Alexa যৌতুক না পেয়ে নববধূকে আটকে পেটাল স্বামী

ঢাকা, সোমবার   ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯,   পৌষ ১ ১৪২৬,   ১৮ রবিউস সানি ১৪৪১

যৌতুক না পেয়ে নববধূকে আটকে পেটাল স্বামী

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:২৯ ২৯ নভেম্বর ২০১৯  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

তিন লাখ টাকা যৌতুক না পেয়ে মিতু আক্তার নামে এক নববধূকে আটকে নির্দয়ভাবে পিটিয়েছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

নির্মম এ নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটেছে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায়। বৃহস্পতিবার বিকেলে আহত নববধূকে ইউনিয়নর পরিষদ থেকে উদ্ধার করে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন স্বজনরা। 

মঠবাড়িয়া উপজেলার সবুজনগর গ্রামের আলী হোসেনের মেয়ে গৃহবধূ মিতু আক্তার দুইদিন ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ।

মিতুর মা পাখি বেগম অভিযোগ করেন, ছয় মাস আগে পারিবারিক সম্মতিতে পার্শ্ববর্তী বামনা উপজেলার রামনা ইউপির কড়ইতলা গ্রামের সৌদি প্রবাসি মো. জাহাঙ্গীর আকনের ছেলে মো. জাহিদ আকনের সঙ্গে মিতুর আনুষ্ঠানিক বিয়ে হয়। বিয়ের সময় বরপক্ষের সব দাবি দাওয়া পূরণ করে কনে পক্ষ। বিয়ের সময় স্বামী জাহিদ ঢাকায় চাকরি করেন এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে এ বিয়ে করে। বিয়ের পর বেকার জাহিদ নানাভাবে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। স্বামী জাহিদের বাবা সৌদি প্রবাসি। ১৫দিন আগে সে বাড়িতে আসলে মিতুর পরিবারকে দাওয়াত দিয়ে তাদের বাড়িতে নেন। এরপর দুই পরিবারের বৈঠকে মিতুর স্বামীকে বিদেশ পাঠানোর কথা ওঠে। সেখানে বিদেশ যাওয়ার জন্য তিন লাখ টাকা দাবি করেন স্বামী জাহিদের পরিবার। মিতুর পরিবার এ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর থেকেই স্বামী ও পরিরারের লোকজন গৃহবধূ মিতুর ওপর নির্দয় আচরণ শুরু করে। গত মঙ্গলবার রাতে জাহিদ তার স্ত্রীকে রশি দিয়ে বেঁধে নির্দয়ভাবে পেটায়। সাতদিনের মধ্যে টাকা না দিলে জানে মেরে ফেলবে এমন হুমকি দেয়। এ নির্যাতনে মিতুর শাশুড়ি কনক বেগম ও ননদ শেফালি আক্তারও অংশ নেয়। মিতু গুরুতর আহত হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি না করে তার পরিবারের কাছে সালিশের কথা বলে বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়ন পরিষদে আসতে খবর দেন। মিতুর পরিবারের স্বজনরা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে মিতুকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখেন।

এ সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিতুকে তার পরিবারের কাছে তুলে দিয়ে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। পরে মিতুকে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। 

মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সোনিয়া আক্তার বলেন, মিতুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটুনির দাগ রয়েছে। তাকে মারধর করা হয়েছে। চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে । সে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ। সুস্থ হতে কয়েকদিন সময় লাগবে।

আহত মিতুর ভাই মনির হোসেন জানান, বোনের এমন নির্যাতনে তারা ভীষণ কষ্টে আছেন। এ ঘটনায় মামলা করা হবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ