Alexa রসিক নির্বাচন: উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হচ্ছে প্রচারণা

ঢাকা, বুধবার   ২১ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৭ ১৪২৬,   ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

রসিক নির্বাচন: উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হচ্ছে প্রচারণা

 প্রকাশিত: ১১:৪৩ ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭   আপডেট: ১৫:১১ ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭

রসিক নির্বাচন: উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হচ্ছে প্রচারণা

রসিক নির্বাচন: উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হচ্ছে প্রচারণা

দুয়ারে কড়া নাড়ছে রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচন। আর মাত্র একদিন বাদেই হবে ভোটগ্রহণ। নির্বাচনের প্রচার প্রচারণাও শেষ হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। এ কারণে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাপাসহ অন্যান্য দলের প্রার্থী এবং দলের কেন্দ্রীয়-স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও কর্মী-সমর্থকরা নিজেদের পক্ষে রায় নিতে মরিয়া হয়ে চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী মাঠ। এর ফলে উত্তপ্ত হয়ে পড়েছে রংপুরের রাজনৈতিক অঙ্গন। প্রশাসনও নিয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

রাতে মিটিং-মিছিল আর জ্বালাময়ী স্লোগান থেমে গেলেও প্রতিটি পাড়া-মহল্লা, হাট বাজার সরগরম ‘কে হচ্ছেন রসিকের পরবর্তী মেয়র’ এই আলোচনা। এ নিযে মহানগরীতে রয়েছে ভোটের উৎসবমুখর পরিবেশ।

প্রতিনিধির পাঠানো খবরে জানাগেছে, শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে প্রচারণা। প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত রাস্তায় রাস্তায় প্রার্থীদের পক্ষে মাইকিং চলছে। রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা, মোটরবাইকে করে মাইকের শব্দে সব এলাকা মুখর হয়ে উঠেছে।

তবে ভোটাররাও বেশ সচেতন। তাদের ভাষ্য, ভোট বৃথা হতে দেবে না তারা। বুঝে-শুনে যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দেবেন তারা। কথা হয় ৩১ নং ওয়ার্ডের ভোটার রুবেল মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘চা-বিড়ি খেয়া এইবার ভোট দিবার নেই। ভালো মানুষক ভোট দেমো। যার যোগ্যতা আছে, এলাকার উন্নয়ন করিবার পাইবে, তার মার্কায় ভোট দেমো।’

নগরীর আরাজী তামপাট গ্রামের ভোটার আশরাফুল আলম ও শাহিন মিয়া বলেন, ‘হামরা এবার মার্কা দেখি ভোট দেমো না। প্রার্থী দেখিই বুজিশুনি ভোট দেমো। সৎ আর যোগ্য প্রার্থী দেখি ভোট দিলে অন্তত পক্ষে হামার এলাকার উন্নয়ন হইবে।’

প্রার্থীরা স্থান-কাল-পাত্রভেদে কখনো দলীয় পরিচয়ে, কখনো নিজের পরিচয় দিয়ে ভোট চেয়েছেন ভোটারদের কাছে। এ নির্বাচনে প্রার্থীর পরিচয়, আত্মীয় পরিচয় ও কর্মী বাহিনীর চেষ্টার মাধ্যমেই ভোট সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এমন চিন্তাভাবনা মাথায় নিয়েই প্রার্থীরা শেষ করছেন তাদের প্রচার-প্রচারণা।

এছাড়া, দলের মনোনীত প্রার্থীর হয়ে মাঠে নেমেছেন কেন্দ্রীয় নেতারাও। গণসংযোগের পাশাপাশি ভোট চাইতে দেখা গেছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতাদেরকেও।

রংপুর মহানগরীতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী কাওছার জামান বাবলার পক্ষে প্রচারণাসভায় অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে তিনি বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করতে প্রস্তুত রয়েছে রংপুরবাসী। আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত জনগণ। তাদের (আওয়ামী লীগ) হাত থেকে ভোট চুরি ঠেকাতে নিজ নিজ ভোট কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। এছাড়া নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে দলটি।

বিএন‌পির অভি‌যো‌গের কোনো বাস্তবতা নেই জানি‌য়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ব‌লেছেন, যে রকম নির্বাচন নারায়ণগঞ্জ, কু‌মিল্লায় হ‌য়ে‌ছে একইভা‌বে রংপু‌রেও অনু‌ষ্ঠিত হ‌বে। অবাধ ও নি‌রপেক্ষ নির্বাচনের পরি‌বে‌শের জন্য সরকার সর্বাত্মক সহ‌যো‌গিতা দে‌বে।

তবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ প্রচারণাসভায় জানিয়েছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। এ নিয়ে শঙ্কার কিছু নেই।

রংপুরের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার এ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন ১১ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা।

আচরণবিধি লংঘন ও নিরাপত্তা সম্পর্কে সুভাষ চন্দ্র সরকার জানান, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু ও বিএনপি প্রার্থী কাওসার জামান বাবলাকে আচরণবিধি লংঘনের দায়ে দ্বিতীয় দফা শোকজ করা হয়েছে। এছাড়া গত কয়েক দিনে বিভিন্ন প্রার্থীর কাছে আচরণবিধি লংঘনের দায়ে জরিমানা আদায় করা হয়েছে প্রায় ২৬ হাজার টাকা।

তিনি জানান, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেয়া হবে না। রংপুর বেগম রোকেয়া কলেজ, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং লায়ন্স কিন্ডার গার্টেন ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

প্রথম বারের মতো গত ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ সিটি করপোরেশনে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৪২১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৯ এবং নারী ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৬২ জন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই

Best Electronics
Best Electronics