Exim Bank
ঢাকা, মঙ্গলবার ১৯ জুন, ২০১৮
Advertisement

রমজানের রোজা নিয়ে বিশ্বকাপে বিতর্ক

 স্পোর্টস ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৫১, ১৩ জুন ২০১৮

২৬১ বার পঠিত

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

রাশিয়া বিশ্বকাপের আগেই শীর্ষ ক্রীড়াবিদদের রোজা রাখার যৌক্তিকতা  নিয়েই শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ বিতর্ক। এর প্রধান কারণ হচ্ছে আসন্ন রাশিয়া বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে চার মুসলিম  প্রধান দেশ  মিশর,তিউনিশিয়া,সৌদি আরব ও মরক্কো।

টুর্নামেন্টের আগেই পবিত্র রমজানের মাস শুরু হওয়ায়   তাদের প্রস্তুতি বাঁধাগ্রস্ত হয়েছে কিনা,বিতর্ক শুরু হয়েছে তা নিয়ে।

পবিত্র রমজান শেষ হবার সাথে সাথে তাদের নেমে পড়তে হবে বিশ্বকাপের লড়াইয়ে।  অথচ পুরো রমজান জুড়ে মুসলমানরা রোজা রেখে থাকেন।  ঐতিহ্যগত ভাবে প্রতি বছর মুসলিম ধর্মাবলম্বী,খেলোয়াড়,কোচ থেকে শুরু করে সমর্থকরা সবাই রমজান মাসের রোজা পালন করে থাকেন। এবারও এর ব্যতিক্রম ছিলনা।

 

এর প্রভাব দলের মধ্যে পড়েছে। যেমন মিশর রমজান মাসে তিনটি প্রীতি র্ম্যাচে অংশ নিলেও একটিতেও জয় পায়নি। যা নিয়ে সমর্থকরা সমালোচনা করছে।  পারফর্মেন্সের ঘাটতি থাকলেও ফারওরা গোটা রমজান মাস রোজা পালন করবে বলে এসোসিয়েশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আগেই জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

১ জুন মিশর কলম্বিয়ার সঙ্গে গোল শুন্য ড্র করার পর তাদের আর্জেন্টাইন কোচ হেক্টর কুপার বলেছেন,রমজানের রোজার প্রভাব পড়েছে ছেলেদের মধ্যে। এর পরপরই লিভারপুলের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ম্যাচে রোজা না রেখেই রিয়াল মাদ্রিদের মোকাবেলা করার কথা জানিয়েছিলেন  মিশরীয় ফুটবল সুপার স্টার মোহাম্মদ সালাহ। ওই ম্যাচে তিনি কাঁধের ইনজুরিতে পড়েন এবং লিভারপুল ৩-১ গোলে পরাজিত হয়। এই ঘটনাটিকে ‘খোদা প্রদত্ত শাস্তি’ বলে মন্তব্য করেছেন কুয়েতের একজন শেখ। তবে এর পরপরই সালাহর সমর্থনে এগিয়ে আসে মিশর সহ গোটা আরব বিশ্ব।

এদিকে চলতি বছরের শুরুতে  মুসলামনদের তীর্থ ভুমি সৌদি আরবের ফুটবল ফেডারেশনের একটি ঘোষনা মুহুর্তেই বিতর্কের জন্ম দেয়। তারা ঘোষণা করেছিল যে,কোন খেলোয়াড় যদি রোজা রাখা থেকে বিরত থাকার আবেদন করেন তাহলে তার আবেদন মঞ্জুর করা হবে।’এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সৌদি সামাজিক মাধ্যমে এর বিরোধী সমালোচনায় মেতে উঠে। তবে ধর্মীয় নেতা সালেহ আল মাগামসি ফতোয়া দিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটান। তিনি বলেন, ‘যেহেতু খেলোয়াড়রা ভ্রমনে যাচ্ছে,সেহেতু ইচ্ছে করলে তারা রোজা রাখা থেকে বিরত থাকতে পারবেন।’

তিউনিশিয়ায় খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষন সুচি নির্ধারণ করা হয়েছে রোজা’কে আবর্তন করে। ইফতারের অনেক আগেই যেটি শেষ করে দেয়া হয়।

তিউনিশিয়ার ফরাসি ভাষার সংবাদ পত্র লা প্রেসের রিপোর্টে লেখা হয়েছে,‘ক্রীড়া এবং রোজা’র সমন্বয়ের বিষয়টি বেশ জটিল। এটি নিয়ে বিতর্কের অবসান এত সহজেই হচ্ছে না।’

মরক্কোর প্রধান কোচ হার্ভে রেনার্ড মে মাসের শেষ দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন,‘এই বিতর্ক নিয়ে তিনি কিছু বলতে চাননা। কারন এটি একটি স্পর্শকাতর বিষয়। এ বিষয়ে ফতোয়া দেয়ার একমাত্র অধিকার রয়েছে মরক্কোর শীর্ষ ধর্মীয় পরিষদ হায়ার কাউন্সিল অব ওলমার। তারাও নিরবতা পালন করেছে বিষয়টি নিয়ে।

মিশরের শীর্ষ সুন্নি কর্তৃপক্ষ আল আজহার এ বিষয়ে একটি প্রস্তবনা দিয়েছে,‘কোন ক্রীড়াবিদ যদি রোজা রেখে খেলাধুলায় অংশগ্রহনের সময় খুব বেশী সমস্যাবোধ করেন,তাহলে রোজা পুর্ন না করেই ভাঙ্গতে পারবে।’

তবে অন্য রকম চিন্তা ভাবনা মিশরের ক্রীড়া চিকিৎসক শরিফ আজমির। তিনি বলেন,‘কোন ক্রীড়াবিদের বিশেষ করে ফুটবলারের অবশ্যই রমজানের সময় ভারসাম্যপুর্ন খাদ্য গ্রহন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ফিফার নিয়মেও রোজাদার খেলোয়াড়দের কিছু সুবিধা করে দিয়েছে। নিয়মে বলা হয়েছে,‘ইফতারের তিন থেকে চার ঘন্টা আগে কোন খেলা অনুষ্ঠিত হবেনা।’যাতে করে ইফতার করার পর রোজাদার খেলোয়াড় তার শরীরের জন্য পর্যাপ্ত উপাদান গ্রহন করতে পারেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএস

সর্বাধিক পঠিত