রংপুরের ছয় আসনই মহাজোটের

ঢাকা, রোববার   ১৬ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৩ ১৪২৬,   ১২ শাওয়াল ১৪৪০

রংপুরের ছয় আসনই মহাজোটের

সোহেল রাহমান ও সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পী, রংপুর

 প্রকাশিত: ২০:০৫ ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ২০:০৫ ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরের ৬টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩টি ও জাতীয় পার্টি ১টি জয়লাভের সম্ভবনা রয়েছে। অপর দুইটি আসনের একটি স্বতন্ত্র এবং অপরটিতে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

এগুলো হলো- রংপুর-১ গংগাচড়া জাতীয় পাটি, রংপুর-২ (তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ) আওয়ামী লীগ, রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আওয়ামী লীগ, রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আওয়ামী লীগ, রংপুর-৩ (সদর ও সিটি কর্পোরেশন) জাতীয় পার্টি। এদিকে রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আওয়ামী লীগের এইচ এন আশিকুর রহমান ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী জামায়াত নেতা গোলাম রাব্বানীর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা। তবে বর্তমান সরকারের ব্যাপক উন্নয়নের কারণে এ দু’টিতেও নৌকার বিজয় আসতে পারে।

রংপুর-১ (গংগাচড়া ও রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ৮টি ওয়ার্ড) এই আসনে মহাজোটের প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচীব ও বর্তমান এমপি মশিউর রহমান রাঙ্গা। তিনি এলাকাবাসীর কাছে বহিরাগত প্রার্থী হিসেবে পরিচিত হলেও। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গংগাচড়া উপজেলার চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুজ্জামান বাবলু। তবে ৯১ সালের পর থেকেই জাতীয় পার্টির দখলে এই আসনটি।

রংপুর-২ (তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ) এখানকার বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের আহসানুল হক ডিউক চৌধুরী, জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও এমপির আপন চাচা সাবলু চৌধুরী ও ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী বিএনপির নেতা মোহাম্মদ আলী সরকার নির্বাচন করছেন।

ডিউক চৌধুরী এমপি হওয়ার পর এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। সব দল ও শ্রেণির ভোটারের কাছেও তিনি জনপ্রিয়। তাই তিনি এবারো জয়ী হবেন।

এই আসনে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবেন তার চাচা জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবলু চৌধুরী।

রংপুর-৩ (সদর ও সিটি কর্পোরেশন) এই আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন। ৯১ সালের পর থেকে তিনি এই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে আসছেন। এরশাদের সঙ্গে কারো প্রতিদ্বন্দ্বিতা না হলেও দ্বিতীয় অবস্থানে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী রিটা রহমান অথবা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আমিরুল ইসলাম পিয়াল।

রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা)  এই আসনে আওয়ামী লীগ ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী টিপু মুন্সির জয়লাভ করবেন। ভোটারদের কাছে তিনি সৎ মানুষ হিসেবে পরিচিত। ৯১ সাল থেকে জাতীয় পার্টি এই আসন ধরে রাখলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী টিপু মুন্সি ২০০৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী করিম উদ্দিন ভরসাকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন।

১৪ সালের নির্বাচনেও তিনি জয়লাভ করেন। মূলত তিনি এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। এছাড়াও তার যেসব পোষাক শিল্প প্রতিষ্ঠান আছে তার সিংহভাগ শ্রমিক এই এলাকার মানুষ।

রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) এই উপজেলাটি জামায়াত এলাকা হিসেবে পরিচিত। উপজেলা নির্বাচনের তিনটি পদই জামায়াতের দখলে চলে যায়। জামায়াত নেতা গোলাম রাব্বানী আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাকির হোসেনকে পরজিত করে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এই আসনে এবার প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমান ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী জামায়াত নেতা গোলাম রাব্বানী। ভোটারদের অভিমত এই আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। কে নির্বাচিত হবেন ভোট না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না। জামায়াত থাকায় ভোটাররা সংঘাতেরও আশঙ্কা করছেন।

রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী এবারো এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন রংপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। সাইফুল ইসলাম ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হলেও স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী বিপুল ভোটে জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।

ভোটাররা জানান, মূলত এই আসটি শেখ হাসিনার; তিনি আমাদের পুত্রবধূ। প্রধানমন্ত্রী এই এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। এখানে আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হেসে খেলে এই আসনে জয়লাভ করবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর