যৌন বিকারগ্রস্থ শাসক, ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা এমনকি নিজের বোনকেও ছাড়েননি
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=188294 LIMIT 1

ঢাকা, বুধবার   ১২ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৮ ১৪২৭,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

যৌন বিকারগ্রস্থ শাসক, ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা এমনকি নিজের বোনকেও ছাড়েননি

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৪০ ১৭ জুন ২০২০   আপডেট: ১৪:১২ ১৭ জুন ২০২০

ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

যুগে যুগে অনেক মানুষ তাদের স্বীয় প্রতিভার কারণে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন। তাদের কেউ ভালো কাজে স্মরণীয় আবার কেউ মন্দ কাজে। শাসক হিসেবে অনেক রাজা-বাদশার নাম ইতিহাসে উঠে এসেছে, যাদের নৃশংসতা সব মাত্রাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। 

তাদের বর্বরতায় কখনো প্রাণ হারিয়েছে হাজারো মানুষ, আবার নিজেদের স্বতীত্ত্বতা হারিয়েছেন অনেক মা-বোন। ইতিহাসের তেমনই এক উন্মাদ ও যৌন বিকারগ্রস্থ শাসক ছিলেন ক্যালিগুলা। যে নিজের বোনদের সঙ্গেও ব্যাভিচারে লিপ্ত হন, এমনকি তিনি ছাড়েননি বৃদ্ধাদেরও।

ক্যালিগুলার পরিচয়

ক্যালিগুলা ছিলেন তৃতীয় রোমান সম্রাট। তিনি ৩৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৪১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত রোম শাসন করেছেন। ১২ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ আগস্ট ইতালির তৎকালীন অ্যান্টিনামে গ্রহণ করেন। অ্যান্টিনাম বর্তমানে অ্যানজিও নামে পরিচিত। বিখ্যাত রোমান সেনাপতি জার্মানিকাস ছিলেন ক্যালিগুলার পিতা। রোমান রাজকুমারী আগরিপপিনা দ্য এলডার ছিলেন ক্যালিগুলার মা। 

ক্যালিগুলারোমের প্রথম সম্রাট আগাস্টাসের নাতনী ছিলেন আগারিপপিনা। রোমের প্রথম এই রাজ পরিবার জুলিও-ক্লাউডিয়ান রাজবংশ নামে পরিচিত। ক্যালিগুলার চাচা এবং দত্তক পিতা ছিলেন টাইবেরিয়াস। আগাস্টাসের পর ১৪ খ্রিষ্টাব্দে টাইবেরিয়াস রোমান সম্রাট হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। 

ক্যালিগুলার বেড়ে ওঠা

ক্যালিগুলার আসল নাম ছিল গাইয়াস জুলিয়ায় সিজার আগাস্টাস জার্মানিকাস। তৎকালীন জার্মানিয়াতে অভিযান পরিচালনার সময় শিশু গাইয়াস তার পিতার সঙ্গে ছিলেন। রোমান সৈন্যরা সে সময় অন্যান্য সামরিক পোশাকের সঙ্গে ক্যালিগা নামের এক ধরণের জুতা পরত। শিশু গাইয়াস সেনাপতি পিতা জার্মানিকাসের নিকট সামরিক পোশাক পরার আবদার করেন। জার্মানিকাস ছেলের আবদার রক্ষা করেন। গাইয়াসের শরীরে সামরিক পোশাকের সঙ্গে পায়ে সৈন্যদের একটি ছোট ক্যালিগা পরিয়ে দেয়া হয়। 

ক্যালিগা পরে শিশু গাইয়াস সৈন্য বহরে ছুটোছুটি করে বেড়াতেন। সৈন্যরা তাকে আদর করে ক্যালিগুলা বলতে থাকেন। রোমান ভাষায় যার অর্থ ছোট সৈন্যদের জুতা। ধীরে ধীরে সবাই তাকে ক্যালিগুলা নামে ডাকতে থাকে। গাইয়াস জুলিয়াস সিজার আগাস্টাস জার্মানিকাস এভাবেই ক্যালিগুলা নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। 

টাইবেরিয়াসের মৃত্যুর পর ৩৭ খ্রিষ্টাব্দে ক্যালিগুলা রোমান সম্রাট হন। তবে ক্যালিগুলার বড় হয়ে ওঠা কিংবা সম্রাট হওয়ার পথ মোটেও স্বাভাবিক ও মসৃণ ছিল না। অগাস্টাস সিজারের মৃত্যুর পর ১৪ খ্রিষ্টাব্দে টাইবেরিয়াস রোমান হন। তিনি ছিলেন অগাস্টাসের সৎ পুত্র কিন্তু একমাত্র জীবিত উত্তরাধিকারী। শাসন ভার গ্রহণের পরই তিনি জনপ্রিয় সেনাপতি এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী জার্মানিকাসকে পূর্ব প্রদেশের শাসন ভার দিয়ে রোম থেকে দূরে পাঠিয়ে দেন। 

 ম্যালকম ম্যাকডয়েল অভিনীত ‘ক্যালিগুলা’ সিনেমার দৃশ্যতার উদ্দেশ্য ছিল জার্মানিকাসকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে দূরে রাখা। পুত্র ক্যালিগুলাসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে জার্মানিকাস পূর্ব প্রদেশে গিয়েছিলেন। তবে এর কয়েক বছর পর তিনি অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। অনেকেই ধারণা করেন, টাইবেরিয়াস গুপ্ত ঘাতক পাঠিয়ে বিষ প্রয়োগে জার্মানিকাসকে হত্যা করেছিলেন। পিতার মৃত্যুর পর মা আগারিপপিয়ানা এবং অন্যান্য ভাই বোনের সঙ্গে রোমে ফিরে আসেন ক্যালিগুলা। 

টাইবেরিয়াস সন্দেহ করেছিলেন আগারিপপিনা স্বামীর হত্যার জন্য তাকে দায়ী করেন এবং প্রতিশোধ নেয়ার চেষ্টা করতে পারেন। এজন্য তাকে একটি দ্বীপে নির্বাসনে পাঠানো হয়। সেখানেই আগারিপপিনার মৃত্যু হয়। তাকেও বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছিল বলে জানা যায়। ক্যালিগুলার বড় দুই ভাইকে টাইবেরিয়াস আটক করে পরে হত্যা করে। ক্যালিগুলাকেও বন্দি করে হয়েছিল তবে সম্রাট টাইবেরিয়াস তাকে নিজের দত্তক পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেন এবং উত্তরাধিকারী হিসেবে ঘোষণা করেন। 

রোমান সম্রাট হিসেবে ক্যালিগুলা

ক্যালিগুলাকে বন্দি করার ছয় বছরের মাথায় সম্রাট টাইবেরিয়াস মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদিকে রোমের অবস্থাও তেমন ভালো ছিল না। তার মৃত্যুর মাধ্যমে সবাই এই অভিশাপ থেকে মুক্তি চায়। জনতার এই প্রার্থনা কবুল হলো। ৩৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করলেন টাইবেরিয়াস। সম্রাটের মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হিসেবে রোমের সম্রাট হলেন গাইয়াস ক্যালিগুলা সিজার। 

এই মৃত্যু নিয়েও নানা গুজব রটিত হয়েছিলো। অনেকের মতে, ক্যালিগুলা তার বিশ্বস্ত কমান্ডার মার্কোর সাহায্যে টাইবেরিয়াসকে হত্যা করে নিজের শাসনকালের সূচনা করেন। এই ঘটনা কতটুকু সত্য, তা নিয়ে তর্ক করা যায়। ক্যালিগুলা নিয়ে নির্মিত সিনেমা ও নাটকগুলোতে অবশ্য এই ঘটনাকে সত্য ধরে বেশ ফলাও করে চিত্রায়ন করা হয়েছে।

একপ্রকার পাগলামির মাধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেন ক্যালিগুলা। শাসনকালের প্রথমদিকে তিনি জনতার সমর্থন জিতে নেন। জরুরি ফরমান জারি করে সব নাগরিককে টাইবেরিয়াসের কারা থেকে মুক্তি দান করেন। আগের সম্রাটের জারি করা অতিরিক্ত করও মওকুফ করে দেন। তার এই ঘোষণায় রোম উল্লাসে ফেটে পড়ে। চারদিকে ধ্বনিত হতে থাকে, জয় সম্রাটের জয়! ক্ষমতা গ্রহণের ছয় মাসের মাথায় হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। 

ঠিক যেমন টাইবেরিয়াস মরার আগে অসুস্থ হয়েছিলেন। সবাই ভাবলো এ যাত্রায় বুঝি আর রক্ষা নেই। তারা সম্রাটের উত্তরসূরি গেমেলাসকে মানসিকভাবে সম্রাট হওয়ার জন্য প্রস্তুত করতে লাগলেন। তবে এক মাস পর ক্যালিগুলা সুস্থ হয়ে উঠলেন। যেন তার পুনর্জন্ম ঘটলো। অবশ্য এই পুনর্জন্ম শুভ হলো না তার জন্য। তিনি যেন এক ভিন্ন ক্যালিগুলায় রূপান্তরিত হলেন। টাইবেরিয়াসের সেই বন্দি রাজকুমার ক্যালিগুলার মতো কিছুটা বিভ্রান্ত থাকতেন তিনি।

উন্মাদ শাসকতিনি উপদেষ্টা হিসেবে তার চাচা ক্লডিয়াসকে নিযুক্ত করেন। এই ক্লডিয়াস একদিন দেখেন, নিজের কক্ষে নারীর ভূষণে নাচছেন সম্রাট। ভয়ার্ত চোখে ক্লডিয়াস এই দৃশ্য অবলোকন করলেন। তার মনে হয় এ ক্যালিগুলা নন, এক উন্মাদ। এর কয়েকদিন পর ক্যালিগুলা সম্রাট নতুন ফরমান জারি করে তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী সবার মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। 

তিনি তাদের পিতামাতার চোখের সামনে মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করার হুকুম দেন। জল্লাদখানা অসহায় পিতামাতার কান্নায় ভারী হয়ে উঠলো। রোমের সেই ভারী বাতাসকে আরো ভারী করতে ক্যালিগুলা ঘোষণা করলেন, তিনি এখন আর মানুষ নন, একজন দেবতা! এখন থেকে রোমে তার পূজাও করতে হবে। এই উন্মাদনাকে বধ করতে তাকে বিয়ে দেয়া হলো। তবে তার সন্তান জন্ম নেয়ার পরেও তার পাগলামি একটুও কমলো না, বরং বেড়ে গেলো কয়েকগুণ।

অত্যাচারী ও বর্বর ক্যালিগুলা

অত্যাচারী, বিকারগ্রস্ত যৌন লালসায় পূর্ণ এক নিষ্ঠুর ক্যালিগুলার রূপ দেখতে থাকে সবাই। কিশোর বয়স থেকেই ক্যালিগুলা যৌন বিকারগ্রস্ত ছিলেন। ইতিহাসবিদদের ধারণা, তিনি নিজের বোন দ্রুসিলার এবং লিভিলার সঙ্গে ব্যাভিচারে লিপ্ত হতেন। সম্রাট হওয়ার পর ক্যালিগুলাসের যৌন বিকারগ্রস্ত রূপ আরো ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তিনি অভিজাত শ্রেণির ব্যক্তিদের স্ত্রী-কন্যাদের সঙ্গে তাদের স্বামীর সম্মুখেই যৌনতায় লিপ্ত হতেন।  

ক্যালিগুলার অমিতব্যয়ী খরচের জন্য রাজকোষ খালি হয়ে যায়। তিনি অর্থ আয়ের জন্য প্রাসদের মধ্যেই রাজকীয় পতিতালয় খুলেছিলেন বলে জানা যায়। সেখানে রাজ্যের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের স্ত্রী-কন্যাদের পতিতাবৃত্তি করতে বাধ্য করা হত। কিশোরী থেকে বৃদ্ধা সবাই এখানে পতিতাবৃত্তি করতে বাধ্য হতেন। এমনকি নিজের বোনদের অন্যের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের জন্য বাধ্য করতেন ক্যালিগুলা। 

অনেক নারী সম্মান বাঁচাতে তখন আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এখানেও লাভ হলো সম্রাটের। তিনি আত্মহত্যার অপরাধে সেই পরিবারের পুরো সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে দেন। শূন্য রাজকোষাগার আবার অর্থের ঝনঝনানিতে পরিপূর্ণ হয়ে উঠলো।

তার যৌন লালাসা থকে বৃদ্ধারাও রক্ষা পেতেন না। এমনকি যৌনতায় লিপ্ত হওয়ার পর অনেক নারীকে হত্যাও করেছেন তিনি। অনেক ইতিহাসবিদ ক্যালিগুলাকে উন্মাদ কিংবা বিকারগ্রস্ত শাসক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ক্যালিগুলা সম্রাট হওয়ার পরেই ক্ষমতা নিজের হাতে কুক্ষিগত করতে চেয়েছিলেন। আর রাজসভার ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদেরও তিনি বিশ্বাস করতেন না।

নিজেকে দেবতা ভাবতেন ক্যালিগুলাভাবছেন কি? নির্দয় ক্যালিগুলার অন্তরে কোনো মায়া দয়া ছিল না! এই উন্মাদ শাসক তার সব মায়া মমতা উৎসর্গ করেছিলেন ঘোড়া ইনসিটাটাসের প্রতি। কথিত আছে, এই ঘোড়াকে তিনি এতটাই ভালোবাসতেন যে, একবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন একে রোমের সিনেটরের মর্যাদায় উত্তীর্ণ করবেন। তবে এই কথার ঐতিহাসিক ভিত্তি কিছুটা দুর্বল হওয়ায় অনেকেই ভুয়া আখ্যায়িত করেছেন।

ক্যালিগুলা এতোটাই উন্মাদ ছিলেন যে, তুচ্ছ ঘটনাও রাজ্যের যে কোনো ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করতেন। রাজসভা, সেনা বাহিনী রাজ পরিবারের কেউই রক্ষা পেত না তার হাত থেকে। তার জন্মদিনের তারিখ ভুলে যাওয়ায় একবার তিনি দুইজন উপদেষ্টাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছিলেন। তার অত্যাচারের মাত্রা এতোটাই বেড়ে গিয়েছিলে যে, মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ব্যক্তিদের পিতা মাতাদেরও হত্যা করা হত। 

ক্যালিগুলা নিজেকে দেবতা হিসেবেও দাবি করেছিলেন। তার সম্মানে বিভিন্ন স্থানে মন্দির নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। যেখানে তার উপাসনা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। ক্যালিগুলার অত্যাচার, বিকারগ্রস্ত যৌন লালসা, উন্মত্ততায় রাজ্যের সর্বমহলের জনগণ ক্ষেপে উঠেছিলেন। 

উন্মাদ শাসকের পতন

তার শাসনামল ছিল মাত্র চার বছর। রোমবাসী তার অত্যাচারে অসহ্য হয়ে উঠেছিল। ক্যালিগুলার অত্যাচারে সহ্যের বাঁধ ভেঙে গেলো কতিপয় সিনেটর এবং সেনা কর্মকর্তার। এরই মধ্যে অনেকেই তার পরিবার-পরিজনকে সম্রাটের দণ্ডাদেশে হারিয়েছেন। অনেকের কন্যা, স্ত্রী সম্রাটের পতিতালয়ের শিকার হয়ে আত্মহত্যায় জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। 

‘ক্যালিগুলা’ সিনেমার দৃশ্যক্যাসিয়াস শেরিয়া নামক এক প্রিটোরিয়ান রক্ষীর নেতৃত্বে গোপনে তারা একত্র হয়ে ক্যালিগুলাকে হত্যা করার পরিকল্পনা কষতে থাকেন। এদিকে ক্যালিগুলা ঘোষণা করলেন, তিনি রোম ত্যাগ করে মিশরে চলে যাবেন। সেখান থেকে তিনি তার নতুন রাজত্ব শুরু করবেন। এই পুরাতন রোম ধ্বংস করে তিনি মিশরে গড়ে তুলবেন দেবতা ক্যালিগুলার আশীর্বাদপুষ্ট রোম। ক্যালিগুলার এই ঘোষণায় হত্যা পরিকল্পনাকারী যত দ্রুত সম্ভব তাকে হত্যা করার ছক কষলেন। তাই তারা পরদিনই খেলার ময়দানে ক্যালিগুলাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করলেন।

ক্যালেন্ডারের পাতায় ৪১ খ্রিস্টাব্দের ২৪ জানুয়ারি একটি খেলার অনুষ্ঠানে একজন দেহরক্ষী প্রথম ক্যালিগুলাকে ছুরিকাঘাত করে বসে। এরপর মুহূর্তের মধ্যে কয়েকজন প্রিটোরিয়ান রক্ষী ক্যালিগুলাকে ঘিরে ছুরিকাঘাত করতে থাকে। ইতিহাসবিদদের মতে, মোট ৩০ বার তাকে ছুরিকাঘাত করার মাধ্যমে হত্যা করা হয়। ক্যালিগুলার নাম এবং বংশ চিরতরে রোমের মাটি থেকে মিশিয়ে দিতে তার স্ত্রী এবং সন্তানদেরও হত্যা করা হয়। 

সম্রাট ক্যালিগুলার মৃত্যুর পর তার চাচা ক্লডিয়াসকে রোমের সম্রাটের আসনে বসানো হয়। এভাবেই এক অত্যাচারীর বিদায় ঘটে। রোমের ইতিহাসের এক ভয়ঙ্কর কালো অধ্যায়ের অবসান ঘটে। ক্যালিগুলার মৃত্যুর পর নতুন রোমান সম্রাট ক্লডিয়াস তার হত্যাকারী ক্যাসিয়াস শেরিয়াকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। এরপর এক কালের বোকা ক্লডিয়াস শক্ত হাতে রোমের গৌরব ফিরিয়ে আনেন।

ক্যালিগুলার জীবনী নিয়ে ইতিহাসে রয়েছে অনেক নাটক, সিনেমা, বই, উপন্যাস, সিরিজ ইত্যাদি। তার ভয়াবহতা ইতিহাস কোনোদিন ভুলবে না। ম্যালকম ম্যাকডয়েল অভিনীত ‘ক্যালিগুলা’ সিনেমা নির্মিত হয়েছিলো ১৯৭৯ সালে। বিশ্ববিখ্যাত ‘আই, ক্লডিয়াস’ নামক টিভি সিরিজে ক্যালিগুলার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নাট্যায়িত করেছেন বিখ্যাত অভিনেতা জন হার্ট।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস