Alexa রহস্যময় অ্যান্টার্কটিকা!

ঢাকা, রোববার   ২১ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৬ ১৪২৬,   ১৭ জ্বিলকদ ১৪৪০

রহস্যময় অ্যান্টার্কটিকা!

খালিদ মাহমুদ খান

 প্রকাশিত: ১২:১৩ ১০ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১২:১৩ ১০ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর সবচেয়ে উচ্চতম,শীতলতম এবং শুষ্ক মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকা। এই মহাদেশের পরিবেশ এতই দূর্গম যেকোনো মানুষের পক্ষে এই মহাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করা সম্ভব নয়। অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের গড় উচ্চতা ও বায়ুপ্রবাহবেগও অন্যান্য মহাদেশগুলোর মধ্যে সর্বাধিক। সেখানকার বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মাত্র ২০০ মিমি. হওয়ায় এই মহাদেশকে শীতল মরুভূমি হিসেবে গণ্য করা হয়। পৃথিবীর ৭ টি মহাদেশ প্রায় ৫০ কোটি বছর আগে সুপারকন্টিনেট গন্ডোয়ানা আকারে একসঙ্গে ছিলো। পৃথিবীর ভূগর্ভস্থ প্লেটের গতিশীলতার কারণে পর্যায়ক্রমে মহাদেশগুলো আলাদা হয়ে যায়। দক্ষিণ মেরুতে অবস্থিত বিশ্বের পঞ্চম এই বৃহত্তম মহাদেশটির আয়তন ১ কোটি ৪০ লাখ বর্গ কিলোমিটার বা ৫৪ লাখ বর্গমাইল। এই মহাদেশের ৯৮ শতাংশ অঞ্চল বরফে ঢাকা আর এই বরফের চাদরের সর্বনিম্ন পুরুত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। পৃথিবীর মোট বরফের ৯০ শতাংশ এবং বিশুদ্ধ পানির ৭০ শতাংশ অ্যান্টার্কটিকাতে জমে আছে।

পৃথিবীর ৬ টি মহাদেশের অধীনে প্রায় ২০০ টি দেশ থাকলেও অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের কোনো দেশ নেই। এর প্রধান কারণ হলো সেখানে মানুষের জন্য স্থায়ী বসতি নির্মাণের সুযোগ সুবিধা অভাব। চারদিকে ঢাকা এই শীতলতম মরুভূমিতে পেঙ্গুইন, সিল, শ্বেত ভাল্লুক, তিমিসহ বিভিন্ন প্রকার শৈবাল ও কিছু অণুজীব উদ্ভিদ রয়েছে। ব্রিটিশ নাবিক ক্যাপ্টেন জেমস কুক ১৭৭৩ সালে প্রথম অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের এক পাশ অতিক্রম করেন। ১৮২০ সালে তিনজন রাশিয়ান নাবিক এবং একজন আমেরিকান নাবিক প্রথম অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশে পা রাখেন। খনিজ তেল আবিষ্কারের পূর্বে মানুষ তিমি ও সিল মাছের তেলের ওপর নির্ভরশীল ছিল। উনিশ শতকের শুরুতে সিল ও তিমির তেল সংগ্রহের জন্যই মানুষ প্রথম অ্যান্টার্কটিকায় আসতে শুরু করে।

এ মহাদেশে মূলত দু’টি ঋতু; শীত ও গ্রীষ্মকাল। এ দুই ঋতুতে অ্যান্টার্কটিকায় সত্যিকার অর্থেই একেবারে রাত আর দিন পার্থক্য। অ্যান্টার্কটিকায় গ্রীষ্মকালে সূর্য কখনোই পুরোপুরি অস্ত যায় না এ সময় দিগন্ত রেখা বরাবর সূর্য চারদিকে ঘুরতে থাকে আর শীতকালে সেখানে টানা চার মাস সূর্যই ওঠে না। অ্যান্টার্কটিকার এই দীর্ঘ রাতের আকাশে চাঁদ উঠলে তা টানা এক সপ্তাহ পর্যন্ত দেখা যায়। সাধারণত শীতকালে এখানকার তাপমাত্রা থাকে -৮০ থেকে -৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং গ্রীষ্ম মৌসুমে এর তাপমাত্রা থাকে ৫ থেকে ১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। প্রতিবছর গ্রীষ্মকালে গড়ে প্রায় চার হাজার বিজ্ঞানী অ্যান্টার্কটিকায় গবেষণার জন্য আসেন এবং শীতকালে মাত্র এক হাজারের মতো বিজ্ঞানী এই চরম প্রতিকূল আবহাওয়ায় অবস্থান করেন।

বিভিন্ন দেশ থেকে আগত বিজ্ঞানীদের সমাজকে টিকিয়ে রাখতে ড্রাইভার, বাবুর্চি বা মেকানিকদের মত কিছু অন্য পেশাজীবী লোকজনও সীমিত সময়ের জন্য এখানে আসে।এন্টার্কটিকার মাঝ বরাবর ট্রান্স অ্যান্টার্কটিক পর্বতশ্রেণী এই মহাদেশকে পূর্ব ও পশ্চিম অংশে ভাগ করেছে। পশ্চিম দিকের তুলনায় এর পূর্ব দিকে শীতের প্রকোপ অনেক বেশি। গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর কারণে আমাদের গ্রহের এই হিমঘর প্রত্যাশার তুলনায় খুব দ্রুত গলতে শুরু করেছে। পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার বরফের স্তর এভাবে গলতে থাকলে লন্ডন, নিউইয়র্ক, মুম্বাই, গুয়াংজু ও ওসাকার মতো শহরগুলো ভবিষ্যতে পানির নিচে তলিয়ে যাবে। অ্যান্টার্কটিকায় কোনো স্থায়ী বাসিন্দা না থাকায় ১৯০৮ সালে ঔপনিবেশিক ক্ষমতাধর ব্রিটেন এন্টার্কটিকার  মালিকানা দাবি করে।

ব্রিটেনের দেখাদেখি ১৯২৪ সালে ফ্রান্স, ১৯২৯ সালে নরওয়ে, ১৯৩৯ সালে অস্ট্রেলিয়া এবং ১৯৪৩ সালে আর্জেন্টিনা এর মালিকানা দাবি করে বসে। পরবর্তীতে ১৯৫৯ সালে ১২ টি দেশের মধ্যে এন্টার্কটিকা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি বলে কোনো দেশ এই ভূমির মালিকানা দাবি করতে পারবে না। চুক্তির মাধ্যমে এন্টার্কটিকায় সামরিক কর্মকান্ড পরিচালনা এবং খনিজ সম্পদ খনন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। এখনো পর্যন্ত ৪৫ টি দেশ এন্টার্কটিকা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। মঙ্গল গ্রহে গেলে মানুষকে যে ধরনের পরিবেশের মুখোমুখি হতে হবে নাসা সে প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশকে ব্যবহার করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস