রফতানি আয়ে ইতিবাচক ধারা
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=197908 LIMIT 1

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ৮ ১৪২৭,   ০৫ সফর ১৪৪২

রফতানি আয়ে ইতিবাচক ধারা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:০৯ ৪ আগস্ট ২০২০  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

করোনার কারণে ধাক্কা লেগেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। গত এপ্রিলে সুবিধাজনক অবস্থায় ছিলো না বাংলাদেশের রফতানি আয়। মে মাস থেকে উন্নত বিশ্বের দেশগুলো লকডাউন শিথিল করে। পাশাপাশি বিধিনিষেধ শিথিলে কারখানা খোলার পর রফতানি আয় বেড়েছে। এর ধারাবাহিকতায় জুনেও বেড়েছে তার চেয়ে বেশি। নতুন অর্থবছরের (২০২০-২১) প্রথম মাস জুলাইয়ে পণ্য রফতানি করে দেশ যে আয় করেছে, তা গত অর্থবছরের যেকোনো মাসের চেয়ে বেশি। 

মঙ্গলবার রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রফতানি আয়ের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে।

ইপিবির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বিভিন্ন পণ্য রফতানি করে ৩৯১ কোটি (৩.৯১ বিলিয়ন) ডলার আয় হয়েছে। এই অংক গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। জুলাই মাসে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ৩৪৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এরমধ্য দিয়ে সাত মাস পর রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ফিরেছে।

জানা গেছে, সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে রফতানি আয়ে ২ দশমিক ৮৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিলো। এরপর ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধি কম ছিলো।

চলতি বছরের এপ্রিলের চেয়ে গত বছরের এপ্রিলের রফতানি আয় কমেছিলো ৮৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। বিধিনিষেধ শিথিল করে কলকারখানা চালুর পর মে মাসে রফতানি আয় বেড়ে ১৪৬ কোটি ৫৩ লাখ ডলারে দাঁড়ায়; তবে প্রবৃদ্ধি কমেছিলো ৬১ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রফতানি আয় বেড়ে ২৭১ কোটি ৪৯ লাখ ডলারে উঠলেও প্রবৃদ্ধি কমেছিলো ২ দশমিক ৫ শতাংশ। 

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত অর্থবছরের যেকোনো মাসের চেয়ে নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পণ্য রফতানি থেকে বেশি আয় করেছে বাংলাদেশ।

মার্চে পণ্য রফতানি থেকে ২৭৩ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় করেছিলো বাংলাদেশ; যদিও প্রবৃদ্ধি কমেছিলো ১৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। ফেব্রুয়ারি মাসে আয় হয়েছিলো ৩৩২ কোটি ২৩ লাখ ডলার; প্রবৃদ্ধি কমেছিলো ১ দশমিক ৮ শতাংশ। জানুয়ারিতে আয় হয় ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ডলার; প্রবৃদ্ধি কম ছিলো ১ দশমিক ৭ শতাংশ।

ইপিবির দেয়া তথ্যে দেখা যায়, জুলাই মাসে রফতানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প থেকে ৩২৪ কোটি ৪৯ লাখ ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ মোট রফতানি আয়ের ৮৩ শতাংশই এসেছে পোশাক খাত থেকে।  জুলাই মাসে তৈরি পোশাক রফতানি গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ কম হলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ১৪ দশমিক ১৮ শতাংশ।

চীনে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হলে তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামাল আনা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বাংলাদেশের পোশাক খাতে ফেব্রুয়ারি থেকেই প্রভাব পড়তে শুরু করেছিলো। পাশাপাশি ক্রয়াদেশ বাতিলের হিড়িক পড়ে। এপ্রিল মাসে এসে রফতানির অংকে ধ্বস স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

তবে,পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি বেড়েছে ৩৮ শতাংশ। করোনাভাইরাস সংকটেও পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানিতে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। জুলাই মাসে ১০ কোটি ৩৫ লাখ ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ, যা গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে ৩৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেশি। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ ৮৮ কোটি ২৩ লাখ ডলার আয় করেছে। ওষুধ রফতানি বেড়েছে সাড়ে ৪৯ শতাংশ। হিমায়িত মাছ রফতানি বেড়েছে ২ দশমিক ২ শতাংশ। কৃষি পণ্য রফতানি বেড়েছে ৩১ শতাংশ। হ্যান্ডিক্রাফট রফতানি বেড়েছে ৫৭ দশমিক ২২ শতাংশ। তবে চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্য রফতানি কমেছে ১৫ দশমিক ২৩ শতাংশ। স্পেশালাইজড টেক্সটাইল রফতানি কমেছে ২৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএস/এমআরকে