Alexa রশিদ খানের কথাই রাখল বাংলাদেশ

ঢাকা, শনিবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৭ ১৪২৬,   ২২ মুহররম ১৪৪১

Akash

রশিদ খানের কথাই রাখল বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:০২ ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৯:০২ ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

কোনো কিছুতেই কাজ হলো না। হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো টাইগারদের। অথচ গতকালই সাকিব বলেছিলেন কিছুই অসম্বব নয়। আমি যদি ১৭০, সৌম্য অন্তত ১২০ করে তাইলেই হবে, আর বৃষ্টি তো আছেই। 

কিন্তু পারলেন না তারা। আর মাত্র ১০ মিনিট টিকতে পারলেই ম্যাচ ড্র হতো। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা পারলেন না। ২২৪ রানের বিশাল পরাজয়ের লজ্জাই বরণ করতে হলো টাইগারদের। বাংলাদেশে এসে ঐতিহাসিক এক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লো আফগানিস্তান।

এর আগে দিনের শুরুটাই হলো বৃষ্টি দিয়ে। এর জন্য খেলা শুরু হতে সময় লাগে প্রায় তৃতীয় সেশন পর্যন্ত। একসময় তো শঙ্কাই দেখা দিল খেলা হবে কি না। তখন টাইগার শিবির কিছুটা খুশি হলেও আশাহত অবস্থায় ছিলো আফগান শিবির। জয়ের এতা কাছে এসে বৃষ্টির কারণে খেলা ড্র হবে! অনেক কথা, অনেক জল্পনা-কল্পনার মধ্যে একসময় আফগান অধিনায়ক রশিদ খান বললেন বৃষ্টির মধ্যে যদি এক ঘন্টাও সময় পাওয়া যায় তাহলে আফগানরা এই টেস্ট জয় করবে। আফগান মিডিয়া ম্যানেজার সৈয়দ সাদাত হোসেন প্রেসবক্সে এসে এই আশাবাদের কথা জানান। হলোও তাই। ১ ঘণ্টা ১০ মিনিটের সুযোগ পেয়ে ১ ঘণ্টার মধ্যেই বাকি চার উইকেট তুলে নিয়ে জয়ী হয় আফগানরা।

জানাই ছিল হারতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বৃষ্টি সেটাকে বিলম্বিতই করলো শুধু। শেষ বিকেলে ১৮.৩ ওভার খেলার সুযোগ করে দিলো বৃষ্টি। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে সৌম্য সরকার আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আফগানিস্তানের কাছে টাইগাররা হেরে গেলো ২২৪ রানে।

শেষ দিনে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৭৪ রান। হাতে চার উইকেট। জয়টা একেবারেই অসম্ভব। কিন্তু টাইগারদের মনে আশা ছিল অন্তত ম্যাচটা যদি বাঁচানো যায়! বৃষ্টি সেই আশা বাড়িয়ে দিয়েছিল কয়েকগুণ। মাঝে একবার মাঠে গড়িয়েছিল খেলা। কিন্তু ১৩ বল পর আবারও বৃষ্টি নামায় খেলা বন্ধ। ৪টা ২০ মিনিটে খেলা শুরু হয় আবার। দিনের বাকি সময়ের মধ্যে ১৮.৩ ওভার খেলতে হবে সাকিব আল হাসানদের। সেই ১৮.৩ ওভারই খেলতে পারলো না শেষ ৪ ব্যাটসম্যানরা।

এর আগে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিন টস জিতে ব্যাট করতে নামে আফগানরা। বাংলাদেশের বোলারদের কাঁচকলা দেখিয়ে প্রথম ইনিংসে তাদের সংগ্রহ ৩৪২ রান। সেঞ্চুরি করেন রহমত শাহ। আসগর আফগান ৯২ এবং রশিদ খান করেন হাফ সেঞ্চুরি।

জবাব দিতে নেমে মাত্র ২০৫ রানে অলআউট বাংলাদেশ। আফগান স্পিনার রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি কিংবা জহির খানদের আটকাতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা উইকেট হারিয়েছে অকাতরে।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে আফগানরা তুললো ২৬০ রান। আফগানদের মোট লিড দাঁড়ালো ৩৯৭। জয়ের জন্য ৩৯৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে চতুর্থ দিন। ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ গড়ালো পঞ্চম দিনে। এদিন বৃষ্টির চোখ রাঙানিতে একসময় মনে হলো খেলা ড্রয়ের দিকেই যাচ্ছে। কিন্তু শেষ বিকেলে এসে মাত্র ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট সময় পেয়েই বাজিমাত করে দিল আফগানরা। বাংলাদেশকে অলআউট করে দিল ১৭৩ রানে।

সাকিব আল হাসান আউট হওয়ার পর মাঠে নামেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ২৮ বল মোকাবেলা করে ১২ রানে এলবিডব্লিউর শিকার হন তিনি। তাইজুল তো রানের খাতাই খুলতে পারেননি। ১৫ রান করে সৌম্য আউট হলেন শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে। 

রশিদ খান একাই নিলেন ৬ উইকেট। দুই ইনিংস মিলে তার উইকেট সংখ্যা ১১। নিজের প্রথম অধিনায়কত্ব, প্রথম ম্যাচেই জয়। বাংলাদেশের মাটিতে তাদের প্রথম টেস্টে জয় দিয়ে ইতিহাস গড়লো আফগানরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

আফগানিস্তান ১ম ইনিংস: ৩৪২

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২০৫

আফগানিস্তান ২য় ইনিংস: ২৬০

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস:(লক্ষ্য ৩৯৮, আগের দিন ১৩৬/৬) ৬১.৪ ওভারে ১৭৩ (সাকিব ৪৪,সৌম্য ২, মিরাজ ১৫, তাইজুল ০, নাঈশ ১*; ইয়ামিন ৪-১-১৪-০, নবি ২০-৫-৩৯-১, রশিদ ২১.৪-৬-৪৯-৬, জহির ১৫-০-৫৯-৩, কাইস ১-০-৬-০)।

ডেইলি বাংলাদেশ/সালি