রমজানের রোজা: ফরজ হয়েছিল যেভাবে 

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০২ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৯ ১৪২৭,   ০৯ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

রমজানের রোজা: ফরজ হয়েছিল যেভাবে 

ধর্ম ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:১৯ ১৮ মে ২০২০  

‘রমজান মাস, এ মাসেই নাজিল করা হয়েছে কোরআন। মানুষের জন্য হেদায়েত, সৎপথের সুস্পষ্ট নিদর্শন এবং হক ও বাতিলের পার্থক্যকারী।’ (সূরা: বাকারা)

‘রমজান মাস, এ মাসেই নাজিল করা হয়েছে কোরআন। মানুষের জন্য হেদায়েত, সৎপথের সুস্পষ্ট নিদর্শন এবং হক ও বাতিলের পার্থক্যকারী।’ (সূরা: বাকারা)

রমজানের রোজা ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি এবং মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে মুমিন মুসলমানের ওপর ফরজ করে দেয়া এক বিশেষ ইবাদত। পুরো রমজান মাস রোজা পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন মহান আল্লাহ তায়ালা। 

যুগে যুগে নবী-রাসূলদের ওপরও রোজা পালন করা ছিল আবশ্যক। সে ধারাবাহিকতায় মুসলিম উম্মাহর জন্যও রোজা ফরজ। আল্লাহ তায়ালা সে কথা পবিত্র কোরআনুল কারিমে উল্লেখ করে বলেছেন-

يٰٓأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

‘হে ঈমানদারা! তোমাদের প্রতি রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের আগের লোকেদের প্রতি ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পার।’ (সূরা: বাকারা, আয়াত: ১৮৩)।

ফরজ হওয়ার আগে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর রোজা: মদিনায় হিজরতের আগে মুসলমানদের জন্য রোজা ফরজ ছিল না। প্রিং নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় আগমন করার পর শুধু আশুরার (মহররম মাসের ১০ তারিখের) রোজা রাখতেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় হিজরত করার পর লক্ষ্য করলেন মদিনার ইহুদিরা মুহররমের ১০ তারিখ রোজা পালন করছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের কাছে এ রোজা রাখার কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। তারা বললো, আমাদে নবী হজরত মুসা আলাইহিস সালাম এ দিনে ফেরাউনের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। আর ফেরাউন দলবলসহ ধ্বংস হয়েছিলেন। এ জন্য আমরা এ দিনে রোজা রাখি।

তখন বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘আমিই এর অগ্রগণ্য।’ অর্থাৎ এ রোজা পালনের হকদার আমিই বেশি। এরপর রাসূল (সা.) মহররমের ১০ তারিখ আশুরার রোজা রাখলেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে এ দিন রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন।

কুরাইশদের রোজা: প্রাক ইসলামি যুগে আরবের লোকেরাও রোজা পালনে সক্রিয় ছিল। মক্কার কুরাইশরাও অন্ধকার যুগে ১০ মহররম রোজা রাখতো। এ দিনতারা রোজা অবস্থায় পবিত্র কাবা শরিফে নতুন কিসওয়া বা গিলাফ পরিধান করাতো। (মুসনাদে আহমদ)।

রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে: রমজানে রোজা ফরজ হওয়ার আগে কোনো রোজা ফরজ ছিল কিনা তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার রোজা ফরজ ছিল আবার কেউ কেউ বলেন, আইয়্যামে বিজের রোজা তথা আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রোজা ফরজ ছিল।

রমজানের রোজার পালনের নির্দেশ: মদিনায় দ্বিতীয় হিজরির ১০ শাবান মুমিন মুসলমানের ওপর রমজানের রোজা ফরজ হয়। আল্লাহ তায়ালা আয়াত নাজিল করে বলেন,

شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِىٓ أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْءَانُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنٰتٍ مِّنَ الْهُدٰى وَالْفُرْقَانِ ۚ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ ۖ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلٰى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۗ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلٰى مَا هَدٰىكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

‘রমজান মাস, এ মাসেই নাজিল করা হয়েছে কোরআন। মানুষের জন্য হেদায়েত, সৎপথের সুস্পষ্ট নিদর্শন এবং হক ও বাতিলের পার্থক্যকারী। অতএব, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে রোজা পালন করে। তবে কেউ রোগাক্রান্ত হলে অথবা সফরে থাকলে এ সংখ্যা অন্য সময় পূরণ করবে। আল্লাহ চান তোমাদের জন্য যা সহজ তা, আর তিনি চান না তোমাদের জন্য যা কষ্টকর তা, যেন তোমরা সংখ্যা পূর্ণ করো এবং আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করো, তোমাদের সৎপথে পরিচালিত করার জন্য এবং যেন তোমরা শুকরিয়া আদায় করতে পার।’ (সূরা: বাকারা, আয়াত: ১৮৫)।

এরপর থেকেই মুসলিম উম্মাহর প্রতি পুরো রমজান মাস রোজ ফরজ হয়ে যায়। সে থেকে মুমিন মুসলমান মাসব্যাপী রোজা পালন করে আসছেন।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে যথাযথ হক আদায় করে রমজানের রোজাগুলো শেষ পর্যন্ত রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে