রক্তের ফেরিওয়ালা ‘কণিকা’ ৮ম বছরে

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২০ ১৪২৬,   ০৯ শা'বান ১৪৪১

Akash

রক্তের ফেরিওয়ালা ‘কণিকা’ ৮ম বছরে

রুমান হাফিজ, চবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৪৪ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

সকাল ৯ টা। ভাষা দিবস উদযাপনে মুখর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। ফুল, ব্যানার-ফেস্টুন আর পরনে কারো আবার লাল রঙের বাহারি কাপড়। শহীদ মিনারের পাশ ঘেঁষে তৈরি স্টলের দিকে চোখ পড়লো। বিস্তারিত কথা হলো স্টলে বসা কয়েকজনের সঙ্গে। ওপাশ থেকে এগিয়ে এসে কথায় যোগ হলেন আরেকজন। যার নাম মোহাম্মদ সায়েম। কণিকার বর্তমান সভাপতি। 

২১ শে ফেব্রুয়ারিতে রক্তের ফেরিওয়ালা এই সংগঠটির ৮ম বর্ষ পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজন করে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার।

কণিকার যাত্রা যেভাবে

চট্টগ্রামের বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তিন তরুণ— সাইফুল্যাহ মনির, সাঈদ আহমদ নসিফ ও মহসিন রনি ভাবলেন এ অসচেতনতা দূর করতে হবে। ভাবনার বাস্তবায়নে নেমে পড়লেন কাজে। ২০১২ সালে ‘কণিকা ব্লাড ব্যাংক’ নামক একটা ফেসবুক পেজ থেকে অনলাইনে কাজ শুরু করেন। চেষ্টা করেন মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির। এর একবছর পর কাজ শুরু করেন অফলাইনেও। ২০১৪ সালে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘কণিকা: একটি রক্তদাতা সংগঠন’।  সাধারণত, রক্তদাতা সংগঠনগুলোর প্রধান উদ্দেশ্য থাকে রক্তদাতা খুঁজে দেয়া।

যেখানে ব্যতিক্রম

‘সৃষ্টির জন্য ভালোবাসা’ স্লোগানকে ধারন করে কাজ করছে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে। তাদের প্রধান উদ্দেশ্য রক্তদান সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা। কণিকা একটি রক্তদাতা সংগঠন হলেও ভিন্নতা রয়েছে তাদের। গরীব, অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান, শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ, বন্যার্তদের জন্য সাহায্য এছাড়া আরো অনেক সামাজিক কাজ করে থাকে কণিকা।

কথা হয় কণিকার সদস্য সুমাইয়া বিনতে কামরুলের সঙ্গে। যেমনটা বলছিলেন তিনি, মানবতার সেবা করার জন্য বিভিন্ন সংগঠনে নিজেকে যুক্ত করি। রক্তদাতা সংগঠন কণিকা এর সাথে পরিচয়। ভাবলাম এখানে শুধু রক্ত রিলেটেড সব। রক্ত আগে দেই নাই কখনো। ভাবলাম এই সংগঠন এ যুক্ত হই। পরে কণিকা সম্পর্কে বিস্তারিত যখন জানলাম আমার ধারণা বদলে যায়। রক্ত দেয়া নেওয়া সম্পর্কে মানুষ এখনও অনেকেই বুঝে না, মানুষের মাঝে রক্ত আদান-প্রদান, থ্যালেসেমিয়া সনাক্তকরণ ইত্যাদি সচেতনতার জন্য কণিকার মেম্বারগণ কাজ করে যাচ্ছে। সবার আন্তরিক সহযোগিতায় কণিকা মানবতার সেবার জন্য সামনে আরো এগিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

কেমন লাগছে জানতে চাইলে কণিকার স্টলে বসা এসএম কাফিল বলেন, আজকে এটি সপ্তম বর্ষ পেরিয়ে অষ্টম বর্ষে পদার্পণ করেছে এ জন্য আসলেই অনেক আনন্দিত বোধ করছি। বাংলাদেশে এখনো রক্তের অভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে। কিন্তু রক্ত দিতে মানুষকে সচেতন করলে এবং সবাই এগিয়ে এলে এই সমস্যা দ্রুততম সময়ে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। 

কণিকার বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ সায়েম বলেন, রক্ত চেয়ে আমাদের কাছে কেউ বিফল হয়েছেন এমন নজির নেই। এই ধারা অব্যাহত রাখতে আমরা সদা প্রস্তুত। কণিকার মাধ্যমেই বাংলার প্রত্যকটা অঞ্চলের মানুষের মধ্য রক্তদান সম্পর্কে যে একটা ভীতি এবং সৃষ্টির সেবায় যে অনিহা সেটা দূর করতে চাই।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম