর এনে কাজে লাগানো হয়েছে স্থানীয় একটি হাসপাতাল তৈরিতে। ফলে সময়ের তুলনায় আরো বেশি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় অতীতের এই লাদাখি গৌরব। চিকতন দুর্গকে বাঁচাতে শেষে স্থানীয় বাসিন্দারা ভৌতিক গল্প প্রচার করে। যাতে ভগ্নাবশেষ থেকে দূরে রাখা যায় কৌতূহলীদের। 

তবে প্রকৃতিকে তো আর ভূতের ভয় দেখানো যায় না। তার ছোবলে ক্রমশ চিকতন দুর্গ নুইয়ে পড়ে। ধ্বংসলীলা আরো বেড়ে যায় সংশ্লিষ্ট মহলের অবহেলায়। চিকতন দুর্গকে সংরক্ষণ করার জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। নির্জন প্রান্তরে অবেহেলাতেই পড়ে রয় অতীতের গৌরবগাঁথা এই ঐতিহাসিক সৌধ। 

অতীতের সেই গৌরবময় স্মারক আজ নিঃসঙ্গ ধ্বংসস্তূপ। কার্গিল শহর থেকে ৭৫ কি.মি. দূরে শ্রীনগর-লেহ জাতীয় সড়ক থেকে আরো উত্তরে গেলে পাওয়া যায় এই কেল্লার ভগ্নাবশেষ। এর একদিকে লেহ শহরের প্রাসাদ এখন পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে। অন্যদিকে চিকতন কেল্লার চিহ্ন রয়ে যায় পর্যটকদের অগোচরেই। 

অথচ এই কেল্লাই ছিল লেহর প্রাসাদের তুলনায় আয়তনে বড় এবং বয়সেও প্রাচীন। তবে সংরক্ষণ আর যত্নে এটি হয়ে উঠতে পারে আকর্ষনীয় পর্যটন কেন্দ্র।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস