রমজানে যেতে পারেন হায়দ্রাবাদ

.ঢাকা, শুক্রবার   ২৬ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ১২ ১৪২৬,   ২০ শা'বান ১৪৪০

রমজানে যেতে পারেন হায়দ্রাবাদ

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:০১ ১৫ এপ্রিল ২০১৯   আপডেট: ১৪:১১ ১৫ এপ্রিল ২০১৯

হায়দ্রাবাদের একটি মসজিদ

হায়দ্রাবাদের একটি মসজিদ

রমজানেও যারা দেশের বাইরে ঘুরে বেড়াতে চান, তারা হায়দ্রাবাদ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিন এক্ষুণি! গম্বুজ-মসজিদ থেকে শুরু করে সমুদ্র-সবই আছে দেখার মতো। সারাদিন ঘুরে ইফতারে ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদও নিতে পারবেন। আর সেখানকার হালিম ছেখে না দেখলেই নয়। চলুন জেনে নিই রাজ্যটিতে কী আছে দেখার মতো-

রামোজি ফিল্ম সিটি: হায়দ্রাবাদ গিয়েও স্থানটি আপনার গন্তব্য হবে না, তা হয় নাকি। শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে ২০০০ একর জুড়ে গড়ে ওঠা রামোজি ফিল্ম সিটি বিশ্বের বৃহত্তম ইন্টিগ্রেটেড ফিল্ম প্রডাকশন কমপ্লেক্স৷ ফিল্ম সিটির মধ্যে স্কুল, কলেজ, মন্দির-মসজিদ-চার্চ, রেলস্টেশন, বিমানবন্দর, ঝাঁ চকচকে রাস্তাঘাট হায়দরাবাদ ভ্রমণে অবশ্য দ্রষ্টব্য৷ একদিনের ভ্রমণে প্রায় ১২০০ থেকে ১৪০০ রুপি খরচ হয় জায়গাটিতে।

চার মিনার: প্রাচীন এই স্থাপনাটি হায়দ্রাবাদকে বিশ্ব দরবারে পরিচয় করিয়ে দেয়। মোহাম্মদ কুলি কুতুবের সময়ে ১৫৯১ সালে এটি নির্মাণ হয়েছিল। স্থাপনাটি ২০ মিটার চওড়া এবং ভূমি থেকে মিনারগুলোর উচ্চতা ৪৮.৭ মিটার। প্রতিটি মিনার চারতলা বিশিষ্ট, প্রতিটি তলাকে সুদৃশ্যভাবে খোদাই করা বৃত্ত বলে মনে হয়। এগুলোর পার্শ্বদেশের বিস্তৃত অংশে রয়েছে মজবুত খিলান। প্রতিটি খিলান ১১ মিটার প্রশস্ত যা ভিত্তিমূল থেকে চূড়া পর্যন্ত ২০ মিটার। কোনো এক সময় রাজকীয় চারটি রাস্তার নিদর্শন হিসেবে খিলানগুলো ব্যবহার হতো।

মক্কা মসজিদ: চর মিনারের কাছেই মসজিদটি অবস্থিত। প্রায় দশ হাজার মানুষ একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারে পৃথিবীর অন্যতম এই বৃহৎ মসজিদে। মুহাম্মদ কুলি কুতুব শাহ এর সময়ে ১৬১৪ সালে এটা নির্মনের পরিকল্পনা করা হলেও এটা সম্পূর্ণ হয় ১৬৮৭ সালে। মসজিদটিতে  নামাজ পড়ে দিনটি স্মরণিয় করে রাখতে পারেন।

চার মিনার

বিড়লা মন্দির: সম্পূর্ণ সাদা মার্বেল পাথরে তৈরী বিড়লা মন্দির মনোলোভা পর্যটন কেন্দ্র। একটি পাহাড়ের মাথায় দাঁড়িয়ে আছে এই মন্দির যেখান থেকে দেখা যায় হুসেন সাগর যা এক অসাধারণ দৃশ্যের অবতারণা করে।

গোলকুন্ডা দুর্গ: ভারতের মধ্যে তৈরি সবচেয়ে সুন্দর গোরকুন্ডা দুর্গ এটি। ১২০ মিটার উঁচু পাহাড়ের উপরে অবস্থিত দুর্গটির চারিদিকে গোলা নিক্ষেপের জন্য ফোকরসহ সুরক্ষিত দেয়াল এবং আক্রমণকারী বাহিনীর হাতির আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য লোহার কীলকসহ শক্তিশালী প্রবেশদ্বার রয়েছে। দুর্গের শব্দ পরিকল্পনা অত্যন্ত উন্নত, কেননা প্রবেশদ্বারে কেউ হাততালি দিলে সেটা পাহাড়ের মাথা থেকে শোনা সম্ভব।

হুসেনসাগর লেক: হায়দ্রাবাদ আর সেকেন্দ্রাবাদ শহরের মাঝখানে হুসেনসাগর লেক। রাতের আলোকমালা লেকের পরিবেশকে মোহময় করে তোলে। সান্ধ্য ভ্রমণের আদর্শ পরিবেশ। লেকের ঠিক মাঝখানে বুদ্ধের মনোলিথিক স্ট্যাচু। লেকের বুকে বোটিং করা যায়।

হায়দরাবাদের বিরিয়ানি বিখ্যাত। মদিনা বিল্ডিংয়ের বিপরীতে ‘শাদাব’ বিরিয়ানির জন্য বিখ্যাত। মাধপুরের ‘বিরিয়ানি ঘর’-এরও সুখ্যাতি আছে। এখানকার আর এক বিখ্যাত জিনিস মুক্তা। মনমাতানো রং আর নানা ছাঁদের মুক্তার অলঙ্কার পাওয়া যায় হায়দ্রাবাদে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে